যখনই গুরুতর বিপদের আঁচ পান, তখনই তড়িঘড়ি প্রধান রাজনৈতিক দলগুলি সঙ্গে বৈঠকে বসেন বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনূস। এমনকি নিজের কাজ অন্যের ঘরে চাপিয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রেও রাজনৈতিক দলগুলির সঙ্গে বৈঠক করে দায় সারতে চান তিনি। বাকি সময় তিনি বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে ক্ষমতার স্বাদ নেন। এদিকে বিএনপি প্রধান উপদেষ্টার ডাক পেলে তড়িঘড়ি হাজিরা দেয়। অথচ প্রথম থেকে লক্ষ্য করলে দেখা যাবে, মহম্মদ ইউনূস কিভাবে বিএনপিকে ঘোল খাইয়ে আসছে। ফলে অনেকে বলছেন, হয়তো বিএনপি বুঝতে পারছে না কিংবা কোন বিশেষ এক কারণে তারা বুঝেও না বোঝার ভান করছে। মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের উপর বিমান ভেঙে পড়ার ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে পড়ুয়া এবং তাদের পরিজনেরা। আহতদের সঠিক সংখ্যা প্রকাশের দাবি সহ আর অন্যান্য দাবি নিয়ে যেভাবে আন্দোলন তৈরি হয়েছে, তাতে এটা স্পষ্ট, মহম্মদ ইউনূসের পায়ের তলা থেকে মাটি সরে যাচ্ছে। আর ঠিক সেই সময় রাজনৈতিক দলগুলি সঙ্গে বৈঠকে বসলেন ইউনূস। বৈঠকে ডাকা হয়েছিল বিএনপি, জামাত, এনসিপি এবং ইসলামী আন্দোলন নামে একটি রাজনৈতিক দলকে। বৈঠকের পর যে ছবি সামনে এসেছে, তাতে দেখা গেল প্রাণ খুলে হাসছেন প্রধান উপদেষ্টা এবং বেশ কিছু প্রতিনিধি। এদিকে সেদিনই দেশে চলছে রাষ্ট্রীয় শোক। হলে সেই ছবি সামনে আসতেই ভাইরাল হয়েছে এবং বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। এমনকি চারটি রাজনৈতিক দলের মধ্যে এনসিপি কেন? প্রশ্ন উঠছে। তার কারণ এনসিপি এখনও নিবন্ধনই পায়নি। তাদের তো জন সমর্থনই তৈরি হয়নি। ফলে প্রশ্ন উঠছে, কিভাবে এই সরকারের অধীনে সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচন সম্ভব? কারণ তারা পদে পদে পক্ষপাতিত্ব প্রকাশ করছেন।
বৈঠক থেকে বেরিয়ে জামাতের প্রতিনিধি বলছেন, ফ্যাসিবাদী শক্তির ষড়যন্ত্র ঠেকাতে দেশীয় ফ্যাসিবাদ বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলির মধ্যে ঐক্য অটুট রাখা অত্যন্ত জরুরি বলে জানিয়েছে প্রধান উপদেষ্টা। অর্থাৎ ফ্যাসিবাদী বলতে তারা আওয়ামী লীগকে বুঝিয়েছে। কিন্তু প্রশ্ন, তার সরকার কি? দেশে এতবড় একটি দুর্ঘটনা ঘটে গেল অথচ তিনি তার ভবন থেকে বেরোলেন না। উপদেষ্টাদের পাঠিয়ে দিয়ে দায় সারলেন। কেন তিনি আহতদের দেখতে গেলেন? এমন প্রশ্ন স্বাভাবিকভাবেই উঠে আসছে।
পাশাপাশি ঐক্যবদ্ধের নামে যে বৈঠক করা হয়েছে সেটা ঘিরে কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্রেফ প্রতিরক্ষা বৈঠক। আসলে প্রধান উপদেষ্টা বুঝে গিয়েছেন, তার পায়ের তলা থেকে মাটি সরে গিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যতই প্রধান উপদেষ্টা চেষ্টা করুক, আন্দোলন রুখে দেওয়ার, তিনি ব্যর্থ হবেন। কোন ইসু কে কেন্দ্র করে আন্দোলন আরও তীব্র আকার ধারণ করবে, সেটা বলা কঠিন। কারণ শেখ হাসিনাও বহু চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু পারেননি।
গোপালগঞ্জের ঘটনার ছদিন পর সরকারের দুই উপদেষ্টা ঘটনাস্থলে গেলেন। তারা গিয়ে সংঘর্ষের প্রত্যেকটি জায়গা পরিদর্শন করেছেন। এদিকে পাঁচজন নিহত পরিবারের বাড়িতে যাননি তারা। কেন? প্রশ্ন উঠছে। তবে কি নিহতদের আওয়ামী লীগ কর্মী ভাবছেন তারা? কিন্তু আদতে তো তা নয়। এর মধ্যে অনেকে দিনমজুরও রয়েছেন। আর যদি আওয়ামী লীগ করেও থাকেন, তবে কি তারা মানুষের মধ্যে পড়েন না? আসলে এই সরকারের থেকে মানুষ আর কি আশা করবে? যদিও এখন সাধারণ ছাত্র এবং মানুষেরা বুঝে গিয়ে পথে নামছে এবং আন্দোলন তৈরি করছে। আর বেশি দিন সে টিকে থাকতে পারবেন না ইউনুস সেটা ধীরে ধীরে প্রমাণিত হচ্ছে।











Discussion about this post