জাতীয় নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ মানেনি রাজ্য সরকার। এবার দিল্লিতে তলব করা হল মুখ্য সচিব মনোজ পান্থকে। অফিসার সহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে যে এফআইআরের সুপারিশ করা হয়েছিল, সেটা মানেনি রাজ্য। বরং উল্টে চিঠি দেওয়া হয়েছিল। বলা হয়েছিল, আগে অনুসন্ধান করা হবে এবং তারপর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এরপরই রাজ্য মুখ্যসচিব মনোজ পান্থকে ডেকেছিল জাতীয় নির্বাচন কমিশন। সূত্রের খবর, দিল্লিতে এদিন জাতীয় নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চের সামনে হাজিরা দিতে হয় মনোজ পান্থকে। প্রায় ৪৫ মিনিট ধরে চলে প্রশ্নোত্তর পর্ব।
সূত্রের খবর, এইদিন জাতীয় নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চের পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন কমিশনের সচিব। এদিন কমিশনের ফুল বেঞ্চ জানতে চায়, কেন এখনো পর্যন্ত রাজ্য সরকার জাতীয় নির্বাচন কমিশনের সুপারিশ মেনে ওই পাঁচ জনের বিরুদ্ধে এফ আই আর দায়ের করল না? উত্তরে মুখ্য সচিব জানান, জাতীয় নির্বাচন কমিশনকে দেওয়া চিঠিতে সেই কারণগুলি উল্লেখ করা রয়েছে। এমনকি মুখ্য সচিব মনোজ পান্থ জানিয়েছেন, প্রত্যেকটা রাজ্য প্রশাসনের একটি নিজস্ব পরিকাঠামো রয়েছে। কারো বিরুদ্ধে হঠাৎ করে কোনও ব্যবস্থা গ্রহন করলে, এর প্রভাব পড়তে পারে। একই সঙ্গে তিনি বলেন, ওই পাঁচজন এর বিরুদ্ধে বিশেষ কমিটি তৈরি করে অনুসন্ধান চালাচ্ছে রাজ্য সরকার। এমনকি এদের মধ্যে দুজনকে নির্বাচন প্রক্রিয়া থেকে সরানোর কথা তুলে ধরা হয়।
উল্লেখযোগ্য, বারুইপুর পূর্বের ইলেকট্রোরাল রেজিস্ট্রশন অফিসার দেবত্তম দত্ত চৌধুরী, ওই কেন্দ্রের AERO তথাগত মন্ডল, ময়নার ইআরও বিপ্লব সরকার, ওই কেন্দ্রের AERO সুদীপ্ত দাসের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ ওঠে। এমনকি সুরজিৎ হালদার নামে এক ডেটা এন্ট্রি অপারেটরের বিরুদ্ধে এফআইআর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু রাজ্য সরকার একমাত্র সুরজিত হালদার এবং সুদীপ্ত দাসকে কাজ থেকে অব্যাহতি দিয়েছিল। এমনকি তাদের সাসপেন্ডও করা হয়নি। যেখানে জাতীয় নির্বাচন কমিশন তাদের সুপারিশ করেছিল তাদের বিরুদ্ধে এফআইআর করতে।
এদিকে খবর মুখ্য সচিব মনোজ পান্থের যুক্তি মানতে রাজি হয়নি। জাতীয় নির্বাচন কমিশনের তরফে বলা, আগে পদক্ষেপ করুন, তারপর নিজেদের মতো করে অনুসন্ধান চালান। মুখ্য সচিব বারবার জানিয়েছেন, কড়া পদক্ষেপ করার আগে অনুসন্ধান চালানোটা সবার আগে প্রয়োজন। তবে বারবার জাতীয় নির্বাচন কমিশন তাকে চাপ প্রয়োগ করাতে তিনি বলেন, এই বিষয়ে তিনি একা সিদ্ধান্ত নিতে পারেন না। কেন্দ্র এবং রাজ্যের মিডিয়াম হয়ে কাজ করছেন।
এখন দেখার, কেন্দ্র এবং রাজ্যের এই চাপানউতোরে আদেও পরিস্থিতি কোথায় গিয়ে দাঁড়ায়।












Discussion about this post