গোপালগঞ্জের ঘটনায় মুখ পুড়েছে সেনা প্রধান এবং সেনাবাহিনীর। এমনকি সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে ঘটনা সম্পর্কে বিবৃতি দেওয়া হলেও স্পষ্ট করা হয়নি, কেন গুলি চালানো হয়েছে। সরকারের তরফেও একই অবস্থান। এই পরিস্থিতিতে রবিবার সেনানিবাসের অনুষ্ঠানে উপস্থিত হলেন বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনূস। তবে কি সেনাবাহিনীকে ভয়ংকর কোনও বার্তা দিতে চলেছেন ইউনূস? এমন প্রশ্ন উঠেছিল। তবে উল্টে দেখা গেল সেনাবাহিনীর প্রশংসায় পঞ্চমুখ প্রধান উপদেষ্টা।
বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনূস একটি মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেছেন, সেনা আধিকারিকদের পদোন্নতির ক্ষেত্রে রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা সৎ, নীতিপরায়ন, পেশাদার এবং নেতৃত্বের গুণাবলী সম্পন্ন কারীদের গুরুত্ব দেওয়া উচিত। সেনানিবাসের সেনাসদর নির্বাচনী পর্ষদ-২০২৫ এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন মহম্মদ ইউনূস। তিনি এই অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ছিলেন। আর রবিবার সেখানেই এই মন্তব্য করেন তিনি। তার মন্তব্যে রাজনৈতিক নিরপেক্ষতার প্রসঙ্গ উঠতেই অনেকে প্রশ্ন তুলছেন। তিনি এই মুহূর্তে দেশের প্রধান হয়ে রাজনৈতিক নিরপেক্ষতার কাজ কি করছেন? তিনি তো একটি রাজনৈতিক দল গঠন করেছেন। সেটা তো সবাই জানে। তারাই পিছন থেকে সরকার চালাচ্ছে, বা সরকার তাদের সমর্থন করে সেটা প্রমাণিত।
এদিন মহম্মদ ইউনূস পদোন্নতি পর্ষদের বক্তব্যে শুরুতেই স্মরণ করেন মহান স্বাধীনতাযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী সব শহীদ, যুদ্ধাহত ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের। এছাড়াও তিনি বলেন, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ শান্তিশৃঙ্খলা, স্থিতিশীলতা ও দুর্যোগ মোকাবিলায় বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে। বর্তমানে সেনাসদস্যরা বেসামরিক প্রশাসনকে সাহায্য করার জন্য তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব বেশ কিছু সময় ধরে পালন করে যাচ্ছেন। দেশের প্রয়োজনে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর এই ত্যাগের জন্য সেনাপ্রধান থেকে সেনাবাহিনীর সমস্ত সদস্যকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান। অর্থাৎ গোপালগঞ্জে সেনাবাহিনী যা করেছে, যেটা আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে পর্যন্ত সমালোচিত হয়েছে, তিনি সেটাকে সমর্থন করছেন।
শুধু তাই নয় শোনা যাচ্ছে, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মাজার ভাঙ্গা যেমন পরিকল্পনা চলেছে, একইভাবে সংসদ ভবনের পাশে জিয়াউর রহমানের সমাধি ভাঙার পরিকল্পনা চলছে। অর্থাৎ একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধকে মুছে ফেলতে চাইছে এখনকার নেতারা। এমনকি বিএনপিকেও নিশ্চিহ্ন করার একটা প্রক্রিয়া চলছে। আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করে দিয়ে একরকম তার শিখর উপড়ে ফেলা গিয়েছে। এবার বিএনপিকে করা গেলে কারা দেশ চালাবে? রাজাকাররা? এমন নানা প্রশ্ন উঠে আসছে বাংলাদেশের অন্দর থেকেই।












Discussion about this post