গত বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রাম আসনটি ছিল সবচেয়ে নজরকাড়া। কারণ, এই আসনেই লড়াই করেছিলেন বঙ্গ রাজনীতির দুই প্রতাপশালী যুযুধান রাজনৈতিক নেতা ও নেত্রী। একজন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল কংগ্রেস সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অন্যজন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা তথা বিজেপির লড়াকু নেতা শুভেন্দু অধিকারী। আর সেই লড়াইয়ে সকলকে অবাক করে দিয়ে জিতে গিয়েছিলেন একদা মমতারই শিষ্য শুভেন্দু। যদিও পরে ভবানীপুর আসন থেকে উপ নির্বাচনে জিতে মুখ্যমন্ত্রীত্ব বজায় রেখেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই থেকেই প্রশ্ন উঠছে, ২০২৬-এর বিধানসভায় নন্দীগ্রামে কে হবেন তৃণমূল প্রার্থী?
দোরগোড়ায় ২৬-এর বিধানসভা নির্বাচন। তাই এখন থেকেই জোরকদমে প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস। তবে এবারের নির্বাচনে প্রত্যেকটি বিধানসভা কেন্দ্র গুরুত্বপূর্ণ হলেও সবথেকে বেশি নজরে নন্দীগ্রাম। ওই আসনে তিনিই প্রার্থী হবেন, নাকি প্রার্থী নিয়ে নতুন কোনও চাল দিতে চলেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়? এই প্রশ্নই এখন সবচেয়ে আলোচিত।
বিগত কয়েক দশকে পূর্ব মেদিনীপুর জেলার নন্দীগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্র গোটা ভারতেরই নজরে রয়েছে। বাম আমলে এই নন্দীগ্রাম ছিল বিরোধীদের যাবতীয় আন্দোলনের সূতিকাগৃহ। এরপর ওই আসনেই ভোটে লড়েন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু তাল কাটে ২০২১-এর বিধানসভা নির্বাচনে। সেবার শুভেন্দুর কাছে হারতে হয় তাঁকে। এবার তাহলে কে? তৃণমূলের অন্দরেই কানাঘুঁষো, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবার ভবানীপুর থেকেই লড়াই করবেন। ফলে নন্দীগ্রামে নতুন প্রার্থী দিতে হবে শাসকদলকে। পাশাপাশি তাঁরা ধরেই নিচ্ছেন ওই আসনে বিজেপি শুভেন্দুকেই প্রার্থী করবে। ফলে এমন একজনকে প্রার্থী করতে চাইছে তাঁরা, যিনি শুভেন্দুকে কাঁটায় কাঁটায় টেক্কা দিতে পারবেন। আবার হেরে গেলেও লজ্জায় পড়তে হবে না তৃণমূলকে। একটি সর্বভারতীয় বাংলা দৈনিকের দাবি, এবার নন্দীগ্রামে রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়কে দাঁড় করানোর চিন্তাভাবনা করছে তৃণমূল। মজার বিষয়, ২০২১ সালের ভোটের আগে শুভেন্দু অধিকারীর তৎপরতাযতেই রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায় তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন। বিজেপি তাঁকে ডোমজুড়ে প্রার্থী করেছিল, কিন্তু সেখানে পরাজিত হয়েছিলেন রাজীব। এরপর তিনি ফের তৃণমূলে ফেরেন। এবার তাঁকেই শুভেন্দুর বিরুদ্ধে লড়তে পাঠানোর তোড়জোড় শুরু হয়েছে বলেই দাবি করছে ওই বাংলা দৈনিক।
প্রসঙ্গত, বেশ কয়েকদিন ধরেই রাজ্যের সমস্ত জেলায় ব্লক ধরে ধরে বিধানসভা কেন্দ্র নিয়ে নেতা-নেত্রীদের সাথে বৈঠক করছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। ইতিমধ্যে কিছু জেলার বৈঠক হয়েও গিয়েছে এবং বাকি জেলাগুলির বৈঠক ১২ ই সেপ্টেম্বরের মধ্যে হয়ে যাবে। তবে এটা জানা যাচ্ছে, কেবলমাত্র নন্দীগ্রাম ব্লকের জন্য গোটা একটি দিন রেখেছেন তৃণমূলের নম্বর টু। নন্দীগ্রামে ১৩ থেকে ১৬ সেপ্টেম্বর এর মধ্যে বৈঠক হতে পারে বলে জানা যাচ্ছে। এর থেকে স্পষ্ট, শাসকদল নন্দীগ্রামের ক্ষেত্রে আলাদা রকম প্রস্তুতি নিচ্ছে। এইরকম পরিস্থিতিতেই রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়ের এর নাম শোনা যাচ্ছে বলে জানা যাচ্ছে।
এই বিষয়ে তৃণমূল নেতা রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে, তিনি বলেন, “আমাকে সেরকমভাবে এখনও কেউ কিছু জানানো হয়নি। আমি এই প্রথম শুনলাম ,তাতে যা বুঝছি আসলে পুরোটাই একটা ‘রটনা’। গোটা বিষয়ে বাংলার রাজনৈতিক মহলেও কৌতুহলের সৃষ্টি হয়েছে। কেন শাসকদল রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়কেই বিরোধী দলনেতার বিপরীতে দাঁড় করাতে চাইছে। আর সেইখানেই উঠে আসছে নানান কারণ।
যার মধ্যে অন্যতম তিনটি কারণ রয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। প্রথমত, -রাজীবের প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা ও সাংগঠনিক দায়িত্ব সামলানোর অনেক রেকর্ড হয়েছে। যেটা ২০২৪ সালের লোকসভা ভোটে তমলুক কেন্দ্রে দেখা গিয়েছিল। দ্বিতীয়ত, নন্দীগ্রামের স্থানীয় তৃণমূল নেতাদের মধ্যে এমন কোনও হেভীওয়েট প্রার্থী নেই যে শুভেন্দুর বিরুদ্ধে লড়াই করবেন। তৃতীয়ত, ২০২৪ সালে লোকসভা ভোটে তমলুক থেকে লোকসভার দলের পরিদর্শক হিসেবে ছিলেন রাজীব বন্দোপাধ্যায় । নন্দীগ্রাম তমলুক লোকসভার মধ্যেই পড়ে। সেখানে তৃণমূলের প্রার্থীদের দেবাংশু ভট্টাচার্যের হয়ে রাজীব বাড়তি দায়িত্ব পালন করেছিলেন। স্থানীয় রাজনীতির জটিলতা সম্পর্কে অবগত রাজীব। এমনকি তৃণমূলের ব্লক স্তরের নেতাদের সঙ্গে তিনি আগে থেকেই পরিচিত। তমলুকে বিজেপি প্রার্থী তথা প্রাক্তন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের কাছে তৃণমূলের দেবাংশু হেরে গেলেও রাজীবের ভূমিকা নিয়ে তৃণমূল নেতৃত্ব বেশ সন্তুষ্ট ছিলেন। নন্দীগ্রামে তাঁকেই প্রার্থী করা হচ্ছে, এই খবর রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায় রটনা বলে দাবি করলেও যা রটে তার কিছুটাও বটে।
বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে খুন হয়ে যেতে হয় ওসমান হাদিকে। তিনি ঢাকা ৮ আসনের প্রার্থী ছিলেন হত্যাকাণ্ডে তেতে...
Read more












Discussion about this post