অবশেষে ঘরের ছেলে ঘরে ফিরছে। টানা ২১ দিন পাকিস্তানের হাতে বন্দি থাকা বাংলার বিএসএফ জওয়ানকে মুক্তি দিতে বাধ্য হল ইসলামাবাদ। বুধবার সকালেই তাঁকে ভারতের হাতে হস্তান্তর করা হয়েছে। খবর আসতেই বিএসএফ জওয়ান পূর্ণম কুমার সাউয়ের রিষড়ার বাড়িতে খুশির হাওয়া।
অবশেষে দেশে ফিরলেন পাকিস্তানের হাতে আটক বিএসএফ জওয়ান পূর্ণম কুমার সাউ। যিনি এই বাংলার বাসিন্দা, বিষদে বলতে গেলে হুগলির রিষড়ার বাসিন্দা। গত ২৩ এপ্রিল পাকিস্তানি রেঞ্জার্সের হাতে আটক হয়েছিলেন ফিরোজ়পুরে ২৪ নম্বর ব্যাটেলিয়নের বিএসএফ কনস্টেবল পূর্ণম কুমার সাউ। এরপর টানা ২০ দিন বিনিদ্র রজনী কেটেছে পূর্ণমের পরিবারের। বিশেষ করে তাঁর অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী ছুটে গিয়েছিলেন হিমাচল প্রদেশের কাংড়ায় বিএসএফের দফতরেও। ভারত সরকার থেকে পশ্চিমবঙ্গ সরকার, দফায় দফায় যোগাযোগ রাখছিলেন ওই বিএসএফ জওয়ানের পরিবারের সঙ্গে। অবশেষে যাবতীয় উৎকন্ঠার অবসান হল। ২১ দিনের মাথায় মুক্তি পেলেন পূর্ণম। উল্লেখ্য, ২২ এপ্রিল পহেলগাঁও সন্ত্রাসী হামলার পর জঙ্গিদের ধরতে বিশেষ অভিযান চালায় ভারত। পরদিন অর্থাৎ ২৩ এপ্রিল পঞ্জাবের পঠানকোটে কর্মরত অবস্থায় ভুল করে পাকিস্তানে ঢুকে গাছের তলায় বিশ্রাম নিচ্ছিলেন পূর্ণম। তখনই পাক রেঞ্জার্স তাঁকে ধরে। এরপর থেকে পাকিস্তানের হাতে বন্দি ছিলেন ওই বিএসএফ জওয়ান। এই কয়েকদিনে সিন্ধু ও গঙ্গা দিয়ে অনেক জল বয়ে গিয়েছে। ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে তীব্র সংঘর্ষ হয়। ভারত অপারেশন সিঁদুর পরিচালনা করে পাকিস্তানের মাটিতে একাধিক জঙ্গিঘাঁটি গুঁড়িয়ে দেয়। তারপর পাকিস্তানের আক্রমণ, ভারতের পাল্টা আক্রমণে পুরোদস্তুর একটা যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। এই আবহে পূর্ণমের মুক্তি নিয়ে চিন্তা আরও বেড়েছিল তাঁর পরিবারের। শেষ পর্যন্ত আইজি বিএসএফ পঞ্জাব ফ্রন্ট্রেটিয়র জানান, আটারি-ওয়াঘা সীমান্তে বুধবার সকালে ফ্ল্যাগ মিটিং হয়। তারপর পাকিস্তান পূর্ণম সাউকে ভারতের হাতে তুলে দেয়। সেই সঙ্গে ভারতের হাতে বন্দি থাকা এক পাক রেঞ্জার্সকেও ভারত ফেরত পাঠায়। পূর্ণমের পরিবার জানিয়েছে, ইতিমধ্যেই তাঁকে দিল্লি আনা হয়েছে এবং ফোনেও কথা বলেছেন তাঁরা। ঘরের ছেলে ঘরে ফেরায় তাঁরা খুব খুশি।
অপরদিকে, পূর্ণমের পরিবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেও ধন্যবাদ জানাচ্ছে। পূর্ণমের পাকিস্তানের হাতে বন্দি হওয়ার পর থেকেই বাংলার মুখ্যমন্ত্রী যোগাযোগ রাখছিলেন তাঁদের সঙ্গে। এমনকি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তার স্ত্রীকে ফোন করে আশ্বস্ত করেছিলেন যে তাঁরা সবরকম চেষ্টা করে পূর্ণমকে ফিরিয়ে আনবেন। তিনি বিএসএফের ডিজির সঙ্গেও লাগাতার যোগাযোগ রাখছিলেন।
পূর্ণমকুমার সাউয়ের স্ত্রী রজনীও বাংলার মুখ্যমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ঘটনার পর থেকেই তিনি যেভাবে এই পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন। ক্রমাগত সাহস জুগিয়ে গিয়েছেন তা প্রসংশনীয়। অবশেষে তাঁর স্বামী ঘরে ফিরছেন, এটাই সবচেয়ে স্বস্তির।
রজনী আরও জানিয়েছেন, প্রায় ২১ দিন পরে স্বামীর সঙ্গে ভিডিও কলে কথা হয়েছে তাঁর। দীর্ঘ উৎকন্ঠার পর স্বামীকে দেখে অনেকটাই আস্বস্ত হয়েছেন তিনি। রজনী জানিয়েছেন, ভিডিও কলে তাঁর স্বামী বলেছেন, আমি ঠিক আছি। দাড়ি কাটতে হবে। পরে কথা বলছি। অন্যদিকে, বাংলার মুখ্যমন্ত্রীও যেমন পূর্ণমকে ফেরাতে তৎপর হয়েছিলেন তেমনই কেন্দ্রীয় সরকার এবং বিএসএফ লাগাতার পাকিস্তানের ওপর কূটনৈতিক চাপ বাড়াচ্ছিল। যাতে এই বিএসএফ জওয়ানকে কোনও রুপ অত্যাচার না করা হয়, এবং দ্রুত ছেড়ে দেওয়া হয়। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা বিজেপি রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার বলেন, এক পাক রেঞ্জার্সকেও আটক করেছিল ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী। শেষ পর্যন্ত ক্রমাগত ফ্ল্যাগ মিটিং করে পাকিস্তানের ওপর চাপ সৃ়ষ্টি করে বিএসএফ বিনিময় প্রথার মতোই পূর্ণমকে দেশে ফিরেয়েছে বিএসএফ।
সূত্রের বুধবার সকাল সাড়ে ১০ টায় পূর্ণমকে ফেরত দেয় পাকিস্তান। সেই খবর পৌঁছতেই হুগলির রিষড়ায় পূর্ণম সাউয়ের বাড়িতে খুশির হাওয়া। তাঁর পরিবারের পাশাপাশি উচ্ছ্বাসে ভেসে গিয়েছেন এলাকার বাসিন্দারাও। রসগোল্লা দিয়ে মিষ্টি মুখ করছেন এলাকাবাসী।












Discussion about this post