বাংলাদেশে মিথ্যা খবর প্রকাশ করলে, সুযোগ নেয় ভারত”। ঈদের নিরাপত্তা প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে এমনই মন্তব্য করলেন বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গির আলম চৌধুরী। পাশাপাশি তিনি এও দাবি করেন, বাংলাদেশে পুলিশ প্রশাসন ঠিকঠাক কাজ করছে, কোখাও কোনও গোলমাল নাই। প্রশ্ন উঠছে, মুহাম্মদ ইউনূসের ভয় ঠিক কোন জায়গায়?
বাংলাদেশের পরিস্থিতি নিয়ে ভারতীয় গণমাধ্যম ভুল খবর পরিবেশন করছে, ভারতীয় গণমাধ্যম গুজব রটাচ্ছে, ভারতীয় গণমাধ্যম বাংলাদেশে নাক গলানোর চেষ্টা করছে। বিগত নয় মাস ধরে বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গির আলম চৌধূরী নানা সময় এই ধরণের মন্তব্যই করে এসেছেন। তিনি যে কোনও পরিস্থিতির জন্য ভারত সরকার অথবা ভারতীয় গণমাধ্যমকেই দায়ী করে দায় এড়িয়ে এসেছেন। এবার তিনি যা বললেন, সেটা শুনে তুমুল ক্ষিপ্ত বাংলাদেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। কি এমন বললেন অবসরপ্রাপ্ত সেনা আধিকারিক তথা মুহাম্মদ ইউনূস সরকারের গুরুত্বপূর্ণ এই উপদেষ্টা?
বোঝাই যাচ্ছে, তিনি সেখানে উপস্থিত বাংলাদেশি সাংবাদিকদের প্রচ্ছন্ন হুঁশিয়ারি দিচ্ছেন। তাঁর কথার মানে দাঁড়ায়, সব ঠিক ঠাক লিখবেন, সাবধান একটু ভুল হলেই প্রতিবেশী দেশ অর্থাৎ ভারত আমাদের হাসির খোরাক করবে। প্রসঙ্গত, বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি, সরকারপ্রধান, প্রধান বিচারপতি, বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক, রাজনীতিবিদ, সচিব ও আমলা-সহ ভিভিআইপি মানুষ সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে জাতীয় ঈদগাহ মাঠে ঈদের নামাজ পড়ে থাকেন। ফলে সেখানে কড়া নিরাপত্তা জোরদার করা হয় আগে থেকেই। সেটারই পর্যালোচনা করতে গিয়েছিলেন বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গির আলম চৌধুরী। ঈদের ছুটিতে ফাঁকা ঢাকার নিরাপত্তা নিয়ে তাঁকে প্রশ্ন করা হলে, উপদেষ্টা বলেন, “আমাদের এখানে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। প্রায় ৫০০ পেট্রোল রাখা হচ্ছে, অলিগলি সব জায়গা কভার করা হচ্ছে।
এরপরই তিনি বলেছেন, ছোটখাট দুই একটা ঘটনা অনেক সময় ঘটে যায়, এটাও যেন না ঘটে এজন্য আমরা পর্যাপ্ত ব্যবস্থা রয়েছে। এই সময়ই তিনি বলেন, মিথ্যা সংবাদ পরিবেশন করবেন না। মিথ্যা সংবাদ লিখলে প্রতিবেশী দেশ সেটা ফলাও করে ছাপবে। কিন্তু বাংলাদেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি কি সত্যিই ভালো নাকি এখনও সেটা অনিয়ন্ত্রিত? বাংলাদেশে, চুরি, ছিনতাই বা ডাকাতির ঘটনা যদি নাই ঘটে, তাহলে সেখানে উপস্থিত সাংবাদিকরা এই প্রশ্ন করবেন কেন? সাংবাদিকরা স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টাকে এই প্রশ্নও করেন, আসামীরা জেল থেকে ছাড়া পেয়ে যাচ্ছেন, এতে অপরাধের সংখ্যা বাড়ছে। এর উত্তরে জাহাঙ্গির আলম চৌধুরী বলেন, এটা তো আমার হাতে না। আটক করার পরে যে ছেড়ে দেয় ওইটাতো আমার পুলিশ ছাড়ে না। সে তো কোর্ট থেকে ছেড়ে দেয়। কিন্তু বের হয়ে যদি আবার কোনও রকমের অবৈধ কাজে লিপ্ত হয়, তাঁকে ছাড় দেওয়া হয় না। এই প্রশ্ন এবং উত্তরের মাঝেই লুকিয়ে আছে আসল রহস্য। যা ভারতীয় গণমাধ্যম বরাবর বলে আসছে। ইউনূসের আমলে শত শত দাগী অপরাধী ও জঙ্গিদের জেল থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। এর ফলে রাজধানী ঢাকা সহ বাংলাদেশের বিভিন্ন শহরে অপরাধ বেড়েছে। আর সেই খবর প্রকাশ করলেই সেটা মিথ্যা খবর হয়ে যায় এই স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার কাছে। নিজের দাবি নিজেই খণ্ডন করে নিজেই হাসির খোরাক হলেন জাহাঙ্গির আলম চৌধুরী।












Discussion about this post