একদিকে চাকরি নিয়ে দুর্নীতি, অন্যদিকে তা ভাতা দিয়ে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা। বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশমতো শুক্রবারই এসএসসি দুর্নীতিতে চাকরিহারা গ্রুপ সি এবং গ্রুপ ডি কর্মীদের জন্য আগেই বিশেষ ভাতার বিজ্ঞপ্তি জারি করল নবান্ন। যা নিয়ে আগেই হাইকোর্টে মামলা হয়েছে।
এসএসসি দুর্নীতিতে চাকরিহারা গ্রুপ সি এবং গ্রুপ ডি কর্মীদের জন্য আগেই বিশেষ ভাতা ঘোষণা করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শুক্রবার এই সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করল রাজ্য সরকার। ওই বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী ২০১৬ সালে এসএসসি গ্রুপ সি এবং গ্রুপ ডি-র যে কর্মীরা যারা সর্বোচ্চ আদালতের নির্দেশে চাকরি হারিয়েছেন, তাঁরা যথাক্রমে মাসিক ২৫ এবং ২০ হাজার টাকা করে ভাতা পাবেন। যদিও মুখ্যমন্ত্রী এই ভাতা দেওয়ার কথা ঘোষণা করার পরই কলকাতা হাইকোর্টে একটি জনস্বার্থ মামলা দায়ের হয়ে গিয়েছে। বিচারপতি অমৃতা সিন্হার বেঞ্চ মামলাটির অনুমতিও দিয়েছে। এই অবহেই বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে রাজ্য জানিয়ে দিল, চাকরিহারাদের প্রতি সরকার অত্যন্ত সংবেদনশীল। বিরোধিদের প্রশ্ন, দুর্নীতির প্রশ্নে কোনঠাসা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার জনগণের করের টাকা দিয়ে শুধু ভাতা ও অনুদান বিলিয়ে যাচ্ছে। আসলে ভাতা দিয়ে মুখ বন্ধ করতে চায় তৃণমূল সরকার।
২০১৬ সালের এসএসসি নিয়োগ পরীক্ষায় যে ব্যাপক দুর্নীতি হয়েছে তা কলকাতা হাইকোর্ট এবং দেশের সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিম কোর্টেও প্রমাণিত। আদালতের নির্দেশে এক ধাক্কায় চাকরি যায় প্রায় ২৬ হাজার শিক্ষক শিক্ষিকা এবং শিক্ষাকর্মীর। গত এপ্রিল মাসের গোড়ার দিকে সুপ্রিম কোর্ট এসএসসি নিয়োগ দুর্নীতি মামলার রায় দেয়। তারপর থেকে রাজ্য রাজনীতি যেমন উত্তাল, তেমনই উত্তাল শহরের রাজপথ। চাকরি বাতিলের ঠেলায় কার্যত বেসামাল মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে চাকরিহারা শিক্ষাকর্মীদের সঙ্গে একটি বৈঠক করে রাজ্য সরকার। ওই বৈঠকে মুখ্যসচিব মনোজ পন্থ-সহ একাধিক সরকারি আমলা উপস্থিত ছিলেন। এমনকি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও টেলিফোনে কথা বলেছিলেন চাকরিহারা গ্ৰুপ সি ও ডি কর্মীদের সঙ্গে। সেখানেই তিনি বিশেষ ভাতা দেওয়ার কথা জানিয়েছিলেন।
এবার সরাসরি বিজ্ঞপ্তি জারি করে দিল নবান্ন। সবচেয়ে বড় বিষয় হল, গত এপ্রিল থেকেই এই ভাতা পাবেন চাকরিহারা গ্রুপ সি ও ডি শিক্ষাকর্মীরা। নবান্নের জারি করা বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, এই প্রকল্পের নাম হল, ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল লাইভলিহুড অ্যান্ড সোশ্যাল সিকিউরিটি ইন্টারিম স্কিম, ২০২৫’। এখন দেখার, সুপ্রিম কোর্টে অযোগ্য এবং দুর্নীতি প্রমান হওয়ায় চাকরিহারা শিক্ষাকর্মীদের এভাবে ভাতার ব্যবস্থা করে দিতে পারে কিনা রাজ্য সরকার। বিরোধিদের প্রশ্ন, জীবনযাত্রা এবং সামাজিক সুরক্ষার নামে এই ভাবে জনগণের করের টাকার অপব্যবহার কিভাবে করা যায়? উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার জোড়া নির্দেশে সুপ্রিমকোর্ট জানিয়ে দিয়েছে, চিহ্নিত অযোগ্যদের পুনরায় পরীক্ষায় বসার কোনও সুযোগ নেই। অর্থাৎ দূর্নীতি বা কারচুপি করে যে চাকরি পাওয়া কর্মীদের নামের তালিকা এসএসসি ও সিবিআই আদালতে জমা করেছিল, তাঁরা নতুন করে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে পারবেন না। অথচ তাঁদেরই ভাতার ব্যবস্থা করছে রাজ্য সরকার। এ ক্ষেত্রে উল্লেখ করা যায়, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে প্রায় ২৬ হাজার জনের চাকরি যাওয়ার পরে সমস্যায় পড়ে গিয়েছিল রাজ্যের সরকার পোষিত এবং সাহায্যপ্রাপ্ত স্কুলগুলি। এতজনের চাকরি বাতিল হলে স্কুল কীভাবে চলবে! সেই আশঙ্কা থেকে নতুন করে প্যানেল তৈরি না হওয়া পর্যন্ত শিক্ষকদের কাজ চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট। কিন্তু শিক্ষাকর্মীদের আপাতত কাজ চালিয়ে যাওয়ার অনুমতি দেয়নি আদালত। অর্থাৎ গ্রুপ সি ও ডি কর্মীদের পুরোপুরি প্যানেল বাতিল হয়। এবার তাঁরাই ভাতা পাবেন কিসের ভিত্তিতে? এই প্রশ্ন রয়েই গেল।












Discussion about this post