দিঘায় নবনির্মিত জগন্নাথ মন্দিরের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে সস্ত্রীক দেখা করেছিলেন বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। সেই ছবি প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই দলের অন্দরে ক্ষোভের মুখে বিজেপির রাফ অ্যান্ড টাফ নেতা। দলও এই বিষয়ে তাঁর পাশে দাঁড়ায়নি। তাহলে কি দল ছাড়ছেন তিনি? কৌশলী দিলীপ কিন্তু সেই প্রসঙ্গ এড়িয়ে বঙ্গ বিজেপিকেই কাঠগড়ায় তুললেন।
শুধুই কি রাজনৈতিক সৌজন্য, নাকি এর পিছনে রয়েছে কোনও গভীর সমীকরণ? বিজেপি নেতা তথা প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষের দিঘা সফর ঘিরে এই প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছে সর্বসাধারণের মনে। সর্বসাধারণ বললাম এই কারণে, এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজছেন যেমন বিজেপি নেতা-কর্মীরা, তেমনই উত্তর খুঁজছেন তৃণমূলের একাংশ। কারণ, অনেকেই মনে করছেন বঙ্গ বিজেপিতে কার্যত কোনঠাসা দিলীপ ঘোষ এবার তৃণমূলের দিকে ঝুঁকেছেন। কেউ কেউ আবার আগ বাড়িয়ে ভবিষ্যতবাণী করে বসেছেন অচিরেই দিলীপ দা তৃণমূলে যোগ দেবেন। যদিও নামটা দিলীপ ঘোষ। বিগত ২০-২৫ বছর ধরে বঙ্গ বিজেপিতে তাঁর দাপট খুব একটা কমেনি। তিনি সাদাকে সাদা, কালোকে কালো বলতেই অভ্যস্ত। স্পষ্ট বক্তা দিলীপ ঘোষ এবার রাজ্য সরকারের আমন্ত্রণে দিঘায় নবমির্মিত জগন্নাথধামের উদ্বোধনে সস্ত্রীক উপস্থিত হয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে দেখা করলেন। একটি ভিডিওয় দেখা গেল তিনি রীতিমতো হাসিঠাট্টা করছেন মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে। অথচ কয়েকদিন আগেই তিনি মুখ্যমন্ত্রীর বাপ-বাপান্ত করতে ছাড়তেন না। তাহলে কেন তিনি এই কাণ্ড ঘটিয়ে ফেললেন?
উত্তরটা নিজেই দিলেন দিলীপ দা। তাঁর দাবি, “আমি কেন মন্দিরে এসেছি অনেকের কষ্ট! আমি ছোটবেলা থেকেই মন্দিরে যাই। আমি মন্দিরে এসেছি, কে তৈরি করেছে সেটা বড় নয়। তবে তিনি এখানেই থেমে থাকেননি। স্বভাবসুলভ ভঙ্গিমায় দিলীপ ঘোষের নির্ঘোষ, কালীঘাটের মন্দির বা তারকেশ্বরের মন্দির কে তৈরি করেছিল কেউ মনে রাখেনি। রামমন্দির বা এটাও কেউ মনে রাখবে না। কিন্তু মন্দিরটা থেকে যাবে। সেই সঙ্গে তাঁর রসিক মন্তব্য, আমি কেন মন্দিরে এসেছি সেটাতে অনেকের কষ্ট হচ্ছে। আমি শুধু বলবো, বিজেপি করতে গেলে কষ্ট পেলে হবে না।
দিলীপ ঘোষ কেন দিঘায় জগন্নাথ মন্দিরে গিয়েছিলেন এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে দেখা করেছিলেন সেটা নিয়ে বঙ্গ বিজেপির মধ্যেই একটা অসন্তোষের আবহ তৈরি হয়েছে। বিজেপির বর্তমান সভাপতি সুকান্ত মজুমদার থেকে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী-সকলকেই আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তাঁরা কেউই যাননি। কেবলমাত্র আমন্ত্রণ রক্ষা করেছেন দিলীপ ঘোষ। এটা যে দলের নির্দেশের বাইরে সেটা স্পষ্ট করেছিলেন সুকান্ত মজুমদার।
দলের রাজ্য সভাপতির বক্তব্য অনুযায়ী দল বহির্ভূত কাজ করেছেন দিলীপ ঘোষ। কিন্তু তিনিও যে দীর্ঘদিনের পোড়খাওয়া রাজনীতিবিদ সেটা এদিন বুঝিয়ে দিলেন কয়েকটা উদাহরণ দিয়ে। তাঁর বক্তব্যেই পরিস্কার, বঙ্গ বিজেপির নেতারা যাই বলুন, বিজেপির মতাদর্শ একেবারেই ভিন্ন। তাই তিনি উদাহরণ টানলেন অটল বিহারী বাজপেয়ির।
পোড়খাওয়া রাজনীতিবিদ দিলীপ ঘোষ যতই তাঁর অবস্থান নিয়ে ব্যাখ্যা দিক না কেন। দলীয় কর্মীদের একাংশ এখনও তেতে আছেন তাঁর দিঘায় যাওয়া নিয়ে। যেমন বৃহস্পতিবার কোলাঘাটে চা চক্রের কর্মসূচি ছিল দিলীপের। কিন্তু সেখানে তাঁকে নজিরবিহীন বিক্ষোভের মুখে পড়তে হয়। তিনি পৌঁছতেই তাঁকে ঘিরে বিক্ষোঙ শুরু করেন দলেরই একাংশ। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছয় যে ঠান্ডা মাথায় পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন তাঁর নববিবাহিত স্ত্রী রিঙ্কু। তবে রাজনীতির ময়দানে অনেকেই মনে করছেন, দিলীপ ঘোষকে ঘিরে যে আবহ তৈরি হয়েছে সেটা সুকান্ত-শুভেন্দুদের চাল। কারণ, দিলীপ ঘোষ আরএসএসের সক্রিয় সদস্য। তিনি আর যাই করুক দলের ক্ষতি তিনি করবেন না।












Discussion about this post