এমনিতেই রাজ্যের শাসকদল একাধিক ইস্যুতে ব্যাকফুটে চলে যাচ্ছে। একাধিক দুর্নীতির অভিযোগে বিদ্ধ রাজ্য সরকার। তারমধ্যে আগুনে ঘি ঢাললেন কামারহাটির তৃণমূল বিধায়ক মদন মিত্র। এখানে যারা আছেন, তার মধ্যে ৪০ শতাংশ তৃণমূলের দেওয়া চাকরি পেয়েছে। কিছু কর্মী গোটা দলটা থেকে শুধু নিয়ে গিয়েছে। ফের একবার দলের কর্মীসভা থেকে দলেরই একাংশকে নিশানা করলেন তৃণমূল বিধায়ক। তবে কি দলেরই কর্মীদের একাংশের কুকর্মের বিরুদ্ধে সুর চরালেন তিনি?
শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতির অভিযোগে তোলপাড় রাজ্য ছাড়িয়ে গোটা দেশ। কাঠগড়ায় মমতার সরকার। সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্টের রায় ২০১৬ সালের এসএসসি পুরো প্যানেলটাই বাতিল হয়ে গিয়েছে। চাকরি গিয়েছে প্রায় ২৬ হাজার শিক্ষকের। এমনকি ৩২ হাজার প্রাথমিক শিক্ষকের চাকরির ওপর খাড়া ঝুলছে। এমনকি শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতির অভিযোগে রাজ্যের বহু পদাধিকার জেলে রয়েছেন। শুধু তাই নয়, প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ও জেলে রয়েছেন। আর সেই পরিস্থিতিতে তৃণমূলের চাকরি দেওয়া নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করে বসলেন কামারহাটের তৃণমূল বিধায়ক মদন মিত্র। বৃহস্পতিবার তৃণমূলের কর্মীসভার বৈঠক ছিল। সেই বৈঠক হয়েছিল কামারহাটি নজরুল মঞ্চে। সেখানেই বক্তব্য রাখেন মদন মিত্র। তার বক্তব্য ভাইরাল হয়ে যায় সমাজ মাধ্যমে। সেখানে তৃণমূল বিধায়ককে বলতে শোনা যায়, আমি দায়িত্ব নিয়ে বলতে পারি, এখানে যারা রয়েছেন, তার অন্তত ৪০ শতাংশ তৃণমূলের দেওয়া চাকরি পেয়েছেন। তারপরই বলেন আমি বলছি মদন মিত্র। এমনকি তিনি বলেন, যারা চাকরি পাননি তাদের মুখটার দিকে তাকিয়ে দেখুন, তারা ঠিক কি ভাবছে। আমরা কিছু না পেয়ে ঘরের খেয়ে বনের মোষ তাড়াচ্ছি!
এখানেই প্রশ্ন উঠে যাচ্ছে, কোন চাকরির কথা বলছেন মদন মিত্র? সরকারি চাকরির কথা? চাকরি দেয় তো সরকার। তবে একটি রাজনৈতিক দল তৃণমূল কিভাবে চাকরি দিতে পারে? শাসক দলে আছে বলে? শাসকদলে থাকলেও দলের তো এক্তিয়ার নেই চাকরি দেওয়া! তবে কি, সরকারি চাকরির ক্ষেত্রে স্বজনপোষণের অভিযোগ মেনে নিচ্ছেন মদন মিত্র। অনেকে আবার পুরো নিয়োগ দুর্নীতি কাণ্ডে সিবিআইয়ের দেওয়া চার্জশিটের কথা তুলে ধরছেন। সেই চার্জশিটে উল্লেখ ছিল, ২০১৪ সালের পর থেকে ১৭ টি পুরসভার অর্ধেকের বেশি নিয়োগ একেবারে বেআইনি। নাম রয়েছে কামারহাটি পুরসভারও। যেখানে ৩০৩ জনের চাকরির ক্ষেত্রে অভিযোগ উঠেছে। এমনকি কামারহাটি পুরসভার চেয়ারম্যান গোপাল সাহার বাড়িতে তল্লাশি চালায় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই। আর তার মধ্যেই কামারহাটি তৃণমূল বিধায়ক মদন মিত্রের এহেন মন্তব্য। যা ঘিরে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তুমুল বিতর্ক।












Discussion about this post