বাংলাদেশে নাকি কোনও অশান্তি নেই, অরাজকতা নেই, কোনও হিংসা নেই, প্রতিহিংসা নেই। এমনকি বাংলাদেশের সংখ্যালঘুরা সবচেয়ে নিরাপদ। যা বলা হচ্ছে, অভিযোগ আসছে সবটাই নাকি গুজব ও মিথ্যা রটনা। বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা তথা শান্তির নোবেলজয়ী মুহাম্মদ ইউনূস দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই এই দাবি করে আসছেন। আর তাঁর দাবির সপক্ষে সুর মেলানোর জন্য তিনি বাংলাদেশে ডেকে এনেছিলেন রাষ্ট্রপুঞ্জের মানবাধিকার শাখার প্রতিনিধি দল এবং পরে রাষ্ট্রপুঞ্জের মহাসচিবকে। যা রাষ্ট্রপুঞ্জ দীর্ঘকাল ধরে হয়ে চলা রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ থামাতে পারেনি, ইজরায়েল-হামাস, ইজরায়েল-সিরিয়া যুদ্ধ থামাতে পারেনি, সেই রাষ্ট্রপুঞ্জই বাংলাদেশে এসে বলে গেলেন “সবকুছ ঠিক হ্যায়”। সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয়, মুহাম্মদ ইউনূসের প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী রাষ্ট্রপুঞ্জের মানবাধিকার শাখা এক রিপোর্টও পেশ করে ফেলল, যার প্রতিটি ছত্রে শেখ হাসিনাকে দোষী প্রমান করার ব্যবস্থা রয়েছে। অথচ, হাসিনা পরবর্তী সময়ের কোনও দলিল সেভাবে তুলে ধরা হয়নি। যে দশ দিনের হিসেব-নিকেশ সেই রিপোর্টে ছিল, সেটাও কম ভয়াবহ নয়। কিন্তু মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতারেস সে বিষয়ে আশ্চর্যজনকভাবে নীরব।
২৬ মার্চ বাংলাদেশে স্বাধীনতা দিবস উদযাপিত হল। তাঁর আগের সন্ধ্যায় বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ দিলেন। তাঁর ভাষণে বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের কথা যত না ছিল, তার থেকে চার-পাঁচ গুণ বেশি ছিল জুলাই গণ আন্দোলনের কথা, বাংলাদেশের দ্বিতীয় স্বাধীনতার কথা। নির্বাচন নিয়ে কথা বলতে তিনি যত কম সংখ্যাক সময় ব্যায় করেছেন, ততধিক বেশি সময় ব্যায় করেছিলেন শেখ হাসিনাকে কাঠগড়ায় তুলতে। আর সেই সঙ্গে ঘুরেয়ে ভারত ও ভারতীয় গণমাধ্যমকে কাঠগড়ায় তুলতে। ইউনূসের দাবি, বাংলাদেশ নিয়ে যা খবর ছড়িয়ে পড়ছে তা সবটাই গুজব ও রটনা। আর এই গুজব ছড়াচ্ছে আওয়ামী লীগ এবং ভারতীয় মিডিয়া। যদিও বুদ্ধিমান ইউনূস, কারও নাম উচ্চারণ করেননি, সবটাই আকারে ইঙ্গিতে বলেছেন। তবে তাঁর কথায় কে বা কারা টার্গেট, সেটা বুঝতে কারও সমস্যা হওয়ার কথা নয়। যেমন প্রাক স্বাধীনতা দিবসের ভাষণে ইউনূস আবারও বললেন, আপনারা জানেন, অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই গণমাধ্যম ও সোশ্যাল মিডিয়ায় গুজবের যেন এক মহোৎসব চলছে। দেশকে অস্থিতিশীল করার জন্য একের পর এক মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে দিয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা চলছে। অভিনব সব প্রক্রিয়ায় গুজব ছড়ানো হচ্ছে।
টেলি প্রম্পটারে ফুটে ওঠা লিখিত ভাষণ পড়ছিলেন প্রধান উপদেষ্টা। সেখানে তিনি নাম না করেই সুকৌশলে কাঠগড়ায় তুললেন শেখ হাসিনা এবং আওয়ামী লীগকে। পাশাপাশি কাঠগড়ায় তুললেন ভারতীয় গণমাধ্যমকেও। কারণ, এর আগে বহুবার তাঁর নেতৃত্বাধীন তদারকি সরকারের বেশ কয়েকজন উপদেষ্টা এবং তাঁর ধামাধারী ছাত্র নেতারা বহুবার ভারতীয় মিডিয়াকূলের ওপর এই অভিযোগ জানিয়ে এসেছেন। তবে এতকিছু করেও মুহাম্মদ ইউনূস লুকোতে পারলেন না দেশের প্রকৃত চিত্রটি। দেশ যে অস্থিতিশীল অবস্থায় রয়েছে, দেশে অরাজক পরিস্থিতি রয়েছে সেটা বলেই ফেললেন। তাঁর মুখেই শোনা গেল, দেশ এখন যুদ্ধাবস্থায় আছে।
এখানেই প্রশ্ন উঠছে, দেশে যদি যুদ্ধাবস্থাই থাকে, তাহলে তিনি কেন নিশ্চিন্তে চিনের উদ্দেশ্যে উড়ে গেলেন? তাহলে কি তিনি সেনাপ্রধানের হাতেই দেশকে সঁপে দিয়ে গেলেন? বাংলাদেশের পরিস্থিতি নিয়ে যেখানে সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ জামান তিন দিন ধরে একের পর এক বৈঠক করলেন। দেশের সমস্ত ছোট-মাঝারি-বড় সেনাকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করলেন। সেনাবাহিনীকে ঐক্যবদ্ধ করলেন দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে। দ্রুত নির্বাচনের অনুকূল পরিস্থিতি তৈরি করতে সেনাপ্রধান যখন উদ্যোগী, তখন প্রধান উপদেষ্টা চিন সফর করছেন। যেখানে তিনি আদৌ কোনও সুবিধা আদায় করতে পারবেন, তার নিশ্চিয়তা নেই। তবে কি সেনাপ্রধানকে ফাঁকা মাঠে গোল দেওয়ার জন্য ছেড়ে গেলেন মুহাম্মদ ইউনূস? জেনারেল ওয়াকার উজ জামান কি এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে জঙ্গি-জিহাদিদের হাত থেকে বাংলাদেশকে মুক্ত করতে পারবেন? উত্তর সময়ই দেবে।












Discussion about this post