কাশ্মীরের ভয়ঙ্কর জঙ্গি হামলার ঘটনার পর তোলপাড় গোটা বিশ্ব। ক্ষোভে ফুঁসছে ভারতবাসী। পাকিস্তানই যে ওই জঙ্গিদের দিনের পর দিন লালন করে এসেছে, সেটা পাক শীর্ষ কর্তাদের নানা মন্তব্যে পরিষ্কার। এদিকে ভারত কড়া পদক্ষেপ করেছে শাহবাজ শরীফের দেশের উপর। সিন্ধু জল বন্টন চুক্তি বাতিল থেকে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। যা এর আগে ভারত কখনও করেনি। তবে ভারত পাকিস্তানের বিরুদ্ধে মূল কোনও পদক্ষেপ করার আগেই তার তিনি বন্ধু, রাশিয়া, আমেরিকা, ফ্রান্স একযোগে যে খেলাটা দেখাচ্ছে, তাতে বলা যেতে পারে পাকিস্তানের কোমর ভেঙে গেল। ভূস্বর্গে ভয়াবহ ঘটনার পর ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেছেন, জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে যে লড়াই হবে, তাতে মাটিতে মিশিয়ে দেওয়া হবে। তবে এখনও পর্যন্ত, ভারত খুব বড় একশন নেয়নি, বলছেন বহু আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা। এদিকে অনেকেই অধৈর্য হয়ে পড়ছেন। কোথায় একশন, প্রশ্ন তুলছেন আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পাকিস্তানকে বিশ্ব দরবারে ভারত কোণঠাসা করার চেষ্টা করছে। তাতে পাকিস্তান নিজেই বলবে, আমরা যুদ্ধ চায় না। কীরকম, চলুন বোঝার চেষ্টা করি।
প্রথমেই ভারত সিন্ধু জল বন্টন চুক্তি বাতিল করেছে। ফলে জল সংকট তৈরি হবে পাকিস্তানে। আর অন্যদিকে ঝিলাম নদীর জল ছেড়ে দিতেই বন্যা তৈরি হয়েছে। এটাতে পাকিস্তানকে বড় শিক্ষা দিয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। অন্যদিকে, চীনকে রাশিয়াকে দিয়ে চাপ দেওয়া হয়েছে। চীন একেবারে বলে দিয়েছে, তাদের সাপ্লাই করা যে অস্ত্র আছে, ভারতের সঙ্গে যদি পাকিস্তানের যুদ্ধের পরিস্থিতি হয়, সেই জায়গায় চীনের কোনও অস্ত্র তারা ব্যবহার করতে পারবে না। ফলে এখানেই পাকিস্তানের শক্তি বিভক্ত হয়ে গেল বলে মনে করা হচ্ছে।
অন্যদিকে, মস্কোতে ২০২৪ সালে একটি ব্লাস্ট হয়। সেখানে ১৫০ জনেরও বেশি রাশিয়ানের মৃত্যু হয়। তাদের এই ঘটনার পর অন্তর্বর্তী তদন্ত চলছিল। শেষমেষ সামনে এল রিপোর্ট। রিপোর্টে উল্লেখ রয়েছে, মস্কোর ব্লাস্টের ঘটনায় পাকিস্তানি জঙ্গি যোগ ছিল। এর জেরে মস্কোর তরফে ইসলামাবাদ এর ওপর চাপ সৃষ্টি করবে, তাতে এই ঘটনায় যারা যারা জড়িত, তাদের যেন রাশিয়ার হাতে তুলে দেওয়া হয়। ফলে রাশিয়া থেকেও চাপ রয়েছে পাকিস্তানের।
এইবার আসি আমেরিকা। ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেশ আগেই জানিয়ে দিয়েছিল, ভারতের সঙ্গে পূর্ণ সমর্থনে রয়েছে তারা। এফবিআই এর ডিরেক্টর ক্যাশ প্যাটেল ঘোষণা করে দিয়েছেন, ভারতের সাহায্য করতে সব দিক থেকে প্রস্তুত। হঠাৎ করে ক্যাশ প্যাটেলকে এই বিবৃতি দেওয়া হল কেন? উঠছে প্রশ্ন। এবং এই বিবৃতি দেওয়ার ফলে কি সমীকরণ পরিবর্তন হল? আসলে পাকিস্তান হুমকি হিসাবে বারবার বলছে, ভারত যদি তাদের দিকে এক ছটাকও এগোয়, তবে আমরা ১৩০ টি পারমাণবিক মিসাইল প্রস্তুত করে রেখেছি। এই মিসাইলগুলির রেঞ্জ আড়াই হাজার কিলোমিটার। ফলে পাকিস্তান বর্ডার থেকে আড়াই হাজার কিলোমিটারার মধ্যে ভারতের যা কিছু আছে , সবকিছু ধ্বংস করে দেবে। কিন্তু পারমাণবিক যুদ্ধর প্রভাব সুদূর প্রসারী। পাকিস্তানের যখন এই বক্তব্য তখন এফবিআই এর ডিরেক্টর এটা বুঝিয়ে দিলেন, যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভারতের পাশে রয়েছে। এমনকি আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, ভারতের রয়ের সঙ্গে এফবিআই একসঙ্গে মিলে কাজ করবে। পাকিস্তান কোন মোডে রয়েছে সেটা খবর পেতে খুব একটা অসুবিধা হবে না ভারতের।
আমেরিকা, রাশিয়ার পর ফ্রান্স। তারাও ভারতের পাশে রয়েছে বলে জানিয়ে দিয়েছে। রফাল নিয়ে ফ্রান্সের সঙ্গে চুক্তি সেরেছে ভারত। পাশাপাশি তারা লজিস্টিক সাপোর্ট দেবে ইসরায়েলের মতোই। ফলে বিশ্বের তাবড় দেশ গুলি শুধু ভারতের পাশে নয়, ভারতকে সামরিক দিক থেকে শক্তি যোগাবে তারা।












Discussion about this post