বাংলাদেশ করিডোর ইস্যুতে সংবাদ সম্মেলন সেনাবাহিনীর। সেনাবাহিনীর এই তৎপরতা দেখে স্বাভাবিকভাবেই বোঝা যাচ্ছে দেশজুড়ে বিশেষ কিছু ঘটতে চলেছে। সরকারের সঙ্গে সেনাবাহিনীর যে দূরত্ব তৈরি হয়েছে তা অবশ্যই সরকারের কর্মকান্ড এবং সরকারের হঠকারী বেশ কিছু সিদ্ধান্ত গ্রহণকে ঘিরে। এই সংবাদ সম্মেলনে স্পষ্ট জানানো হয় প্রধান উপদেষ্টা মোহাম্মদ এর সঙ্গে কোন মতবিরোধ নেই সেনাবাহিনীর তবে করিডোর ইস্যুতে কোনো আপোষ নয় সরকারকে।
বিগত বেশ কয়েকদিন ধরেই মহম্মদ ইউনুসের পদত্যাগ থেকে সেনা-সরকারের মতপার্থক্য নিয়ে বাংলাদেশে চলছে জোর জল্পনা। দাবি করা হচ্ছিল, বাংলাদেশ থেকে রাখাইন প্রদেশ পর্যন্ত রোহিঙ্গাদের জন্য মানবিক করিডোর থেকে শুরু করে নির্বাচন নিয়ে ইউনুসের সরকারের সঙ্গে সহমত নন সেনা প্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ জামান। এই আবহে এবার মুখ খুলল বাংলাদেশের সেনা সদর।
সেনা সদরের মিলিটারি অপারেশনস পরিদপ্তরের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. নাজিম-উদ-দৌলা বলেন, “যেভাবে বলা হচ্ছে, সরকারের সাথে সেনাবাহিনীর বিশাল মতপার্থক্য হয়েছে, বিভেদ হয়েছে। যেটা দেখছি মিডিয়াতে,এরকম আসলে কিছু হয়নি। সরকার এবং সেনাবাহিনী খুব সুন্দরভাবে একে অপরের সহযোগিতায় কাজ করছে। সুতরাং এটা নিয়ে ভুল ব্যাখ্যা করার কোনো সুযোগ নেই।” এদিন সংবাদ সম্মেলনে সেনাবাহিনীর তরফে কি জানানো হলো শুনুন,,
উল্লেখ্য, মানবিক করিডর নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে সেনাবাহিনীর মতপার্থক্য চলছে,রাজনৈতিক অঙ্গন ও সামাজিক মাধ্যমে এটি এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ।
তবে এর আগে গত ২১শে মে ঢাকা সেনানিবাসে কর্মকর্তাদের উদ্দেশে মানবিক করিডর, ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন করাসহ বিভিন্ন বিষয়ে সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বেশ কিছু বক্তব্য রেখেছেন সেনা সদস্যদের।
বিভিন্ন মাধ্যমে সেনাপ্রধানের বক্তব্য প্রসঙ্গে বলা হচ্ছে, সেনাপ্রধান বলেছিলেন, রাখাইন প্রদেশে মানবিক করিডর বিষয়ে সিদ্ধান্ত একটি নির্বাচিত সরকার থেকেই আসতে হবে এবং বৈধ প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই সেই সিদ্ধান্ত গৃহীত হবে।
এবার এই সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্ন উঠে , রাখাইনে মানবিক সহায়তা পাঠানোর লক্ষ্যে যে করিডরের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ সরকার সে বিষয়ে সেনাবাহিনীর কি মতামত, সেই প্রশ্নের জাবাবে কর্নেল মোঃ শফিকুল ইসলাম বলেন, “করিডর একটি স্পর্শকাতর বিষয়। দেশের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হয় এমন কোন কাজে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সম্পৃক্ত হবে না।”
অর্থাৎ নির্বাচন নিয়েও সেনাবাহিনীর একটাই বক্তব্য যত দ্রুত সম্ভব নির্বাচন সংগঠিত করতে হবে বাংলাদেশে, কারণ দেশের ক্ষমতা হাতে তুলে নেওয়ার ইচ্ছে সেনাবাহিনীর নেই তারা চায় দেশকে একটি স্থিতিশীল অবস্থায় পৌঁছে ব্যারাকে ফিরতে। করিডর, বন্দর ইস্যুতে দেশের সার্বভৌমত্বের ক্ষেত্রে বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ তৈরী হতে পারে এই বিষয়গুলো নিয়ে তৎপর সেনাবাহিনী। এবং দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সেনাবাহিনী সব সময় ঐক্যবদ্ধ হয়েই কাজ করছে, ভবিষ্যতেও করবে,তার সুস্পষ্ট ধারণা পাওয়া যায় সেনাবাহিনীর এই সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে।












Discussion about this post