বাংলাদেশের রাজনৈতিক মহলে কান পাতলেই শোনা যাচ্ছে, হয় এসপার না হয় ওসপার। মানে হয় ইউনূস, না হয় ওয়াকার। এটা কেন বলছি, কারণ রয়েছে বহু। ঈদের পর বাংলাদেশে উঠতে পারে প্রবল আন্দোলনের ঝড়। ইতিমধ্যেই খবর, ওয়াকার কে আশ্বস্ত করেছেন শেখ হাসিনা। তবে কি গৃহযুদ্ধ আসন্ন? ফলে প্রবল সিদ্ধান্তের পথে বাংলাদেশ।
মোহম্মদ ইউনূসকে সরিয়ে বাংলাদেশের সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ জামান ক্ষমতা হাতে নিতে পারেন, এমন সম্ভাবনার কথা উঠে এসেছে বহুবার। কারণ নোবেল জয়ী অর্থনীতিবিদ দেশ চালাতে ব্যর্থ বলে উল্লেখ করছেন অনেকে। শুধু তাই নয়, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এর মতো শক্তিশালী দেশের কাছে মাথা নওয়াবেন না বলে শেখ হাসিনাকে সরে যেতে হয়েছে বলে মনে করেন অনেকে। সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে দেশের সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে দেশকে বিকিয়ে দিয়েছেন মোহাম্মদ ইউনুস বলে অভিযোগ। ইতিমধ্যেই রাখাইনে মানবিক করিডর দেওয়াকে ঘিরে চট্টগ্রামে মার্কিন সেন ঘাটি গাড়তে শুরু করে দিয়েছে বলে খবর। যদিও সেনাবাহিনী আপত্তি জানাতে কাজের গতি কমে গিয়েছে ঠিকই, তবে এখনও পর্যন্ত কাজ চলছে। এই ঘটনার পর থেকে দেশের অন্দরে ইউনূসের বিরুদ্ধে ক্ষোভ জমতে শুরু করেছে। এমনকি যারা শেখ হাসিনাকে হটিয়ে, মোহাম্মদ ইউনুসকে ক্ষমতায় বসিয়েছিলেন তারাই চাইছে তাকে উৎপাত করতে। বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ জানে, আমেরিকা নিজেদের স্বার্থ রক্ষায় ইউনুসকে ক্ষমতায় রেখেছে তারা। এদিকে ক্ষমতার লাভের কাছে হার নেবেছেন ইউনুস। সেই পরিপ্রেক্ষিতে আমেরিকার আরও একটি কাজ করার চেষ্টা করেছিল। হজের বাহানায় সেনাপ্রধানের সঙ্গে বাকি বাহিনী প্রধানদের ডেকেছিল সৌদিতে। কারণ সৌদি আরব মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এর ঘনিষ্ঠতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। কয়েকদিন আগে কাতারে মধ্য প্রাচ্যের দেশগুলির সঙ্গে বৈঠক করে গিয়েছে ট্রাম্প। সেখানে কয়েক বিলিয়ন হাজার ডলার মূল্যতে নিবেশ করতে চাইছে সৌদি আরব আমেরিকাকে। অর্থাৎ আমেরিকা নিজের দেশে এবং ব্যবসা ছাড়া কিছুই বোঝে না। এটা বুঝে গিয়েছে জামাত। তাদের পরিকল্পনা স্পষ্ট, বাংলাদেশকে ইসলামী রাষ্ট্রে পরিণত করবে। সেই কারণে জুলাই ঘোষণাপত্র জারি করে সংবিধান বাতিল করে দেওয়া। এর পর তাদের দাবি থাকবে, রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন চুপ্পুকে সরিয়ে তার জায়গায় ইউনুসকে রাষ্ট্রপতি হিসাবে বসানো। এরপরের দাবি, সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ জামানকে সরিয়ে নিজেদের পছন্দমত কাউকে সেনাপ্রধান হিসাবে বসানো। সর্বশেষ জামাতি ইসলামির ইচ্ছে, গোটা ভারতবর্ষ জুড়ে ইসলামী আধিপত্য ঘিরে তোলা। সেইজন্য তাদের টার্গেটে রয়েছে ভারতের পূর্ব প্রান্ত। এদিকে যেভাবে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আন্দোলন তৈরি করে সেই সরকারের পতন ঘটানো হয়েছিল, ঠিক একইভাবে ঈদের পর সেনাপ্রধান রাষ্ট্রপতি বিরুদ্ধে আন্দোলন তৈরি করে সাধারণ মানুষকে বোঝাতে মরিয়া হয়ে উঠবে, যে মোহাম্মদ ইউনূসকে চায় বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ। তবে এটা কতটা সফল হবে জামাত, সেটা প্রশ্নাতীত। এমনকি যেভাবে বাংলাদেশের অন্দরে একাধিক বিষয়ে উত্তাল পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে, সেখানে সেনাপ্রধান নাকি শেখ হাসিনার সঙ্গে ফোনে কথা পর্যন্ত বলেছেন। গোপন সূত্রে খবর, শেখ হাসিনা জেনারেল ওয়াকার কে আশ্বস্ত করেছে। এমনকি ভারত, রাশিয়া ওয়াকারকে আশ্বস্ত করেছেন তার পাশে থাকবে। ফলে জামাত জুলাই ঘোষণা পত্র নিয়ে রাস্তায় নামার আগেই সেনাপ্রধান কে রাস্তায় নামতে হবে। বলছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। তাই ঈদের পরই এই আক্রমণ এবং পাল্টা আক্রমণ শুরু হবে বলে খবর। অর্থাৎ বলা যায়, সিদ্ধান্তহীনতা বাদ দিয়ে, ভাষণ শেষ করে, শেষমেষ রাস্তায় নামবেন সেনাপ্রধান। তবেই লড়াই কিভাবে হবে? তার একটা সম্ভাবনার জোরালো কথা উঠে আসছে রাজনৈতিক মহলে। রাষ্ট্রপতি সাংবিধানিক প্রধান হিসেবে উপদেষ্টা মন্ডলীর একাধিক সদস্যকে সরিয়ে দিতে পারেন। ইতিমধ্যেই বঙ্গভবন ঘিরে ফেলা হয়েছে সেনাবাহিনীর তরফে। যাতে কোনরকম আক্রমণ আসতে না পারে রাষ্ট্রপতির ওপর। তারপরে নির্বাচন করিয়ে একটি নতুন স্থায়ী সরকার গঠন করার পরিকল্পনা কষা হচ্ছে। এমনকি সেখানে জেনারেল ওয়াকার প্রধান হয়েও বসতে পারেন বলে অনেকে বলছেন।অর্থাৎ ঈদের পরই একটা প্রবল আন্দোলনের ঝড়ের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।












Discussion about this post