বদলির নেপথ্যে প্রতিহিংসা? আর জি কর আন্দোলনের অন্যতম তিন মুখকে একযোগে বদলি। বদলির খবর প্রকাশ্যে আসতেই বিতর্কের ঝড় রাজ্যে। ব্যাখ্যা চেয়ে স্বাস্থ্যভবনে হাজির হয়েছে জুনিয়র ডক্টর্স ফ্রন্ট।
২০২৪ এর আগস্টে কলকাতার আরজিকর মেডিক্যাল কলেজে ঘটে যায় এক নারকীয় ঘটনা। জুনিয়র চিকিৎসকের ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় আন্দোলনে পথে নামে চিকিৎসক সংগঠন ও সাধারণ মানুষ । আর সেই প্রতিবাদী আন্দোলনের অন্যতম মুখ তিন জুনিয়র চিকিৎসক। দেবাশিস হালদার, অনিকেত মাহাতো ও আসফাকুল্লা নাইয়া। এবার একই দিনে এই তিন জুনিয়র চিকিৎসকের বদলির নির্দেশ সামনে এলো। রাজ্য স্বাস্থ্য দপ্তর চিকিৎসক দেবাশীষ হালদারকে আর জি কর মেডিকেল কলেজ থেকে অন্যত্র বদলির নির্দেশ দেয়। কাউন্সেলিংয়ে চিকিৎসক দেবাশিস হালদার, সিনিয়র রেসিডেন্ট হিসেবে হাওড়া জেলা হাসপাতালকে বেছে নিয়েছিলেন। হাওড়া জেলা হাসপাতালে তাঁর যোগ দেওয়ার অর্ডারও বেরিয়ে যায়। কিন্তু জয়েনিং এর সময় দেখা যাচ্ছে হাওড়া জেলা হাসপাতালের পরিবর্তে তা হয়ে গিয়েছে মালদার গাজলের মহকুমা হাসপাতাল। যে ৬৭৮ জনের তালিকা বেরিয়েছে, এই তালিকায় একমাত্র দেবাশিস হালদার তাঁরই পোস্টিংয়ের জায়গা বদল হয়েছে। এরপরই সামাজিক মাধ্যমে শুরু হয়েছে তীব্র প্রতিক্রিয়া। প্রশ্ন উঠছে, ৬৭৮ জনের মধ্যে শুধু দেবাশীষ হালদারই কেন? জুনিয়র চিকিৎসকের অভিযোগ সবটাই প্রতিহিংসা। আর জি কর কাণ্ডে সরকার ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ব্যর্থতার বিরুদ্ধে সরব হওয়ার কারণেই জুনিয়র চিকিৎসকদের লক্ষ্য করা হয়েছে।
দেবাশিসের পর বদলি করা হয়েছে আসফাকুল্লা ও অনিকেত মাহাতোকেও। অভিযোগ, মেধাতালিকা বেরোনোর পর দেখা যায়, দেবাশিসের মতো পোস্টিং বদলে গিয়েছে তাদেরও! আরজি করের পরিবর্তে অনিকেতকে পাঠানো হয়েছে রায়গঞ্জে, আর আসফাকুল্লার পোস্টিং হয়েছে পুরুলিয়ার দেবেন মাহাতো মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে।
অভয়া কাণ্ডের প্রতিবাদে সামনে সারিতে যে জুনিয়র চিকিৎসকের নাম উঠে এসেছিল। ঘটনার ৯ মাসের মাথায় সেই তিন জুনিয়র চিকিৎসকের বদলি অর্ডার ঘিরে বিতর্ক তুঙ্গে উঠেছে। এদিন আসফাকুল্লা নাইয়া বলেন, কোন কারণে, কোন ক্ষমতাবলে সরকার চাইলেই সবকিছু করতে পারে এই ঔদ্ধত্য়ের বিরুদ্ধে আমাদের আন্দোলন।”
জুনিয়র চিকিৎসকদের এই পোস্টিং অর্ডার প্রকাশ্যে আসতেই, এই বদলির জবাব চাইতে, স্বাস্থ্যভবনে হাজির হয় জুনিয়র ডক্টর্স ফ্রন্ট। স্বাস্থ্যসচিব সচিবের সঙ্গে দেখা করতে চাইলেও দেখা হয়নি তাঁদের। স্বাস্থ্যসচিবের ঘরের বাইরে বিক্ষোভে বসেন জুনিয়র ডক্টর্স ফ্রন্ট। বিতর্ক দানা বাঁধতেই স্বাস্থ্য সচিব নারায়ণস্বরূপ নিগম জানিয়েছেন, লিস্ট বেরিয়েছে, বিভিন্ন সিনিয়র রেসিডেন্টকে পোস্টিং দেওয়া হয়েছে। কারও অভিযোগ থাকলে লিখিত ভাবে জানাতে পারেন। এর মধ্যে অন্য কোনও বিষয় নেই।
উল্লেখ্য, আরজিকর কাণ্ডে পশ্চিমবঙ্গের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার নিরাপত্তাহীনতা প্রকাশ পেয়েছে। প্রশাসনিক দুর্নীতির অভিযোগ দীর্ঘদিনের। জুনিয়র চিকিৎসকরা এই সমস্যাগুলোর বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে জনমত গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। আর সেখানেই অন্যতম মুখ হিসেবে দেখা গিয়েছে দেবাশীষ অনিকেত ও আফসাদুল্লাহকে। তবে তাদের বদলির সিদ্ধান্ত কোনোভাবেই এই আন্দোলনকে দমিয়ে রাখতে পারবে না সে কথাও স্পষ্ট করছেন জুনিয়র চিকিৎসকরা।












Discussion about this post