কত বছরের পাঁচ আগস্ট বাংলাদেশের বুকে ঘটে গিয়েছিল এক গণঅভ্যুত্থান। তৎকালীন বাংলাদেশের নির্বাচিত আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয় ওই দিন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে ভারতে পালিয়ে আসতে বাধ্য হন। এক বছর হতে চলল, বাংলাদেশে মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ক্ষমতায় রয়েছে। এই সময়কালে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক সবচেয়ে খারাপ অবস্থায় রয়েছে। বিভিন্ন সূত্র থেকে এমনও দাবি করা হচ্ছে, ভারত নাকি বাংলাদেশের উপর সামরিক অভিযান চালাতেও দ্বিধা করবে না! পরিস্থিতি নাকি এমনই পর্যায়ে রয়েছে।
গত মে মাসে ভারত অপারেশন সিঁদুর পরিচালনা করেছে পাকিস্তানে। কাশ্মীরের পহেলগাঁওতে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার পর ভারতীয় সেনা ও বিমানবাহিনী অপারেশন সিঁদুরের মাধ্যমে পাকিস্তানের একাধিক জঙ্গি ঘাঁটি এবং পাকিস্তান সেনার একাধিক সামরিক ও বিমানঘাঁটি গুঁড়িয়ে দেয়। এই অপারেশন সিঁদুর নিয়ে ভারতের সংসদে আলোচনা চলছে। তাতে জবাবি ভাষণ দিয়েছেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। তাঁর ভাষণে উঠে এসেছে বাংলাদেশ প্রসঙ্গও।
ভারতের বিরুদ্ধে ফের বড়সড় চক্রের হদিশ পাওয়া গিয়েছে। জানা গিয়েছে, ভারত সরকারের নজরে এসেছে ঢাকার ইসলামিক গ্রুপ ‘সালতনাত-ই-বাংলা’ একটি ম্যাপ প্রকাশ করেছে। গ্রেটার বাংলাদেশ শীর্ষক ওই ম্যাপে ভারতের অনেকটা অংশ দেখানো হয়েছে। রাজ্যসভায় কংগ্রেস সাংসদ রণদীপ সিং সূরযেওয়ালা এই বিষয়ে প্রশ্ন উত্থাপন করেন। যার লিখিত জবাব দিয়েছেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। তিনি জানান, “ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ওই ম্যাপ দেখানোও হয়েছে। দেশের জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্ন জড়িয়ে থাকায় বিষয়টিতে নজর রেখেছে সরকার। এই সংক্রান্ত নিরাপত্তার জন্য যাবতীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে”। তিনি এও জানান, বাংলাদেশের ওপরেও নিবিড়ভাবে নজর রাখছে ভারত।
ঘটনা হল, সম্প্রতি অভিযোগ আসে, বাংলাদেশের ঢাকার একটি ইসলামিক সংগঠন ‘সালতানাত-ই-বাংলা’ গ্রেটার বাংলাদেশের মানচিত্র প্রকাশ করেছিল। তাতে ভারতের অংশকেও বাংলাদেশের বলে দাবি করা হয়েছিল। এমনকি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েও সেই ম্যাপ প্রদর্শিত হয়। বাংলাদেশে যে ইসলামিক কট্টরপন্থা ক্রমশ মাথাচারা দিয়ে উঠছে, সেই ব্যাপারে ভারত বেশ কয়েকবার উষ্মা প্রকাশ করেছে। এবার ভারতের সংসদেও এই বিষয়ে প্রশ্ন তুলল বিরোধী দল কংগ্রেস। সাসংদ রণদীপ সিং সূরযেওয়ালার প্রশ্ন ছিল, ভারত সরকার এই বিষয়টি বাংলাদেশ সরকারের কাছে কূটনৈতিক স্তরে তুলে ধরেছে কিনা, আর বাংলাদেশের সঙ্গে তুরস্ক ও পাকিস্তানের অতি-সখ্যতার পর ভারত সরকার নিরাপত্তা আরও বাড়িয়েছে কি না। বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর কংগ্রেস নেতার এই প্রশ্নের উত্তরে জানান, ‘টার্কিশ ইয়ুথ ফেডারেশন’ নামক তুরস্কের একটি এনজিও বাংলাদেশের ইসলামিক কট্টরপন্থী ‘সালতানাত-ই-বাংলা’ সংগঠনের পিছনে কাজ করছে। তাঁরাই গ্রেটার বাংলাদেশের ম্যাপ প্রকাশ করেছিল। বিদেশমন্ত্রী আরও জানান, সরকার এই বিষয়টির নোট নিয়েছে। সরকার পরিস্থিতির দিকে নিবিড়ভাবে নজর রাখছে। দেশের জাতীয় সুরক্ষা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করছে ভারত সরকার। তাঁর বিবৃতিতে বাংলাদেশের বক্তব্যও তুলে ধরা হয়েছিল। জয়শঙ্কর জানান, “বাংলাদেশ ফ্যাক্ট চেকার প্ল্যাটফর্ম ‘বাংলা ফ্যাক্ট’ দাবি করেছে যে সালতানাত-ই-বাংলা যে বাংলাদেশ থেকে পরিচালিত, তার কোনও প্রমাণ নেই। ম্যাপে দেখানো মানচিত্র পূর্বের বাংলা সুলতানদের রাজত্বের প্রসঙ্গ হিসাবে দেখানো হয়েছিল”।
বিশেষজ্ঞমহলের দাবি, বাংলাদেশে কট্টরপন্থী সংগঠনগুলির বাড়বাড়ন্ত ভারত ভালোভাবে নিচ্ছে না। দেশের অভ্যন্তরেও বাংলাদেশকে সবক শেখানোর দাবি উঠছে। এতদিন আরএসএস বা বিজেপির অন্যান্য শাখা সংগঠনগুলি এই দাবিতে নরেন্দ্র মোদির ওপর চাপ সৃষ্টি করছিলেন। এবার কংগ্রেসও সরব হল। ফলে নরেন্দ্র মোদির উপর চাপ আরও বাড়ছে। কারণ বিগত এক বছরে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কয়েকজন উপদেষ্টা এবং সে দেশের ছাত্রনেতারা বারংবার ভারতের বিরুদ্ধে কটু মন্তব্য করে গিয়েছে। ভারতের একাধিক পরামর্শ কানে তোলেনি মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকার। ফলে বাংলাদেশ ইস্যুতে ক্রমশ চাপে পড়ছেন মোদি। তবে ভারত সরকার এখনও বাংলাদেশে অন্তর্ভূক্তিমূলক, স্বচ্ছ ও অবাধ নির্বাচনের ব্যাপারে আশাবাদী। এখন দেখার ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি প্রতিবেশী বাংলাদেশের কোনও বড় পদক্ষেপ গ্রহন করে কিনা।












Discussion about this post