প্রায় ৯ মাস হল বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মোহাম্মদ ইউনুস ক্ষমতায় রয়েছেন। এই নয় মাসে দশবার বিদেশ সফর করেছেন তিনি। এর আগে কোনও রাষ্ট্রপ্রধানকে এত ঘন ঘন বিদেশ সফর করতে দেখা যায়নি। শেষবার তিনি গিয়েছিলেন জাপান। জাপান থেকে কি নিয়ে এলেন প্রধান উপদেষ্টা? উঠছে প্রশ্ন। এছাড়াও সেনানিবাসে সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ জামান উচ্চ পদস্থ সামরিক কর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। তবে কি সেনা শাসনের পরিকল্পনায় করা হচ্ছে? এর মধ্যে বঙ্গভবনে সেনা নিরাপত্তা জোরদার করা হল। কিন্তু কেন? কিসের ইঙ্গিত!
প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনূস এখনও পর্যন্ত যতগুলি সফর করেছেন সবগুলি রাষ্ট্রীয় সফর নয়। কিছু কিছু ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত আমন্ত্রণ রক্ষা করতেও দেখা গিয়েছে তাকে। তবে প্রত্যেকটি সফরে তিনি একা যান না। তার সঙ্গে একটি প্রেস উইংও থাকে। তিনি মূলত জাপান সফরে গিয়েছিলেন ৩০তম নিক্কেই ফোরামে যোগ দিতে। এবং দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা জোরদারের লক্ষ্যে জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিগেরু ইশিবার সঙ্গে বৈঠক করেছেন। তবে কি আনতে পারলেন বিদেশ থেকে, সেটাই সব থেকে বড় প্রশ্ন? এদিকে জাপান সফরে গিয়ে প্রথমে তিনি একটি বিতর্ক সৃষ্টি করেছেন। তিনি বলেছেন, একটি মাত্র রাজনৈতিক দল ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন চায়। ইউনুস যে বিএনপি কেই ইঙ্গিত করছে, সেটা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। এই বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে বিএনপি। এমনকি বিএনপি নেতারাও সোচ্চার হয়েছে ইউনুসের এই বক্তব্যের ফলে। যদিও নির্বাচন নিয়ে সরকারের সঙ্গে বিএনপি’র যে সংঘাত, সেটি কোনও চাল নয় তো? এটি নিয়েও প্রশ্ন উঠে যাচ্ছে।
জানা যাচ্ছে, বাংলাদেশ সরকার ১০০ কোটি ডলার অর্থাৎ ১৩ হাজার কোটি টাকা জাপান সরকারের কাছে বাজেট সহায়তা চেয়েছিল। জাপান সরকার বাংলাদেশকে এই টাকাটা দিতে রাজি হয়েছে। তবে এই টাকাটি বাজেট সহায়তার জন্য নয়, রেল খাতে উন্নয়নের জন্য দিচ্ছে জাপান সরকার। কিন্তু জানা যাচ্ছে,এটি শেখ হাসিনার আমলে আলোচনার একটি ফল। সেই সময় শেখ হাসিনার সরকারই এই টাকাটা চেয়েছিল দেশের উন্নয়নে কাজে লাগাবে বলে। আর সেই প্রক্রিয়াটি প্রায় শেষ পর্যায়ে ছিল। কিন্তু হঠাৎই শেখ হাসিনার পতনের ফলে ইউনুস গিয়ে সেটি চূড়ান্ত করে। এছাড়াও মহেশখালী, জহরিয়াতে একটি প্রকল্প হচ্ছে। যেখানে অন্তর্বর্তী সরকারের তরফে বলা হয়েছিল, সেটি তারা সিঙ্গাপুরের মতো করতে চায়, এর জন্য তারা জাপান সরকারের সহায়তা চাইবে। কিন্তু বাস্তবতা হল, এই প্রকল্পটি শুরু হয়েছে ২০২০ সালে। ৫ বছর আগের হওয়া প্রকল্পটি তারা নিজেদের বলে চালানোর চেষ্টা করছে। অর্থাৎ এই জাপান সফরে মোহম্মদ ইউনূসের কিছু ব্যক্তিগত পাওনা হলেও, দেশের জন্য কিছু হয়নি। শুধুমাত্র কিছু বিতর্ক ছাড়া।
