সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনা যায় তালিকা প্রকাশ করল কমিশন। কেবলমাত্র নাম, রোল নম্বর ও সিরিয়াল দিয়ে তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবারে এসএসসি কে ৭ দিনের মধ্যে দাগিদের তালিকা প্রকাশের নির্দেশ দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট। তারপর শুক্রবার ফের এই মামলার শুনানি হয় সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি সঞ্জয় কুমার এবং বিচারপতি সতীশ চন্দ্র শর্মার বেঞ্চে। শুরুতেই মামলাকারীর আইনজীবী অভিযোগ করেন এসএসসি র আসন্ন নিয়োগ প্রক্রিয়ায় দাগিদেরও পরীক্ষার এডমিট কার্ড দেওয়া হচ্ছে। বিচারপতি অভিযোগ শোনার পর বলেন, যদি কোন দাগি নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অংশ নেয়,সেটা আমরা দেখব, দাগিরা কোনভাবেই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে পারবে না। এবং এরপর আর কোন তালিকা প্রকাশিত হবে না বলে জানা গিয়েছে এর আগে সর্বোচ্চ আদালতের নির্দেশে চাকরি করিয়েছিলেন ২৬ হাজার শিক্ষক শিক্ষিকা।
আইনজীবীর উদ্দেশ্যে বিচারপতিরা বলেন আপনারা আসল প্রশ্ন এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। আমাদের স্পষ্ট উত্তর দিন। আপনারা কি দাদুদের নিয়ে প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে অনুমতি দিচ্ছেন ?হ্যাঁ কি না? তার উত্তরে এসএসসির আইনজীবী জানান না। তখন বিচারপতি প্রশ্ন করেন, কতজন দাগি রয়েছেন? এসএসসি আইনজীবী জানান CBI এক হাজার নয়শো জন দাগির তালিকা দিয়েছে । অনলাইন আবেদন করার সময় সেটা যাচাইয়ের কোন ব্যবস্থা ছিল না।
বিচারপতি ফের একবার এসএসসি কে ৭ দিনের মধ্যে দাগিদের তালিকা প্রকাশের কথা বলতে যাচ্ছিলেন ঠিক সেই সময় কমিশনের আইনজীবী বলে ওঠেন আমরা কালকেই সেটা প্রকাশ করছি। কালকের মধ্যেই আমরা সেটা করে দেবো। বিচারপতি তখন কমিশনের উদ্দেশ্যে বলেন একজন দাগি কেউ পরীক্ষায় বসতে দেওয়া যাবে না। যদি একজন দুজন ফাক গোলে বেরিয়েও যায় তাহলে সেই প্রার্থীদের বের করে দেওয়া হবে তাদের নিয়োগ প্রক্রিয়া থেকে ঝেড়ে ফেলতে হবে।
এসএসসি প্রকাশিত তালিকা অনুযায়ী যারা অযোগ্য শিক্ষক-শিক্ষিকাদের তালিকায় রয়েছেন, তাঁদের মধ্যে কেউ প্রাক্তন মন্ত্রীর কন্যা, কেউ বিধায়কের পুত্রবধূ। আবার কেউ নিজেই কাউন্সিলর বা জেলা পরিষদের সদস্য। আবার কেউ জেলে যাওয়া প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ। এই তালিকায় নাম থাকা বেশিরভাগই তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে সম্পৃক্ত। এদের মধ্যে একটা অংশ তৃণমূলের হেভিওয়েট নেতাদের আত্মীয়। এখানেই শেষ নয়, এখনও অনেক কাঁটাছেঁড়া বাকি, সম্পূর্ণ তালিকা অনেক বড় এবং স্পষ্ট নয়। ওয়াকিবহাল মহলের দাবি, এসএসসি কেবলমাত্র নাম ও রোল নম্বর প্রকাশ করলেও তাঁদের ঠিকানা বা তাঁরা কোন স্কুলে পড়তেন সেই তথ্য প্রকাশ করেনি। এরা কেউ সোজা পথে চাকরি পাননি, তাই তাঁদের সম্পূর্ণ পরিচয় গোপন করার অর্থ কি সেটা পরিস্কার নয়। নামের বিভ্রাট হওয়ার সম্ভাবনাকে মাথায় রেখে এই পরিস্থিতিতে একেবারে ধরে ধরে বাছাই করে যে নামগুলো তুলে আনা হয়েছে। সেগুলির মধ্যে রয়েছে, অঙ্কিতা অধিকারী এনাকে নিয়ে বিশেষ করে কিছু বলার নেই কারণ এনার নাম তালিকা প্রকাশের আগে থাকতেই প্রকাশ্যে এসেছে। যাকে ঘিরে এসএসসি নিয়োগ দুর্নীতি মামলা একের পর এক প্রকাশ্যে এসেছে এবং শনিবার এসএসসির তালিকায় এই অঙ্কিতার নামই যেন সবচেয়ে বেশি দীপ্তমান।
এর পাশাপাশি আরও নাম প্রকাশ্যে এসেছে , সেগুলির মধ্যে রয়েছে হুগলির খানাকুলের দাপটে তৃণমূল নেতা বিভাস মালিক চাকরি যাওয়ার আগে পর্যন্ত তিনি তারকেশ্বরের একটি বিদ্যালয়ে কর্মরত ছিলেন। এবং তিনি নিজের সাথে সাথে তার স্ত্রী সন্তোষী মালিককেও চাকরি পাইয়ে দিয়েছিলেন। দাগিদের তালিকায় তার নাম ও সামনে এসেছে।
খানাকুলের আরও এক দাপটে তৃণমূল নেতা নইমুল হকের স্ত্রী নমিতা আদক, স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে মইমুল হক খানাকুলেরা পঞ্চায়েত সমিতির সব কর্মাধ্যক্ষ ছিলেন পরে তিনি সমিতির সহ-সভাপতি ও পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ এর দায়িত্ব সামলাচ্ছেন।
প্রিয়াঙ্কা মন্ডল তালিকায় রয়েছেন ১০৬৯ নম্বরে। সাহিনা সুলতানা ইনি হচ্ছেন বর্তমানে হুগলি জেলা পরিষদের সদস্য। তিনি আবার পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ বলে জানা যাচ্ছে। অজয় মাঝি শিক্ষক হওয়ার পাশাপাশি তিনি পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার পিংলা থানা অন্তর্গত জলচক অঞ্চলের তৃণমূল কংগ্রেসের অঞ্চল সভাপতি। কুহেলি ঘোষ রাজপুর সোনারপুর পুরসভার ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর। তাঁর নামও তালিকায় জ্বলজ্বল করছে।












Discussion about this post