২০২৪ সালের ৫ আগস্ট, আর ২০২৫ সালের ৫ আগস্টের মধ্যে একটা বড় ফারাক আছে। গত বছর ৫ আগস্ট যেমন বাংলাদেশে ছিল ঘটনাবহুল একটি দিন। তেমনই এবারও ঘটনাবহুল হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। সবকিছুর নেপথ্যে একটাই তত্ত্ব, সেটা হল শেখ হাসিনার গেরিলাবাহিনী। অন্তত বাংলাদেশের গোয়েন্দাদের তেমনই ধারণা। আওয়ামী লীগ নাকি একটা গেরিলা বাহিনী তৈরি করেছে, যারা যে কোনও সময় ঢুকে পড়বে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায়। আর দখল নেবে সমস্ত সরকারি অফিস ও ভবনের। এই ধারণা প্রমান করতে মুহাম্মদ ইউনূসের সরকার গ্রেফতার করেছে একজন সেনাবাহিনীর মেজর পদমর্যাদার আধিকারিককে। যার নাম মেজর সাদিক ওরফে সাদিকুল হক।
আসল তথ্য কি? বাংলাদেশের সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ জামান মাঝেমধ্যেই বলে আসছেন যে তিনি দেশের এই অবস্থা মেনে নেবেন না। তিনি প্রকাশ্যেই বর্তমান সরকার ও রাজনৈতিক নেতাদের সতর্ক করেছিলেন। কিন্তু ঘটনা হল তিনি যতটা গর্জান, ততটা বর্ষান না। অর্থাৎ, তাঁর বিরুদ্ধে একাধিকবার ক্যু বা সেনা অভ্যুত্থানের চেষ্টা হলেও তিনি বহাল তবিয়তে নিজের পদে আসীন আছেন। অথচ বাংলাদেশ কার্যত বিক্রি হতে বসেছে। অন্যদিকে আওয়ামী লীগ যে বর্তমান বাংলাদেশের অন্যতম শত্রু, এই দাবি করে বিভিন্ন কড়া পদক্ষেপ নিয়ে চলেছে মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। আর সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ জামান তাতে সমর্থন দিয়ে চলেছেন। তার জ্বলন্ত প্রমান হল গোপালগঞ্জে সাধারণ মানুষের ওপর গুলি চালানো এবং পাঁচজনের মৃত্যু। এর দায় কে নেবে? সেনাপ্রধানকে দুষে একাধিক অভিযোগ উঠলেও, তিনি মুখ খোলেননি। এবার আওয়ামী লীগের কর্মী-সমর্থকদের গেরিলা ট্রেনিং দেওয়ার অভিযোগে তাঁরই অধীনে থাকা এক আঘিকারিককে গ্রেফতার করা হল, তাও সেনাপ্রধান কোনও কথা বললেন না। অর্থাৎ তাঁর অজানা কিছু নেই। অর্থাৎ, তাঁর সম্মতিতেই এই গ্রেফতারি। আবার বাংলাদেশের পুলিশ জানিয়েছে, তাঁরা নাকি ২২ জনকে গ্রেফতার করেছে গেরিলা প্রশিক্ষণ নেওয়ার জন্য। হাস্যকর দাবি এটা হল, বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যমের দাবি অনুযায়ী, গোয়েন্দাদের কাছে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী ঢাকার বুকে অন্তত ৪০০ জন গেরিলা প্রশিক্ষণ নিয়েছে। ঢাকার বসুন্ধরা, ভাটারা, পূর্বাচল এলাকাতেও নাকি এই ধরণের প্রশিক্ষণ চলেছে। আরও প্রশ্ন উঠছে, শেখ হাসিনা এখনও ভারত সরকারের অতিথি, তাহলে তিনি যদি বাংলাদেশে ঢুকতে চান তাহলে ভারত সরকারের অনুমতি লাগবে। পাশাপাশি হাসিনা কোন বাহনে চেপে বাংলাদেশে যাবেন, সেটাও ঠিক করবে ভারত সরকার। তাহলে গেরিলা প্রশিক্ষণ পাওয়ার পর যদি আওয়্মী লীগ কর্মী-সমর্থকরা ঢাকার শাহবাগ ও অন্যন্য এলাকার দখলও নিয়ে নেন, তাহলেই কি হাসিনা ভারত সরকারের অনুমতি ব্যাতিত ঢাকায় প্রবেশ করতে পারবেন? এটাও আসলে মিথ্যা তথ্য, যা বরাবর দিয়ে আসছেন বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসন, এমনটাই দাবি সে দেশের রাজনৈতিক মহলের।
এমনটাও জানা যাচ্ছে, ঢাকা ক্যান্টনমেন্টের ভিতর নাকি কয়েকজন সেনাকর্তার কোর্ট মার্শাল চলছে। তাঁরা নাকি গোপনে আওয়ামী লীগকে সাহায্য করছিলেন। এই খবর যদি সত্যি হয়, তাহলে বিষয়টি গুরুতর। এটা হলে জেনারেল ওয়াকার উজ জামানের মুখোশ প্রকাশ্যে চলে আসবে। তিনি যে আসলে তলে তলে মুহাম্মদ ইউনূসকেই সাহায্য করে আসছিলেন, সেটাও প্রমানিত হবে। আরেকটি সুত্র বলছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের চাপে জেনারেল ওয়াকার মুহাম্মদ ইউনূসের প্রতি নরম হয়ে গিয়েছেন। এরমধ্যে আমরা দেখেছি, ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন চার্জ দি অ্যাফেরার্স বেশ কয়েকবার জেনারেল ওয়াকারের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। হয় ভয়ে, না হয় অন্য কোনও উদ্দেশ্যে তিনি চুপ করে গিয়েছেন। কেউ কেউ বলছেন, তাঁর বিরুদ্ধে আর ক্যু বা অভ্যুত্থান হবে না, এই শর্তে জেনারেল ওয়াকার নরম হয়েছেন। অর্থাৎ ভূত আছে সর্ষের মধ্যেই, বাকিরা বলির পাঁঠা হচ্ছেন।
গত ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা দেশ ছাড়ার পর অন্তবর্তী সরকার ক্ষমতায় আসে। মহম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে সরকার গঠন হয়।...
Read more












Discussion about this post