এসএসসি নিয়োগে দুর্নীতির জন্য প্রায় ছাব্বিশ হাজারের চাকরি বাতিল করে দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্টে। নতুন করে ফের পরীক্ষা নেওয়ার নির্দেশ দেয় দেশের সর্বোচ্চ আদালত। তবে চিহ্নিত অযোগ্যরা যাতে পরীক্ষায় বসতে না পারে সেটাও স্পষ্ট করে দিয়েছিল আদালত। যা নিয়ে এখনও চাপান উতর চলছে। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুসারে পশ্চিমবঙ্গ এসএসসি নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করে বিজ্ঞপ্তি জারি করে। অভিযোগ ওঠে, আদালতের নির্দেশ অমান্য করেই অযোগ্যদের পরীক্ষায় বসার সুযোগ করে দেওয়া হচ্ছিল। এই অভিযোগে একযোগে ৯টি মামলা হয় কলকাতা হাইকোর্টে। সেই মামলায় গতকালই হাইকোর্টের একক বেঞ্চ স্পষ্ট জানায় অযোগ্যদের পরীক্ষা থেকে বাদ দিয়ে নিয়োগ প্রক্রিয়া চালাতে হবে। কিন্তু একক বেঞ্চের রায়কে চ্যালেঞ্জ করে ডিভিশন বেঞ্চে যায় পর্ষদ ও রাজ্য সরকার। বিরোধীদের অভিযোগ, রাজ্য সরকার কেন বারবার অযোগ্যদের জন্য সহানুভূতি দেখাচ্ছে? কী উদ্দেশ্য তাঁদের? তাৎপর্যপূর্ণভাবে এবার একই প্রশ্ন তুলল কলকাতা হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চও।
এই মামলায় আদালতের স্পষ্ট পর্যবেক্ষণ, কমিশনের কাজ হল যোগ্যদের সুযোগ করে দেওয়া, অযোগ্যদের পক্ষে সওয়াল করা নয়। বিচারপতির মন্তব্য, “এসএসসি কি ভুলে যাচ্ছে, আদালত স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়ার উপর নজর রাখছে? দাগি প্রার্থীদের পক্ষে সহানুভূতি চলবে না”। এই মামলায় স্কুল সার্ভিস কমিশনের হয়ে সওয়াল করছেন আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, যিনি আবার তৃণমূল সাংসদও বটে। সওয়াল করতে গিয়ে তাঁর পাল্টা যুক্তি, একটা ভুলের জন্য কতবার শাস্তি? আইনে একবার। প্যানেল বাতিলের পর তাহলে আবার কেন শাস্তি? অপরদিকে রাজ্যের হয়ে এজি বলেন, “যদি সব প্রক্রিয়া খারাপ ভাবে হয়েই থাকে, তাহলে যাঁরা পাশ করে বেরিয়ে গেলেন তাঁরা কীভাবে সেটা করলেন?
রাজ্য সরকারের যুক্তি, বাতিলের ক্ষেত্রে ভবিষ্যতে তাদের নিয়োগে বাধা নাও থাকতে পারে। যদি সেটা হত তাহলে অর্ডারে সেই ভাবে লেখা থাকত। বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলির প্রশ্ন, রাজ্য সরকার কেন চিহ্নিত অযোগ্যদের প্রতি এত সহানুভূতি কেন দেখাচ্ছে? তাঁদের যুক্তি, আসলে ঘুষের টাকায় যাদের চাকরি হয়েছে, তাঁরা এখন টাকা ফেরত চাইচ্ছে। সবটা ধামাচাপা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। সামনেই বিধানসভা নির্বাচন, তাই এখন যদি ঘুষ ও কাটমানি নিয়ে দিকে দিকে অভিযোগ উঠতে শুরু করে তাহলে তা তৃণমূল নেতাদের জন্য খুব একটা সুখকর পরিস্থিতি তৈরি করবে না। ২৬ হাজার পরিবার এখানে জড়িত, তাঁদের জীবন ও জীবিকা জড়িত। সেই কারণে কখনও ভাতার ব্যবস্থা করে বা হাইকোর্ট ও সুপ্রিমকোর্টে বারবার আপিল করে মামলাটি আপাতত ঝুলিয়ে রাখতে চাইছে রাজ্য সরকার। তাতে কিছুটা হলেও সামাল দেওয়া যাবে বলে মনে করছেন তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব। এই কারণেই অযোগ্যদের জন্য সহানুভূতি দেখাচ্ছে রাজ্য সরকার।












Discussion about this post