আমেদাবাদের ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনার ২৪ ঘণ্টা পার হয়ে গেল। এখনও স্বাভাবিক হয়নি গুজরাটের এই শহর। এখনও পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা ২৬৫ জন। আহতদের মধ্যে অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক। আবার ধ্বংসস্তুপের ভিতরেও কিছু দেহ পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। কিন্তু এখন একটাই প্রশ্ন সকলের মনে ঘোরাফেরা করছে, কিভাবে ঘটে গেল এত ভয়াবহ দুর্ঘটনা? কারও গাফিলতি, নাকি যান্ত্রিক গোলযোগ। অন্তর্ঘাত নাকি নাশকতার কারণে এই দুর্ঘটনা। এই মুহূর্তে কোনও সম্ভাবনাই উড়িয়ে দেওয়া যায় না। বর্তমান সময় হল তথ্য ও প্রযুক্তির, বিশেষ করে সোশ্যাল মিডিয়ারও। ফলে আহমেদাবাদের বিমান দুর্ঘটনার বেশ কয়েকটি ভিডিও ফুটেজ ইতিমধ্যেই ভাইরাল হয়েছে। তাতেই বোঝা যাচ্ছে, মাত্র কয়েক মিনিট সময় পেয়েছিলেন ওই অভিসপ্ত বিমানের দুই পাইলট। বিমানটি কয়েকশো ফুট ওড়ার পরই দ্রুত নিচের দিকে নেমে আসতে শুরু করে, তখনও বিমানের নাক বা সামনের দিকের অংশ উপরের দিকে ছিল। বিমানের ল্যান্ডিং গিয়ার বা পিছনের চাকাগুলি নামানো ছিল। আর সবচেয়ে আশ্চর্যের ওই বিমান মাটিতে আছড়ে পড়ার মুহূর্ত পর্যন্ত কোনও ধোঁয়া বা আগুন দেখা যায়নি। স্বাভাবিকভাবেই এই ভিডিও ফুটেজগুলি অনেক প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।
একটি সূত্র থেকে জানা যাচ্ছে, এয়ার ইন্ডিয়ার এই বিমানটি দুর্ঘটনার আগের দিন প্যারিস থেকে দিল্লি এসেছিল। বৃহস্পতিবার সকালে দিল্লি থেকে সেটি আহমেদাবাদ আসে। সেই বিমানই দুপুরে এআই-১৭১ নম্বর নিয়ে আমেদাবাদ থেকে লন্ডনের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করেছিল। একটি বিমানকে বিশ্রাম না দিয়ে পরপর ব্যবহার করা কিংবা তাঁকে প্রয়োজনীয় রক্ষণাবেক্ষণের সময় না দেওয়া এই সমস্ত প্রশ্ন উঠছে। কেউ কেউ মনে করছেন, ওই বিমানটিতে রক্ষণাবেক্ষণ সংক্রান্ত গাফিলতি রয়ে গিয়েছিল। তবে বিমানটি ওড়ানোর একমিনিটের মধ্যেই পাইলট তাঁর নিয়ন্ত্রণ হারান। তিনি শেষ মুহূর্তে “মে-ডে” কল দিয়েছিলেন আহমেদাবাদের এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলকে। অর্থাৎ বিমানের নিয়ন্ত্রণ হারানোর নির্দেশনা। জানা যাচ্ছে, এয়ার ইন্ডিয়ার অভিজ্ঞ পাইলট এটিসিকে বলেছিলেন, “নো থ্রাস্ট, লুসিং পাওয়ার, আনেবেল টু লিফ্ট”, এরপরই মে-ডে কল দেন তিনি। কিন্তু এটিসি আধিকারিকরা উপায় খোঁজার আগেই সব শেষ, বড়জোড় এক-দেড় মিনিট লেগেছিল বিমানটি মাটিতে আছড়ে পড়তে। পাইলটের এই তিনটি সংক্ষিপ্ত বাক্যেই লুকিয়ে আছে পুরো দুর্ঘটনার ট্যাডেজি। আর এখান থেকেই অন্তর্ঘাতের সম্ভাবনা উড়িয়ে দিচ্ছেন না ওয়াকিবহাল মহলের কয়েকটি অংশ।
অপারেশন সিঁদুরের পর ভারত সরকার বেশ কয়েকটি বড় পদক্ষেপ নিয়েছিল। যেমন অপারেশন সিঁদূরে সরাসরি পাকিস্তানের পক্ষ নেওয়ায় তুরস্কের সংস্থা সেলেবি অ্যাভিয়েশনের লাইসেন্স বাতিল করেছিল ভারতের অসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রক। তুরস্কের সংস্থা সেলেবি অ্যাভিয়েশন কিছুদিন আগে পর্যন্ত এয়ার ইন্ডিয়ার বিমান রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে ছিল। যা নিয়ে এখনও বিতর্ক চলছে, আদালতে মামলাও চলছে। সঙ্গে কী এর কোনও যোগ থাকতে পারে? এই প্র্শ্নটা কিন্তু উঠছে। কারণ, দুর্ঘটনাগ্রস্ত বিমানের পাইলটের “নো থ্রাস্ট, লুসিং পাওয়ার, আনেবেল টু লিফ্ট”, কথাটির অর্থ হল বিমানের ফ্ল্যাপ, এলেভেটর ও থ্রাস্ট কন্ট্রোল কাজ করছিল না। প্রশ্ন উঠছে, কারা বিমানটির ফিট-ফর-ফ্লাই সার্টিফিকেট ইস্যু করেছিলেন? কেউ কি চেকলিস্ট এড়িয়ে গিয়েছিল? নো থ্রাস্ট মানেই জ্বালানি সরবরাহ বা ফ্লো সিস্টেম ব্যর্থ হয়েছিল। সেটা কেন হল? বিমানটি দিল্লি থেকে আহমেদাবাদে আসার মাত্র দুই ঘন্টার ব্যবধানে লন্ডনের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেছিল। বিমানসংস্থার তরফেই কি তাড়াহুড়ো ছিল? কিভাবে এত কম সময়ে পুরো ফ্লাইট সেফটি চেক করা সম্ভব, যেখানে বিমানটি ননস্টপ দীর্ঘ ৯ ঘণ্টা উড়ান ভরবে! ফলে তদন্তের আওতায় অবশ্যই পুরো রক্ষণাবেক্ষণ এবং ইঞ্জিনিয়ারিং টিম আসবে। সেই সঙ্গে আসবে গ্রাউন্ড হ্যন্ডলিং টিমের ভূমিকাও। আর এখানেই আসছে অন্তর্ঘাতের তত্ত্ব। কারণ, বিমানটি ইঞ্জিনে পাখির ধাক্কা হলে, একটি ইঞ্জিন কাজ করার কথা। কিন্তু পাইলটের দাবি ছিল “নো থ্রাস্ট, লুসিং পাওয়ার, আনেবেল টু লিফ্ট” অর্থাৎ, পর্যাপ্ত শক্তি নেই, বিমানটিকে উপরে তুলতে পারছি না। কারণ, ফ্লাইটরাডার২৪ সংস্থার দাবি, সাড়ে এগারোশো মিটার রানওয়ের মাঝামাঝি জায়গা থেকেই বিমানটি উড়েছিল। অর্থাৎ সমস্ত নিয়ম মেনেই বিমানটি উড়িয়েছিলেন পাইলট। কি এমন হল, যে মাত্র কয়েক সেকেন্ডেই তিনি বিমানের নিয়ন্ত্রণ হারালেন? উত্তর নিশ্চই পাওয়া যাবে সঠিক উপায়ে তদন্ত হলে।












Discussion about this post