তিন বছর পেরিয়ে গেলেও রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এখনও চলছে। গাজায় হামাসের বিরুদ্ধে লড়াই থামানোর লক্ষণ নেই ইজরায়েলের। এই আবহেই এবার ভারত-পাক যুদ্ধের দামামা বাজছে। ফলে উদ্বেগ বাড়ছে সব পক্ষেরই। এই পরিস্থিতিতে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী টেলিফোনের ডায়াল ঘুরিয়ে চলেছেন বিশ্বের বহু নেতাদের দফতরে। কোনও ভাবে যদি বুঝিয়ে সুঝিয়ে একবার ভারতকে যুদ্ধং দেহী মনোভাব থেকে বিরত করা যায়। কারণ পহেলগাঁও হামলার জবাব দিতে পড়শি দেশে আঘাত হানতে পারে ভারতীয় সেনা! প্রতিনিয়ত জোরাল হচ্ছে এমনই জল্পনা। দিল্লিতে এখন তৎপরতা তুঙ্গে। ঘন ঘন বৈঠক করছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। অপরদিকে তিনি ভারতীয় সেনাকে পূর্ণ স্বাধীনতা দিয়ে দিয়েছেন মোক্ষম জবাব দেওয়ার ব্যাপারে।
এমনই যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী এবার ফোন করলেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিদেশ সচিব মার্কো রুবিওকে। পাক সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ডন’ জানাচ্ছে, মার্কিন বিদেশ সচিবের কাছে পহেলগাঁও কাণ্ডের নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি করেছেন পাক প্রধানমন্ত্রী। এ ক্ষেত্রে তৃতীয় কোনও পক্ষের তত্ত্বাবধানে তদন্ত হলে ইসলামাবাদ তাতে পূর্ণাঙ্গ সহযোগিতা করবে বলেও প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি। এমনকি তাঁর আরও দাবি, পহেলগাঁও সন্ত্রাসের সঙ্গে পাক সরকারের কোনও যোগ নেই। ভারত কোনও প্রমাণ ছাড়াই একতরফা ভাবে সিন্ধু জল চুক্তি স্থগিত-সহ একাধিক পদক্ষেপ করেছে। তাই জবাবি পদক্ষেপ করতে হয়েছে পাকিস্তানকে। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, পাক সংবাদমাধ্যমের এই প্রতিবেদনেই পরিস্কার ভয় পেয়েছে পাকিস্তান। কারণ, এখন তাঁরা নিরপেক্ষ তদন্ত নিয়ে বারবার বিশ্ব দরবারে মায়া কান্না কাঁদছে। কিন্তু পহেলগাঁও হামলার পরপর তাঁদের বক্তব্য ছিল ভিন্ন। আবার যুদ্ধ পরিস্থিতি এড়ানোর জন্য তাঁরা একের পর এক বিদেশী শক্তিকে এর মধ্যে টেনে আনার ছক করছে। এটাও নজর এড়ায়নি নয়া দিল্লির।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিদেশ সচিব মার্কো রুবিও যে পাক প্রধানমন্ত্রী শহবাজ সরীফের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন সেটা স্বীকার করে নিয়েছেন মার্কিন বিদেশ দফতরের মুখপাত্র ট্যামি ব্রুস। তিনি জানিয়েছেন, ‘‘দু’দেশের মধ্যে যে উত্তেজনার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তা নিরসনে ভারত পাকিস্তানের সঙ্গে আলোচনা করুক, এবং দক্ষিণ এশিয়ার শান্তি ও সুস্থিতি বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করুক’’ । সেই সঙ্গে তিনি এও জানিয়েছেন, মার্কো রুবিওর সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। মার্কিন বিদেশ দফতরের মুখপাত্র ট্যামি ব্রুসের কথায়, জয়শঙ্করের সঙ্গে কথোপকথনের সময় রুবিয়ো পহেলগাঁওয়ে প্রাণহানির জন্য গভীর শোকপ্রকাশ করেছেন এবং জঙ্গি হামলায় নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।
পাশাপাশি, জয়শঙ্করকে সন্ত্রাস দমনে সহযোগিতা করার এবং দক্ষিণ এশিয়ায় উত্তেজনা কমানোর পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। অর্থাৎ, মার্কো রুবিও যখন টেলিফোনে পাক প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলছেন, তখন অন্যদিকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী সেই ফোন ধরেননি বা বিদেশমন্ত্রীকে এগিয়ে দিয়েছেন। কূটনৈতিক মহলের মতে, নরেন্দ্র মোদি তাঁর মনোভাব বুঝিয়ে দিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে। যে যা হওয়ার তা হয়ে গিয়েছে, এখন ভারত তার নিজের মতোই ব্যবস্থা নেবে, তৃতীয় কোনও পক্ষের বক্তব্য শুনবে না। উল্লেথ্য, পাকিস্তান যে সন্ত্রাসবাদের কারখানা সেটা ভারত বারবার দাবি করে আসছে বিগত কয়েক দশক ধরে। কিন্তু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আস্কারাতেই পাকিস্তান বহাল তবিয়তে রয়ে গিয়েছে। সেটা সম্প্রতি স্বীকার করে নিয়েছেন পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী । পাক প্রতিরক্ষামন্ত্রীর দাবি ছিল, “সন্ত্রাসবাদকে অর্থ ও মদত দেওয়ার মতো ঘৃণ্য কাজ গত তিন দশক ধরে করে এসেছি আমরা। কিন্তু এই কাজ পাকিস্তান করেছে, আমেরিকা, ব্রিটেন-সহ পশ্চিমের দেশগুলির জন্য। এটা আমাদের ভুল ছিল। যার ফল আমাদের ভুগতে হচ্ছে”। যুদ্ধের আবহে পাকিস্তানের মন্ত্রীর এহেন স্বীকারক্তিতে প্রবল চাপে পড়ে যায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। এই ইস্যুতে সংবাদমাধ্যমের প্রশ্নের মুখে পড়লেন হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র টমি ব্রুস। তিনিও কার্যত বিব্রত হয়ে পড়েন। ফলে একটা বিষয় পরিস্কার, নরেন্দ্র মোদি এবার অনেকটাই দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। ফলে মার্কিন চাপ আসলেও এবার তা অস্বীকার করবে ভারত, এটাই স্পষ্ট বার্তা ভারতের।












Discussion about this post