২০১৬ সালে এসএসসি নিয়োগ দুর্নীতি কাণ্ডে প্রায় ২৬০০০ শিক্ষক-শিক্ষিকাদের চাকরি হারিয়েছিল। একাধিকবার সুপ্রিম কোর্ট এবং হাইকোর্টে চাকরি ফেরতের আর্জি নিয়ে গেলেও তাতে কোন লাভ হয়নি। বরং অযোগ্য, দাগি শিক্ষক-শিক্ষিকাদের তালিকা প্রকাশের নির্দেশ দেয় সর্বোচ্চ আদালত। এর জন্য এসএসসিকে সাত দিনের সময় বেঁধে দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট। কিন্তু সেই তালিকা এক দিনের মাথায়, শনিবার প্রকাশ করে রাজ্যের স্কুল সার্ভিস কমিশন। প্রথমে ১৮০৪ জনের নামের তালিকা প্রকাশ করেছিল, মধ্য রাতে আরেকটি তালিকা প্রকাশ করে আরও দুজনের নাম যুক্ত করা হয়। স্কুল সার্ভিস কমিশনের দাগিদের তালিকায় শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের একাধিক হেভিওয়েট নেতা-বিধায়কদের আত্মীয়ের ছড়াছড়ি।
যেমন প্রথম তালিকাতেই প্রকাশ্যে এল পানিহাটির তৃণমূল বিধায়ক তথা বিধানসভার মুখ্য সচেতক নির্মল ঘোষের পুত্রবধু শম্পা ঘোষের নাম। তালিকায় ১২৬৯ নম্বরে নাম রয়েছে শম্পা ঘোষের। এর জেরে শাসকদল তৃণমূলকে নিশানা করেছেন বিজেপি-সহ বিরোধী দলগুলি।
পানিহাটির বিধায়ক নির্মল ঘোষের বড় বৌমার নাম অযোগ্য ও দাগিদের তালিকায় থাকায় রবিবারই সাংবাদিকরা তাঁকে প্রশ্ন করেন। অস্বস্তিকর প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, হাইকোর্ট ও সুপ্রিমকোর্ট এ নিয়ে মামলা চলছে। এনিয়ে বিশেষ কিছু বলার নেই। সবটাই তো আদালতের নির্দেশে হয়েছে। এবার আদালতেই সত্য-মিথ্যা বেরিয়ে আসবে। আইন আইনের পথে চলবে।
অন্যদিকে নির্মল ঘোষের পুত্রবধূ শম্পা ঘোষ প্রশ্ন তুলছেন আদালতে এসএসসি বারবার বলছে ওএমআর সিট নষ্ট হয়ে গিয়েছে। সে ক্ষেত্রে যোগ্য, অযোগ্যর তালিকা তারা তৈরি করল কিভাবে? যদিও তাঁর নাম অযোগ্যদের তালিকায় চলে আসায় ছেড়ে কথা বলছে না বিজেপি। স্থানীয় বিজেপি নেতা জয় সাহা কটাক্ষের সুরে বলেন, সারা রাজ্য জুড়ে এই দুর্নীতি ছড়িয়ে পড়েছে এবং অযোগ্যরা চাকরি করবেন এবং যোগ্যরা ধর্মতলায় রাস্তায় বসে থাকবেন,এটাই তো বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থা।
সূত্রের খবর, সম্প্রতি রাজ্যের স্কুল শিক্ষা দফতর এক নির্দেশিকা জারি করে নির্মল ঘোষের পুত্রবধূ শম্পা ঘোষকে পানিহাটি মহাবিদ্যালয়ের পরিচালন কমিটির সভাপতি করেছে। চলতি মাসের ৬ তারিখ সেই নির্দেশিকা জারি হয়েছে। ফলে বিতর্ক আরও বেড়েছে। প্রশ্ন উঠছে, প্রভাব খাটিয়ে অযোগ্য হয়েও যিনি শিক্ষিকা চাকরি পান, তাকে কি করে মহাবিদ্যালয় পরিচলন কমিটির সভাপতি করা হল? যদিও পানিহাটির বিধায়ক নির্মল ঘোষ এ বিষয়ে কোন মন্তব্যই করতে চাননি।












Discussion about this post