গত ৩ এপ্রিল ২০১৬ সালের এসএসসি-র শিক্ষক নিয়োগের পুরো প্যানেল বাতিল হয়ে গিয়েছিল সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে। চাকরি গিয়েছিল প্রায় ২৬ হাজার শিক্ষক-শিক্ষিকা এবং শিক্ষাকর্মীরদের। অভিযোগ, ঘুষ ও দুর্নীতির কারণে বহু অযোগ্যরা বছরের পর বছর যোগ্যদের জায়গায় চাকরি করে গিয়েছেন। কিন্তু এখন এই দাগি শিক্ষক শিক্ষিকাদের নিয়ে আলোচনা তুঙ্গে। আদালত নির্দেশ জারি করেছে চিহ্নিত দাগিরা যত বেতন পেয়েছেন তার ১২ শতাংশ সুদ-সহ টাকা ফেরত দিতে হবে। এবার প্রশ্ন উঠছে, ঠিক কত টাকা গচ্ছা যেতে পারে দাগি শিক্ষক-শিক্ষিকাদের? কিভাবে চাকরি পেয়েছিলেন এই দাগিরা? পরিসংখ্যানে নজর দিলে দেখা যাবে নবম এবং দশম শিক্ষকদের ক্ষেত্রে একজন কম বেশি ৪০ হাজারের কাছাকাছি বেতন পান। সেই হিসেবে ২০১৯ থেকে ২০২৪ মার্চ পর্যন্ত একজনের মোট বেতনের অঙ্ক দাঁড়ায় ২৪ লক্ষ টাকার কাছাকাছি। অন্যদিকে একাদশ এবং দ্বাদশ শ্রেণির ক্ষেত্রে মোটামুটি ৪৪ হাজারের আশেপাশে বেতন পেয়ে থাকেন এক জন শিক্ষক। সেই ক্ষেত্রে ২০১৯ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত হয় ২৬ লক্ষ টাকা। দুই ক্ষেত্রেই শিক্ষাগত যোগ্যোতা এবং অন্যান্য কারণে কারও বেতন অনেকটাই বেশি। তাঁদের ক্ষেত্রে মোট অঙ্কের পরিমাণ অনেকটাই বেশি। এর পাশাপাশি শিক্ষাকর্মীদের ক্ষেত্রে গ্রুপ সি কর্মীরা চাকরি শুরু করার সাথে সাথে ২৬ থেকে ২৭ হাজার টাকা মতো বেতন পেয়ে থাকেন। এদের বেতনের হিসেব ধরলে ২০১৯ থেকে ২০২৬ পর্যন্ত তা ১৬ লক্ষ টাকার কাছাকাছি হয়। অপরদিকে গ্রুপ ডি-এর ক্ষেত্রে ১৯ হাজার টাকা থেকে শুরু হয় শিক্ষাকর্মীদের বেতন। সেই মতো, ২০১৯ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত তা দু লক্ষ টাকার মত দাড়ায়। সবমিলিয়ে সেই টাকার অঙ্কের সঙ্গে যুক্ত হবে ১২ শতাংশ হারে সুদ। মোটকথা সব মিলিয়ে এদিন সুপ্রিম কোর্টের রায় যারা যারা বেকার হলেন তাদের প্রায় কয়েক লক্ষ টাকা ফেরত দিতে হবে বলে জানা যাচ্ছে।
পাশাপাশি শনিবার ১৮০৬ জন দাগিদের নাম প্রকাশ করেছে স্কুল সার্ভিস কমিশন। আইনজীবী ফিরদৌস শামীমের বক্তব্য এই তালিকা সম্পূর্ণ হয়নি আরো নাম সামনে আসবে। এই দাগিদের তালিকায় তৃণমূলের নেতা নেত্রীর পরিবারের লোকজন, আত্মীয়-স্বজন রয়েছে বলে জানান। এবং আইনজীবী ফিরদৌস শামীম বলেছেন এখানে বিজেপির নেতা-নেত্রীর নাম ও রয়েছে এবং অন্যায় ভাবে চাকরির জন্য ১০ থেকে ১২ লক্ষ টাকা করে নেওয়া হয়েছে। আবার অনেকে বলেছেন ঘাটি বাটি বিক্রি করেও অনেকে মিডিলম্যানদের টাকা দিয়ে চাকরি পেয়েছেন।
এবং এই দাগি তালিকা দেখে অনেকেই বলছেন সবাই হয়তো টাকা দিয়ে চাকরি পাননি, তৃণমূলনেতা বিধায়কের দিকে তাদের ইঙ্গিত বলে বোঝা যাচ্ছে।
পাশাপাশি,সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী জানিয়েছেন, যারা খালি ওএমআর শিট জমা করেছে তাদের নামের তালিকা আগেই তৈরি হয়েছে। কলকাতা হাইকোর্ট থেকে সেই তালিকা জামা পড়ে এবং তাদেরকে ইতিমধ্যে চিহ্নিত করা হয়েছে। চাকরি প্রার্থীদের আশা ছিল যে টাকা ফেরত দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে ভেবে দেখবে শীর্ষ আদালত। কিন্তু সেই ক্ষেত্রে কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশ বহাল থাকবে। ২০১৬ সাল থেকে পাওয়া বেতনের বারো শতাংশ সুদের হারে টাকা ফেরত দিতে হবে । ফ্রেশ সিলেকশন প্রসেসে তারা বসতে পারবেন না।












Discussion about this post