একদিকে মুখ্যমন্ত্রী যখন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারদের অনুদান দিতে মুর্শিদাবাদের সুতিতে, তখন মানবধিকার কমিশনের কার্যালয়ের সামনের ধর্না মঞ্চ থেকে হুঙ্কার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর। এমনকি চিটিংবাজ বলে আক্রমণ শুভেন্দুর। মুখ্যমন্ত্রী যখন দাবি করছে ২৩৬ টি পরিবারের হাতে অনুদান তুলে দিলাম, তখন বিরোধী দলনেতার দাবি, খুঁজে খুঁজে ৪০ জনকে জোগাড় করতে পেরেছে মুখ্যমন্ত্রী। এমনকি তারা নাকি প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্থ নয়। হুঙ্কার পাল্টা হুঙ্কারে মঙ্গলবার সরগরম রাজ্যের আবহাওয়া।
সম্প্রতি ওয়াকফ আইনকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয় রাজ্যের একাধিক জায়গা। তারমধ্যে বেশি প্রভাব পড়ে মুর্শিদাবাদের সুতি, সামশেরগঞ্জ, জঙ্গিপুর, ধূলিয়ানে। প্রবল বিক্ষোভ, বাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনা, এমনকি নিহত হয় তিনজন। কেউ কেউ মুর্শিদাবাদ ছেড়ে আশ্রয় নেন মালদায়। এই ঘটনার তিন সপ্তাহ পর সোমবার মুর্শিদাবাদ সফরে যান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মঙ্গলবার সুতিতে গিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন। ৪০০ টি পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। এমনকি ২৩৬ টি পরিবারের হাতে ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকার চেক তুলে দেওয়ার কথা জানান সোশ্যাল মিডিয়ায়।
অন্যদিকে মঙ্গলবারই মোথাবাড়ি, ধূলিয়ান, সামশেরগঞ্জ, সুতি সহ মুর্শিদাবাদের বিভিন্ন এলাকাতে হিন্দুদের উপর আক্রমণ ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে ক্ষতিগ্রস্ত বেশ কয়েকটি পরিবার সল্টলেকে মানবাধিকার কমিশনের দফতরের সামনে অবস্থান বিক্ষোভে সামিল হন। তাদের এই প্রতিবাদে সামিল হওয়ার আহ্বান জানান শুভেন্দু অধিকারীকে৷ বিরোধী দলনেতা সেই আমন্ত্রণে সাড়া দিয়ে ক্ষতিগ্রস্তদের সঙ্গে অবস্থান বিক্ষোভে যোগ দেন। সেই সভা থেকেই কার্যত হুংকার ছাড়েন শুভেন্দু অধিকারী। তিনি স্লোগান দেন, ‘গতকাল যা মোথাবাড়ি কাল তাহা আমার বাড়ি’। সেখান থেকেই তিনি স্পষ্ট করে জানান, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নকল চল্লিশটি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের হাতে আর্থিক অনুদান তুলে দিয়েছেন। গোটা মুর্শিদাবাদ জেলায় অন্তত ৯০০ জনের ওপরে হামলা চালানো হয়েছে। কিন্তু তাদের কারোর বাড়ি যাননি মুখ্যমন্ত্রী। এদিনের ধর্না মঞ্চ থেকে কি বললেন বিরোধী দলনেতা, শুনুন
তিনি জানালেন, মুখ্যমন্ত্রীর অনুদান বহু পরিবার ফিরিয়ে দিয়েছে। এমনকি মুর্শিদাবাদের বিভিন্ন বাড়িতে কালো পতাকা দেখিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কে প্রত্যাখ্যান করেছেন। শুধু তাই নয়, নিহত পরিবারকে ১০ লক্ষ টাকার চেক দিতে চেয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। কিন্তু সেগুলি তারা প্রত্যাখ্যান করেছে। বদলে শুভেন্দু অধিকারীর এনজিও এর মাধ্যমে ব্যবস্থা করে দেওয়া অনুদান গ্রহণ করেছে। ফলে বলাই যায়, ২০২৬ এর বিধানসভা নির্বাচনের আগেই রাজ্য রাজনীতি সরকার গরম। এদিকে বিজেপি মরিয়া হয়ে যাইছে এই শাসকদলের গদি উল্টাতে। এখন দেখার, শেষমেষ ভোট ব্যাংকে সেই দাবি অখন্ড রাখতে পারে কিনা বঙ্গ বিজেপি।












Discussion about this post