এছাড়াও আর একটি খবর রয়েছে, সেটি হল, বৃহস্পতিবার রাতে সেনানিবাসে সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ জামান সহ মোট ৮ জন উচ্চ পদস্থ সামরিক সেনা কর্তা একটি গোপন বৈঠক করেছেন। সেই বৈঠকে কি কি উঠে এসেছে নির্দিষ্ট করে জানা না গেলেও দেশের সার্বভৌমত্ব এবং নিরাপত্তায় রক্ষায় তারা অঙ্গীকারবদ্ধ, সেই নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এছাড়াও রাষ্ট্রপতির বাসভবন অর্থাৎ বঙ্গভবনে সেনা মোতায়েন করা হয়েছে, নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। এছাড়াও দেশের ৩৮ টি স্থানে সেনা প্রহরা নজিরবিহীনভাবে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। তার মধ্যে রয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, মিরপুর, আমিনবাজার, পল্টন সহ আরও বেশ কিছু ঢাকার জায়গা সেনা দিয়ে মুড়ে ফেলা হয়েছে। এই সেনা নিরাপত্তা নিয়ে কার্যত অনেক কিছুই আশঙ্কা করা হচ্ছে। তবে দেশে মব কালচার থেমে নেই। অর্থাৎ গোটা দেশে একটি দম বন্ধ করার মতো পরিস্থিতি। তবে এই অবস্থায় অনেকে বলছে,দেশে সামরিক শাসন প্রয়োজন। তবে সেনা নিরাপত্তা জোরদার, সেনানিবাসে বৈঠক, তারই ইঙ্গিত? কিন্তু জেনারেল ওয়াকার উজ জামান কোনও অবস্থাতেই সামরিক শাসন জারি করবে না। তবে বাংলাদশের যা পরিস্থিতি তাতে সন্দেহের ঊর্ধ্বে কেউ নন। এটি কি সেনাবাহিনীর আইওয়াশ? সরকারের সঙ্গে কোনওভাবে খেলা চলছে? জামাত কেন বারবার সেনাপ্রধানের কাছে ছুটে যায়? এরমধ্যে আরও একটি উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, আমেরিকার বাংলাদশে বসবাসকারী তাদের নাগরিকদের উদ্দেশ্যে বেশ কিছু সতর্কতা জারি করেছে। কারণ তাদের রিপোর্টে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে বিক্ষোভ, মিছিল বেড়েছে। অনেকে বলে থাকে, শেখ হাসিনার পতন ও মহম্মদ ইউনূসের ক্ষমতা হাতে নেওয়া.. সবটার পিছনে রয়েছে আমেরিকা। এটি একটি ওপেন সিক্রেট। এরমধ্যে আমেরিকা আবার তাদের নাগরিকদের ওয়ার্নিং দিচ্ছে। ফলে এটি নিয়েও একটি ধোঁয়াশা সৃষ্টি হয়েছে। অন্যদিকে সার্বিক পরিস্থিতি বুঝে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, বিএনপির সঙ্গে সরকারের ভিতরে ভিতরে বোঝাপড়া চলছে। সেটি মিটলেই হয়তো নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণা হবে। অর্থাৎ নির্বাচন নিয়ে সরকারের বিরুদ্ধে বিএনপি যে অবস্থান নিচ্ছে বা সুর চড়াচ্ছে, আসলে এটি একটি আইওয়াশ। এখন দেখার, বাস্তবে আদতে কি হয় বাংলাদেশে!












Discussion about this post