এখনও পুরোপুরি এক বছর হয়নি বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতায় এসেছে। উপদেষ্টা মন্ডলীতে থেকে ছাত্র নেতারা দেশ চালাচ্ছেন। এমনকি ছাত্র নেতাদের রাজনৈতিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টির বয়স আরও কম। তার মধ্যেই একের পর এক কুকীর্তি সামনে আসছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে একটি ভিডিও। সেখানে দেখা যাচ্ছে, জাতীয় নাগরিক পার্টি বা এনসিপির এক নেতা এক মহিলার থেকে ৭ লক্ষ টাকা নিচ্ছেন। যে এনসিপি নেতাকে দেখা যাচ্ছে, তার নাম ইমামুর রশিদ। যদি এই অভিযোগ এবং ভিডিও সত্যি হয়ে থাকে, তবে ছাত্র নেতারা এত সাহস পাচ্ছেন কোথা থেকে? এমন প্রশ্ন যেমন উঠছে, ঠিক একইভাবে প্রশ্ন উঠছে, ছাত্র নেতাদের মাথার উপর হাত রয়েছে মহম্মদ ইউনূসের। তারপরও কেন লাগাম টানা যাচ্ছে না এই সমস্ত দুর্নীতির? নতুন বাংলাদেশ গড়ার বদলে দেশ লুঠছেন তারা? যে ভিডিও সামনে এসেছে সেই ভিডিও আবার সোশ্যাল মিডিয়াতে পোস্ট করেছেন বিএনপি নেতা ড. এ কে এম ওয়াহিদুজ্জামান।
তিনি ফেসবুকে লেখেন, এটি চলতি বছর ১৪ই মে ৯ টা ২১ মিনিটে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় তোলা ভিডিও। ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, জাতীয় নাগরিক পার্টির নেতা ইমামুর রশিদ একজন নারীর কাছ থেকে ৭ লক্ষ টাকা গ্রহণ করছেন। তখন ওই নারীকে বলতে শোনা যায়, এখানে ৭ লক্ষ টাকা, ১০ লক্ষ থাকার কথা ছিল ভাই। একটু ক্রাইসিস বুঝেন না! তখন ওই এনসিপি নেতা বলেন, ভাইকে বলছেন? ওই মহিলা জানান, হ্যাঁ বলেছি। জানা যায়,
বিভিন্ন প্রজেক্টে কাজ দেওয়ার আশ্বাসে ওই মহিলা নাকি জাতীয় নাগরিক পার্টিকে বিভিন্ন সময় প্রায় ৪৮ লক্ষ টাকা চাঁদা দিয়েছেন। কিন্তু পরবর্তীকালে কোনও কাজ বা প্রজেক্ট কিছুই দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ।
এদিকে ইমামুর রশিদ ওই বিএনপি নেতাকে জবাব দিয়েছেন এই বিষয়ে। সোশ্যাল মিডিয়াতে তিনি লেখেন, ভিডিওতে যে মহিলার কন্ঠ শোনা যাচ্ছে, তিনি গত মে মাসের প্রথম দিকে জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক এবং দুই অঞ্চলের মুখ্য সংগঠকদ্বয়ের সঙ্গে দেখা করেন। সেখানে তিনি স্বেচ্ছায় পার্টি ফান্ডে চাঁদা দিতে ইচ্ছে পোষণ করেন। এছাড়াও তিনি একাধিকবার পার্টি অফিসে এসে অন্যান্য কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের সঙ্গে দেখা করেন। তিনি জানান, ইতিপূর্বে তিনি জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশনে আর্থিক অনুদান দিয়েছিলেন। সেটা আমরা পরবর্তীতে ভেরিফাই করেছিলাম। ঘটনাটি যেদিনের সেদিন সন্ধ্যে ওই মহিলা পার্টি ফান্ডে ১০ লক্ষ টাকা দেবে বলে পার্টির পক্ষ থেকে একজনকে পাঠাতে বলেন। দলের পক্ষ থেকে সেই পার্টি ফান্ড সংগ্রহ করার জন্য আমাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। আমি সেটি সংগ্রহ করে দলের কোষাধক্ষে জমা করি। আমি একজন সদস্য হিসাবে আমার দায়িত্ব পালন করেছি। এর থেকে বেশি কিছু নয়।
ওই ছাত্রনেতা আরও লেখেন, দলের ফান্ডের জন্য যে কেউ দলকে আর্থিক অনুদান দিতে পারে, এটাই স্বাভাবিক। পরে জানতে পারি, ওই মহিলা আমাদের দলের শীর্ষ নেতৃত্বের কাছে কিছু অনৈতিক দাবি করেন। কিন্তু শীর্ষ নেতৃত্ব সেই দাবী মানতে নারাজ হওয়া দূরত্ব তৈরি হয়। যার পরিপ্রেক্ষিতে তিনি এই ভিডিওটি অন্য কাউকে দিয়ে সোশ্যাল মিডিয়াতে ছড়িয়ে দিয়েছেন। এখন বুঝতে পারছি, তার উদ্দেশ্য অসৎ ছিল এবং তার স্বার্থসিদ্ধির জন্য তিনি দলের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করতে চেয়েছিলেন। না হলে তিনি কেন অনুদানের ভিডিও গোপনে রেকর্ড করেছিলেন?
ইমামুর রশিদ আরও লেখেন। তিনি লেখেন, দল তার কাছে আগে অ্যাপ্রোচ করেনি। তিনিই করেছিলেন। এবং তিনি কি পরিমান অনুদান দেবেন, সেটা নিজেই ঠিক করেছেন। এর পাশাপাশি আরেকটি কথা লেখেন। জাতীয় নাগরিক পার্টি অনুদানের বিনিময়ে কোনও কাজ করে দেবে, তার কোনও কমিটমেন্ট করে না। এর পাশাপাশি তিনি যে ৪৮ লক্ষ টাকার অনুদানের কথা বলেছেন, সেটাও মিথ্যে।
অর্থাৎ ইমামুর রশিদ দলকে বাঁচানোর জন্য এবং নিজেকে বাঁচানোর জন্য সোশ্যাল মাধ্যমে পুরোটাই তুলে ধরেছেন। তবে এর মধ্যে সত্যিই কোনও গলদ রয়েছে কিনা, সেটা নিয়েই ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। এর কারণ ওই মহিলাদের অভিযোগ করছেন, সেটা আদতে সত্যি না মিথ্যা, সেটার প্রশাসনের দেখা উচিত বলে মনে করছেন ওয়াকিবহাল মহল।
উল্লেখ্য, জাতীয় নাগরিক পার্টির নেতা সালাউদ্দিন তানভীরের বিরুদ্ধে ৪০০ কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। যেটা দুদক নাকি তদন্ত করছে। তাকে তার পদ থেকে সাময়িকভাবে সরালেও তাকে বহিষ্কার করা হয়নি। অর্থাৎ এই ঘটনা নতুন নয়। হঠাৎ এমন অভিযোগ উঠে এলোই বা কেন? এই প্রশ্ন উঠছে। শেখ হাসিনার আমলের যা যা ঘটেছে, সেগুলো যদি পুনরাবৃত্তি হয়, তবে বাংলাদেশের জনগণকে দেখানো ছাত্র নেতাদের নতুন বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন, কোথায়?












Discussion about this post