বাংলাদেশে এই মুহূর্তে সবচেয়ে বেশি সক্রিয় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, মুহাম্মদ ইউনূসকে দিয়ে রাখাইন করিডোর বা সেন্ট মার্টিন দ্বীপে সামরিক বেস তৈরির পরিকল্পনা বাস্তবায়িত করা আর সম্ভব হবে না এটা বুঝে গিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু তাঁরা হাল ছাড়তে নারাজ। এর জন্য ওয়াশিংটন চাইছে, আসন্ন নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে দূরে রেখে বিএনপির একটি পুতুল সরকার গঠন করে নিজেদের কার্যসিদ্ধি হাসিল করে নিতে। এই পরিস্থিতিতে আগামীদিনে বাংলাদেশ এক ভয়ানক বিপদের মুখে পড়তে চলেছে বলেই মনে করছেন কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা। কি সেই বিপদ? সেটা নিয়েই আলোচনা ও চর্চা তুঙ্গে।
কূটনৈতিক মহলের একাংশ বলছেন, বাংলাদেশের মসনদে যতদিন শেখ হাসিনা ছিলেন, ততদিন ভারতের জন্য কোনও বিপদঘন্টি ছিল না। কিন্তু গত বছর হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকে বাংলাদেশে ইউনূস রাজ শুরু হয়েছে। সেই সঙ্গে ওই দেশে মৌলবাদী শক্তির প্রবলভাবে উত্থান হয়েছে। ফলে কার্যত ভারতের পেটের ভিতর ঢুকে থাকা বাংলাদেশ এখন ভারতের আভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার জন্য বড়সড় চ্যালেঞ্জ। তাই ভারতীয় গুপ্তচর এবং গোয়েন্দা সংস্থাগুলি ক্রমাগত নজর রেখে চলেছে বাংলাদেশের প্রতিটি পদক্ষেপের দিকে।
এই আবহে মুহাম্মদ ইউনূস এবং তাঁর সরকারের চালিকাশক্তিরা চাইছেন, শেখ হাসিনা এবং তাঁর দল আওয়ামী লীগকে বাংলাদেশের নির্বাচন থেকে যতটা দূরে রাখা যায়। এর জন্য জামাত,বিএনপি ও এনসিপি যা যা করা প্রয়োজন তাই করে চলেছে। মব জাস্টিসের নামে একদিকে আওয়ামী নেতা-কর্মীদের হেনস্থা, মারধর যেমন চলছে, তেমনই রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করে ইউনূস প্রশাসন আওয়ামী লীগ সমর্থক, মুক্তিযোদ্ধাদের গ্রেফতার করে জেলে পুরছে। ওয়াকিবহাল মহলের একাংশ আবার দাবি করছেন, মার্কিন প্রশাসনও চাইছে আওয়ামী লীগকে আসন্ন নির্বাচন থেকে দূরে রাখতে। যা ভারত কোনও ভাবেই হতে দিতে নারাজ।
দক্ষিণ এশিয়ার বর্তমান ভূ-রাজনীতিতে বাংলাদেশ একটা উল্লেথযোগ্য উপাদান হতে চলেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একটা বড় অংশ দাবি করছেন, আসন্ন নির্বাচনের পর বিএনপি, জামাত ও এনসিপি একসাথে জোট বেঁধে সরকার গঠন করলেও অবাক হওয়ার কিছু নেই। বরং সেই সম্ভাবনাই প্রবল। যা ভারতের পক্ষে বড় সমস্যা হতে পারে। এই পরিস্থিতিতে নয়া দিল্লি কোনও ভাবেই চাইবে না নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে বাইরে রাখতে। এরজন্য দুই মহা শক্তিধর দেশ রাশিয়া ও চিনকে পাশে পাবে ভারত। সম্প্রতি এসসিও সম্মেলনে যোগ দিতে বেজিং সফর করবেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি ওই সম্মেলনের ফাঁকে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করবেন রাশিয়া ও চিনের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে। কূটনৈতিক মহলের আশা ওই বৈঠকেই দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে বড়সড় মোড় ঘুরতে চলেছে। বিশ্বের তিন মহাশক্তিধর দেশ ভারত-চিন-রাশিয়া যদি একজোট হয়, তাহলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে দক্ষিণ এশিয়ায় টিকে থাকা মুশকিল। সেক্ষেত্রে বাংলাদেশ পড়ে যাবে বড়সড় বিপদে।
ভারত যদি বাংলাদেশের বিরুদ্ধে কোনও সামরিক পদক্ষেপ নেয়, তাহলে নাকি পাকিস্তান ও আমেরিকা তাঁদের সাহায্য করতে এগিয়ে আসবে। এমনটাই ধারণা বাংলাদেশের সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ জামানের। একই ধারণা ইউনূস প্রশাসনেরও। কিন্তু সেটা কি আদৌ সম্ভব? বিশেষজ্ঞরা দাবি করছেন, সেটার সম্ভাবনা খুব কম। কারণ, ইন্দো-প্যাসিফিক মহাসাগরীয় এলাকায় ভারতই ছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত সাথী বা বন্ধু। বিশেষ করে মালাক্কা প্রণালী পার করার পর বঙ্গোপসাগর এবং ভারত মহাসাগরে ভারতের একছত্র আধিপত্য। এই অঞ্চলে মার্কিন বাণিজ্য তরীর নিরাপত্তার ভার ভারতেরই হাতে।
ফলে যদি কোনও সময় ভারত পাকিস্তানের মতো বাংলাদেশেও কোনও সামরিক অভিযান চালায় তাহলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রণতরী আসতে অনেকটাই সময় লেগে যাবে বা আসা অসম্ভব। আর রইল পাকিস্তান, তাঁদের একাধিক সামরিক ও বিমানঘাঁটি যেভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে অপারেশন সিঁদূরের সময় তাতে তাঁদের মাথা তুলে দাঁড়াতেই অনেকটা সময় লাগবে। আর আরব সাগরের জলসীমা ও ভারতবর্ষের আকাশসীমা পেরিয়ে পাকিস্তানের যুদ্ধবিমান বা যুদ্ধজাহাজ বাংলাদেশে আসতেই পারবে না। এই আবহে মার্কিন দাদাগিরি রুখতে বাংলাদেশ নিয়ে চিন ও রাশিয়াকে পাশে পাবে ভারত। সবমিলিয়ে মুহাম্মদ ইউনূসের দূঃস্বপ্ন বাড়ছে বৈ কমছে না।












Discussion about this post