উত্তপ্ত পরিস্থিতি পদ্মা পারে। বাংলাদেশের রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে চর্চা শেখ হাসিনার দেশে ফেরার পরিকল্পনা নিয়ে। কিন্তু কিভাবে দেশে ফিরছেন শেখ হাসিনা? কবে ফিরছেন তিনি? ভারতের সমর্থনে নতুন কোন সিদ্ধান্ত কি নিতে চলেছে আওয়ামী লীগ?
বর্তমান সময়ে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশের সেনাপ্রধান অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মোঃ ইউনুসকে যেমন হুশিয়ার দিয়েছেন তেমনি বাংলাদেশের নাগরিকের উদ্দেশ্যে সতর্ক বার্তা দিয়েছেন তিনি। অনুষ্ঠানের মঞ্চে দাঁড়িয়ে সেনাপ্রধান ওয়াকার উজ জামান বলেন, “আমি আপনাদের সতর্ক করে দিচ্ছি, পরে বলবেন না যে আমি সতর্ক করিনি। আপনারা যদি নিজেদের মধ্যে ভেদাভেদ ভুলে একসাথে কাজ না করতে পারেন, নিজেরা যদি কাদা ছোড়াছুড়ি করেন, মারামারি কাটাকাটি করেন, এই দেশ এবং জাতির স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব বিপন্ন হবে। আমি আজকে বলে দিলাম, নইলে আপনারা বলবেন যে, আমি আপনাদের সতর্ক করিনি।” বাংলাদেশ সেনাপ্রধানের এই মন্তব্য নিয়ে ইতিমধ্যেই শোরগোল শুরু হয়েছে বাংলাদেশে।
বাংলাদেশে প্রতিনিয়ত অরাজকতার পরিবেশ তৈরি হচ্ছে। শেখ হাসিনার পতনের জন্য যে সকল কট্টরপন্থী সংগঠন একজোট হয়ে হাসিনা সরকার কে উচ্ছেদ করেছিল দেশ থেকে তারাই এখন শক্তি দখলের জন্য উদ্যত। এবং এই প্রসঙ্গে সেনাপ্রধান জানিয়েছেন যে বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি ধীরে ধীরে বিশৃঙ্খলা তার দিকে যেভাবে এগোচ্ছে তাতে আরো একবার সরকার পতন হতে পারে।
অন্যদিকে দেখা যাচ্ছে, এখন সেনার বিরুদ্ধে ও সুর চড়াচ্ছে ছাত্রনেতারা। সে দেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মোহাম্মদ ইউনুস বেশ কয়েক মাস ধরে নির্বাচনের কথা বলছেন কিন্তু তিনি নির্বাচন করাতে ব্যর্থ হচ্ছেন। এই প্রেক্ষিতেই সেনাপ্রধান ওয়াকার উজ জ্জামান মনে করেন, বাংলাদেশের সরকার মোঃ ইউস চালাচ্ছেন না বরং অন্য দেশ সে দেশের সরকারের কার্যকলাপে হস্তক্ষেপ করে দেশ পরিচালনা করার চেষ্টা করছে।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ওলট পালট করার পিছনে আমেরিকা এবং পাকিস্তানের আইএসআইয়ের একটি বড় হাত রয়েছে। যখন শেখ হাসিনা গতিচ্যুত হয়ে বাংলাদেশ ছেড়ে ভারতে আসেন, সেই সময় থেকেই পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই বাংলাদেশে তাদের পরিকল্পনা সাজাতে শুরু করলো। আর বাংলাদেশের অন্তরবর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মোহাম্মদ ইউনুস তার প্রতিটি কর্মকাণ্ড বক্তব্যের মাঝে পাকিস্তান প্রীতি তুলে ধরছেন। ৫ ই আগস্ট বাংলাদেশে অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব পাওয়ার পরেই মোহাম্মদ ইউনুস বহুবার বৈঠক করেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে।
বাংলাদেশ ভারতের প্রতিবেশী রাষ্ট্র। আর সেই প্রতিবেশী রাষ্ট্রের এবং সেই সরকারের ওপর পাকিস্তানের আইএসআইয়ের প্রভাব ভারতের জন্য চিন্তার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
৫ই আগস্ট কোন অভ্যুত্থানের জেরে গদিচ্যুত হওয়া শেখ হাসিনা দেশ ছাড়ার পর, অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব দেওয়া হয় মোহাম্মদ ইউনুসের হাতে এবং নির্বাচন করানোর দায়িত্ব থাকে তার ওপর। আর তখন তিনি ১৮ মাসের মধ্যে নির্বাচন করানোর কথা বলেছিলেন। কিন্তু সাত মাস কেটে যাওয়ার পর মোহাম্মদ ইউনূসের কার্যকলাপের অগ্রগতি দেখে মনে হচ্ছে হয় তিনি নির্বাচন করাতে চান না আর তা না হলে অন্য কোন দেশের অভ্যন্তরীণ চাপে পড়ে তিনি নির্বাচন করাতে পারছেন না












Discussion about this post