২০১৬ সালের এসএসসিতে নিয়োগের পুরো প্যানেল বাতিল করল সুপ্রিম কোর্ট। চাকরি হারা হলেন ২৫,৭৫৩ জন শিক্ষক এবং অশিক্ষক কর্মী। হুগলির রিষড়া বিদ্যাপীঠে হিন্দি স্কুলে ১৯ জন শিক্ষকের মধ্যে চাকরি বাতিল হয়েছে ১২ জনের। স্কুল চালাবেন কিভাবে বুঝে উঠতে পারছেন না স্কুলের প্রধান শিক্ষক।
সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সঞ্জীব খান্না এবং বিচারপতি সঞ্জয় কুমারের ডিভিশন বেঞ্চ বহু প্রতিক্ষিত এসএসসি মামলার রায় ঘোষণা করেছেন। ২০১৬ সালের এসএসসি-র শিক্ষক ও অশিক্ষক কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে যে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছিল, সেই মামলার শুনানির শেষে ২০১৬ সালের এসএসসিতে নিয়োগের পুরো প্যানেল বাতিল করল সুপ্রিম কোর্ট। ফলে চাকরি হারা হলেন ২৫,৭৫৩ জন শিক্ষক এবং অশিক্ষক কর্মী। সুপ্রিম কোর্টের রায় ঘোষণায় চাকরি চলে যাওয়ায় অথৈ জলে পড়েছেন কর্মচ্যুত শিক্ষক অশিক্ষক কর্মীরা। আগামীকাল থেকে তারা কি করবেন কিভাবে সংসার প্রতিপালন করবেন ভেবেই উঠতে পারছেন না। একই সাথে যোগ্য অযোগ্য সব শিক্ষক অশিক্ষক কর্মীদের চাকরি বাতিল হওয়ায় কার্যত সামাজিক সম্মান চ্যালেঞ্জের মুখে তারা। হুগলির রিষড়া বিদ্যাপীঠে হিন্দি স্কুলে দু হাজারের মতো ছাত্র-ছাত্রী রয়েছে। সেখানে বিদ্যাপীঠে শিক্ষক সংখ্যা ছিল ১৯ জন, সেই শিক্ষকের মধ্যে চাকরি বাতিল হয়েছে ১২ জনের। এবার স্কুল কিভাবে চালাবেন বুঝে উঠতে পারছেন না স্কুলের প্রধান শিক্ষক।
রিষড়া বিদ্যাপীঠের প্রধান শিক্ষক বলেন, সুপ্রিম কোর্টের রায়ে আশাহত হয়েছেন তারা। দিনটিকে বাংলা শিক্ষার জগতের কালো দিন হিসেবে চিহ্নিত করছেন।
চাকরি হারা এক শিক্ষক বলেন তার এবং তার স্ত্রীর চাকরি গেছে সুপ্রিম কোর্টের রায়ের ফলে। দুজনে সদ্য বিবাহিত মাথার ওপর ব্যাংক লোন রয়েছে, বাড়িতে বয়স্ক বাবা-মা আছেন কিভাবে সংসার প্রতিপালন করবেন কিভাবে আগামী দিন জীবন কাটাবেন ভেবেই উঠতে পারছেন না । তার বক্তব্য দেশের প্রধানমন্ত্রী রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী অথবা রাষ্ট্রপতি সবাই মিলে হস্তক্ষেপ করে যারা যোগ্য প্রার্থী ছিলেন তাদের চাকরি যেন থাকে সেই ব্যবস্থা টুকু তাড়া করে দিন ।
Discussion about this post