বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের চলে যাওয়ার জন্য এখন চিন্তা করার সময় এসে গিয়েছে। সম্প্রতি এমনই মন্তব্য করে হইচই ফেলে দিয়েছিলেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের সম্মানীয় ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। শুধু তিনি নন, এক সেমিনারে তাঁর মতো অনেক বক্তাই তুলোধনা করেছিলেন মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে। বেশিরভাগ বক্তারই প্রশ্ন, এই এক বছরে বাংলাদেশের জন্য কি এমন কাজ করেছেন মুহাম্মদ ইউনূস ও তাঁর উপদেষ্টারা? তাঁদের দাবি, উন্নতির পরিবর্তে আরও খারাপের দিকে বাংলাদেশের অর্থনীতি ও শিল্প চিত্র। এই আবহে বাংলাদেশের আম জনতা যে আরও ক্ষিপ্ত তার প্রমান জুলাই আন্দোলনকারীদের মধ্যে মতবিরোধ।
বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার শাহবাগের অতি ব্যস্ত একটি রাস্তা ‘জুলাই যোদ্ধা’ নামধারী হাতে গোনা কয়েকজন ছাত্র টানা ৪০ ঘণ্টা অবরোধ করে রেখেছিলেন। শুক্রবার সন্ধ্যায় আরেক দল মানুষ নিজেদের ‘প্রকৃত জুলাই যোদ্ধা’ দাবি করে ওই অবরোধকারীদের ওপর হামলা চালায়। শুরু হয়ে যায় “জুলাই যোদ্ধা” এবং “প্রকৃত জুলাই যোদ্ধা” দাবি করা দুই গোষ্ঠীর মধ্যে লড়াই। এরপর আইন-শৃঙ্খলাবাহিনী এসে বেঝড়ক লাঠিপেটা করে দুই দলকেই এলাকা থেকে বের করে দেয়। এরপরই ব্যস্ততম শাহবাগ মোড় দিয়ে পুরোদমে যান চলাচল শুরু হয়। টানা ৪০ ঘণ্টা অবরোধের পর স্বস্তিতে নিঃশ্বাস ফেলেন ঢাকাবাসী। প্রসঙ্গত, প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনুসের বাসভবন যমুনার অদূরে গত দু’দিন ধরে ‘জুলাই ঘোষণাপত্র’ ও ‘জুলাই সনদ’ ঘোষণার দাবি জানিয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির সমর্থক ‘জুলাই যোদ্ধা সংসদ’ নামের একটি গ্রুপ বৃহস্পতিবার থেকে অবরোধ করে রেখেছিল। জানা যায়, ওই অবরোধে সামিল ছিলেন জনা তিরিশেক মানুষ। অথচ ১৪৪ ধারা বহাল থাকার পরেও জনা ২০-৩০ জন অবরোধকারীকে সরাতে সাহস পায়নি বাংলাদেশ সেনা ও পুলিশ। এর ফলে চরম দুর্ভোগে পড়া সাধারণ মানুষ ও নিত্যযাত্রীদের। এর জন্য তাঁরা অন্তর্ব্রতীকালীন সরকারকে তুলোধনাও করেন।
জনগণের ক্ষোভ আঁচ করে শেষ পর্যন্ত ছাত্রছাত্রীদের আর একটি গ্রুপ নিজেদের ‘আসল জুলাই যোদ্ধা’ দাবি করে ব্যারিকেড সরিয়ে অবরোধ তুলে দেয়। তখনই বীরপুঙ্গব সেনা-পুলিশ তাংদের ওপর নির্বিচারে লাঠি চালায়। মজার বিষয় হল, বাংলাদেশে জুলাই আন্দোলনের এক বছর পূর্তি অনুষ্ঠান চলছে। আর এই সময়ই গোলমালে জড়িয়ে পড়ছে জুলাই আন্দোলনের দুই গোষ্ঠী। যা নিয়ে বিতর্ক কম হচ্ছে না। ঘটনা হল, বিগত এক বছরে বাংলাদেশে জুলাই আন্দোলনের সমর্থক পরিচয়ে একদল যুব যা ইচ্ছা তাই করে চলেছেন। কেউ তাঁদের বাঁধা দেওয়ার নেই, কেউ তাঁদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদও করতে পারতেন না সাহস করে। অথচ তাঁরাই মব সৃষ্টি করে গণধোলাই থেকে শুরু করে চাঁদাবাজি করে যাচ্ছিলেন প্রকাশ্যে। আবার ক্ষমতা প্রদর্শন করতে গিয়ে ঢাকায় ঘনঘন অবরোধ, বিক্ষোভের নামে জনগণকে হেনস্থা করে আসছিলেন। এতে সাধারণ মানুষ ও রিকশাচালকেরাও আঙুল তুলতে শুরু করেছিলেন জুলাই আন্দোলনকারীদের গালাগালি দিয়েছেন। ইউনূসের সরকারকে অপদার্থ ও ব্যর্থ সরকার বলে ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন। যা সোশ্যাল মিডিয়ায় এবং হালে বাংলাদেশের গণমাধ্যমেও প্রতিফলিত হয়েছে। এই ধরণের ভিডিও ভাইরালও হয়েছে। ফলে সরকার ও ছাত্রের রাজনৈতিক দল এনসিপির জনপ্রিয়তা যে দিন দিন তলানিতে গিয়ে ঠেকছে, সেটা আঁচ করা যাচ্ছিল।
সূত্রের খবর, রাজনীতি নিয়ে মতভেদে ইদানীং এনসিপির সঙ্গে দুরত্ব তৈরি হয়েছে জামায়াতের ছাত্র শাখা ইসলামি ছাত্র শিবির ও বিএনপির শাখা জাতীয়তাবাদী ছাত্র দলের। তাই তাঁরা শাহবাগের আন্দোলনে যুক্ত হয়নি। ফলে ওই অবরোধ আন্দোলনে লোক জোটাতে পারেনি এনসিপি। বেগতিক দেখে বৃহস্পতিবার সোশ্যাল মিডিয়ায় বিএনপি ও ছাত্র শিবিরের কড়া সমালোচনা করে একটি পোস্ট শেয়ার করেন এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। এতে আবার হিতে বিপরীত হয়। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, শাহবাগের ফ্লপ আন্দোলন তুলতেই দু-দল ছাত্র গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষের নাটক হয়েছে। আর পুলিশও সেই সুযোগে তৎপরতা দেখিয়েছে। সবমিলিয়ে সময় ঘনিয়ে এসেছে এনসিপি ও মুহাম্মদ ইউনূসের। এটাই দেওয়াল লিখন।












Discussion about this post