বাংলাদেশের গোপালগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির উপর হামলার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন পিনাকী ভট্টাচার্য। যিনি নিজেকে একজন লেখক, বাংলাদেশে অ্যাক্টিভিস্ট এবং রাজনৈতিক বিশ্লেষক হিসেবে দাবি করেন। সুদূর ফ্রান্সে বসেই তিনি বরাবর বাংলাদেশের ছাত্রনেতাদের পরামর্শ বা কু-মন্ত্রণা দিয়ে চলেছেন। সেই পিনাকী এবার গোপালগঞ্জের ঘটনা নিয়ে নিজের সুচিন্তিত মতামত দিলেন। এক দীর্ঘ ফেসবুক পোস্টে তিনি লিখলেন, “গোপালগঞ্জে আমরা ঢুকতে পারবো না। ঢুকলেও বাইর হতে পারবো না। এই ছিলো মিথ। এই মিথ চুরমার হয়ে গেছে। রাজনৈতিক দলের কর্মসূচিকে নিরাপত্তা দেওয়া পুলিশের কর্তব্য। এনসিপি মাইরপিট করতে যায় নাই। সভা করতে গেছে। এনসিপির হাতে অস্ত্র ছিল না, ওদের হাতে ছিলো”। পাশাপাশি তিনি এও দাবি করেন, গোপালগঞ্জ থাকবে না, থাকবে শুধু বাংলাদেশ। এমনকি গোপালগঞ্জের বাসিন্দাদের দেখে নেওয়ারও হুমকি দিয়েছেন।
পিনাকী ভট্টাচার্য তাঁর ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে পিনাকী লিখেছেন, গোপালগঞ্জে বিপ্লব পরবর্তী স্বাধীন বাংলাদেশ সরকারের সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠিত হয় নাই। এখানে আওয়ামী লীগের গুণ্ডারা যারা পালাতে পারেনি, তাঁরা আশ্রয় নিয়েছে। তাঁরাই অস্ত্র সংগ্রহ করে বাংলাদেশ সরকারের বিরুদ্ধেই যুদ্ধ ঘোষণা করেছে। তাঁর হুমকি, গোপালগঞ্জবাসী যেন আওয়ামী লীগ নেতাদের আত্মসমর্পন করতে বাধ্য করে, না হলে আর্মি-পুলিশ লাগবে না, সাধারণ মানুষই গিয়ে গোপালগঞ্জের সাল্পাই চেইন বন্ধ করে দেবে। তাঁর কথায়, এটা হবে সিভিল প্রোটেস্ট, একটা মিলিট্যান্ট এরিয়ার বিরুদ্ধে। অর্থাৎ, গোপালগঞ্জ হল সন্ত্রাসী এলাকা, যেটা বাংলাদেশ সেনাবাহিনী বলেছিল তাঁদের বিবৃতিতে। বাংলাদেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ এটাকে ভনায়ক এক হুমকি হিসেবেই দেখছেন।
এখন প্রশ্ন হল, পাগলেও নিজের ভালো বোঝে। এই আপ্ত বাক্য কেন বুঝছে না এনসিপি নেতারা। তাঁরা কেন পিনাকী, ইলিয়াসের মতো বিদেশে নিরাপদে বসে থাকা কিছু মানুষের পরামর্শে নিজেদের বিপদ নিজেরা ডেকে আনছেন? আওয়ামী লীগ বাংলাদেশে নিষিদ্ধ নয়, তাঁদের রাজনৈতিক কর্মসূচি নিষিদ্ধ করেছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। গোপালগঞ্জে রাজনৈতিক কর্মসূচি নিয়েছিল জাতীয় নাগরিক পার্টি। কিন্তু সেই কর্মসূচির আগে তাঁরা নানারকম হুমকি দিয়েছিল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের মাজার বা সমাধি ধ্বংসের। সেটা নিয়েই ক্ষেপে গিয়েছিল গোপালগঞ্জের সাধারণ মানুষ। তাঁরাও হুমকি দিয়েছিল। এ নিয়ে গোয়েন্দা রিপোর্টও ছিল। তবুও কেন আগেভাগে সতর্ক হল না মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার? কেন প্রথমেই মৃতদেহ কবর দিয়ে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা হল? আজ চাপে পড়ে মৃতদেহ কবর থেকে তুলে নতুন করে ময়নাতদন্ত করতে হচ্ছে। কিন্তু আন্তর্জাতিক মঞ্চে বাংলাদেশের যা বদনাম হওয়ার তা হয়ে গিয়েছে। অথচ, পিনাকী, ইলিয়াসরা এখনও উস্কে যাচ্ছেন এনসিপি নেতাদের। আর তাঁরাও ছাগলের তিন নম্বর বাচ্চার মতো লাফিয়ে বেরাচ্ছে বাংলাদেশ জুড়ে। কখনও তাঁরা আওয়ামী সমর্থকদের হাতে মার খাচ্ছেন, কখনও বিএনপি তাঁদের মারছে। তবুও তাঁরা বুঝছেন না, রাজনৈতিক জমি অনেক শক্ত। এভাবে কিছু হাসিল করা যায় না। কয়েকজন বিদেশ-বিভুঁইয়ে বসে তাঁদের এভাবে উস্কে যাবে, আর তাঁরা সাত-পাঁচ না ভেবেই কর্মসূচি নেবেন, মন্তব্য করবেন। পিনাকী ভট্টাচার্য যেভাবে ফেসবুকে গালাগালি দেন, এটা তাঁর ব্যক্তিগত পরিচয়। তিনি এখনও বুঝছেন না, ফ্রান্স তাঁকে রাজনৈতিক আশ্রয় দিয়েছে মানে সেটা চিরতরে নয়। যে দিন সেই আশ্রয় তুলে নেওয়া হবে, সেদিনই তাঁর জারিজুরি শেষ হয়ে যাবে। সেদিন কি হবে নাহিদ, হাসনাত বা সারজিসদের?











Discussion about this post