২০১৬ সালে যারা চাকরি পেয়েছিলেন যে সমস্ত শিক্ষক এবং শিক্ষাকর্মীরা তাদের পুরো প্যানেলটাই বাতিল করেছিল সুপ্রিম কোর্ট। এরপর কলকাতা হাইকোর্ট এবং সুপ্রিমকোর্টে একাধিকবার আর্জি জানিয়েও চাকরি ফেরত পাননি SSC-র চাকরিহারারা। সুপ্রিম কোর্ট পরিষ্কার করে জানিয়ে দিয়েছিল কোনও ভাবেই অযোগ্যদের আর সুযোগ নয়।
শীর্ষ আদালতের নির্দেশ মেনে সম্প্রতি ‘অযোগ্য’দের একটি তালিকা প্রকাশ করেছে রাজ্যের স্কুল শিক্ষা দফতর। সেই তালিকায় মোট ১৮০৬ জনের নাম রয়েছে ‘দাগি’ হিসাবে। এই পরিস্থিতিতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীকে মেল পাঠালেন যোগ্যরা। তারা দাবি করছে, ‘অযোগ্য’ চিহ্নিত হয়ে যাওয়ার পরেও ‘যোগ্য’দের আবার পরীক্ষা দিতে বলার কোনও মানে হয় না।
যোগ্য শিক্ষক-শিক্ষিকা অধিকার মঞ্চের’ পক্ষ থেকে মুখ্যমন্ত্রী ও বিরোধী দলনেতাকে মেল পাঠিয়ে দাবি জানানো হয়েছে, বিধানসভায় আলোচনা করে যোগ্যদের পুনর্বহাল করা হোক।
পাশাপাশি তাঁদের দাবি, প্রয়োজনে বিধানসভায় বিল পাশ করানো হোক। সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ‘অযোগ্য’দের তালিকা প্রকাশ হওয়ার পরেই প্রমাণিত হয় ১৫,৪০৩ জন শিক্ষক-শিক্ষিকা ও প্রায় চার হাজার জন শিক্ষাকর্মী ‘যোগ্য’। তবুও আদালতের নির্দেশে তাঁদের জুটেছে ‘অবাঞ্ছিত’ তকমা।
আদালতের নির্দেশ মেনে ‘দাগি’ নন এমন চাকরিহারা শিক্ষক-শিক্ষিকারা অবশ্য ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত চাকরি করতে পারবেন। শিক্ষাকর্মীদের ক্ষেত্রেও এই ‘রক্ষাকবচ’ তৈরি করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু। এই প্রসঙ্গে যোগ্য শিক্ষক-শিক্ষিকা অধিকার মঞ্চের পক্ষ থেকে অন্যতম নেতা মেহবুব মণ্ডলকে বলতে শোনা গিয়েছে… এখনই জলের মতো পরিষ্কার কারা যোগ্য ও অযোগ্য। সরকারের উচিত আমাদের সব রকম ভাবে রক্ষা করা। আমাদের অনেকেই ভোট দিয়ে এই সরকারকে ক্ষমতাই এনেছি। ভোট দাতা হয়ে আমারই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি।আমাদের সমস্যা গুরুত্ব দিয়ে জনপ্রতিনি ধিরে দেখা উচিত। সোমবার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীও বলেন, সরকার এবার যোগ্যদের চাকরি ফিরিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করতেই পারে।
প্রসঙ্গত আগামী ৭ ও ১৪ সেপ্টেম্বর নতুন করে পরীক্ষা নেবে এসএসসি। তার আগেই এসএসসি প্রকাশ করেছে ‘অযোগ্য’দের তালিকা। তাই যোগ্যদের আবার পরীক্ষা নেওয়ার কোনও মানে নেই বলেই দাবি করেছে ‘যোগ্য শিক্ষক-শিক্ষিকা অধিকার মঞ্চ’-সহ একাধিক সংগঠন। বিধানসভায় ‘গুরুত্ব’ দিয়ে ‘যোগ্য’দের সমস্যা নিয়ে আলোচনা করে চাকরি ফেরানোর দাবিও তোলা হয়েছে। পাশাপাশি, ওই চিঠি পাঠানো হয়েছে বাম ডোটের একমাত্র বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকিকেও। সমস্যার সমাধান করতে বলে যোগ্যরা আহ্বান জানাচ্ছেন বিভিন্ন জনপ্রতিনিধিকে।












Discussion about this post