বাংলাদেশের চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতা ও মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে একে একে পশ্চিমা দেশগুলি সরব হতে শুরু করেছে। সেই সঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রও পিছু হটতে শুরু করল বাংলাদেশ থেকে। এর ফলে যেমন আতঙ্কে বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস, তেমনই আতঙ্কে সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ জামান। তবে দুজনের আতঙ্ক আলাদা আলাদা। তবে দুজনেই পদ হারানোর ভয়ে কাঁটা। মুহাম্মদ ইউনূস বিগত তেরো মাসে তেরোটি বিদেশ সফর করেছেন। কিন্তু এর মধ্যে বেশিরভাগই তাঁর ব্যক্তিগত কারণে বিদেশ যাওয়া। যদিও তাঁর প্রেস উইং ফলাও করে প্রচার করে গিয়েছে প্রধান উপদেষ্টা বিদেশ থেকে বিপুল বিদেশী বিনিয়োগ আনছেন। কার্যক্ষেত্রে তা যে লবডঙ্কা ছিল, সেটা এখন আম বাংলাদেশিও বুঝে গিয়েছেন। কিন্তু মার্কিন সান্নিধ্য থাকায় পশ্চিমা দেশগুলি এতদিন চুপ করে ছিল মুহাম্মদ ইউনূসের বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, মবের রাজত্ব, সংখ্যালঘুদের উপর অত্যাচার এবং গণতন্ত্রের দৈনতা নিয়ে। কিন্তু এখন পরিস্থিতি পাল্টেছে, দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতি বদলেছে। তাই ইউরোপীয় দেশগুলি মুখ খুলতে শুরু করেছে।
যেমন এবার বাংলাদেশের রাজনৈতিক অস্থিরতা ও মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে খোদ ব্রিটিশ পার্লামেন্টে তীব্র নিন্দা ও সমালোচনা হল। জানা যাচ্ছে ব্রিটিশ পার্লামেন্টে ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপ, আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধকরণ, ব্রিটিশ এমপি টিউলিপের বিরুদ্ধে কথিত অভিযোগ-সহ নানা প্রসঙ্গ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। জানা যাচ্ছে ব্রিটিশ এমপিদের একটা বড় অংশ অভিযোগ করেন, ইউনূস সরকার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে দমন করতে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের অপব্যবহার করছে। বিশেষত গত মে মাসে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্তকে তাঁরা গণতন্ত্রের ওপর নজিরবিহীন আঘাত বলে আখ্যা দিয়েছেন। পাশাপাশি বাংলাদেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে দ্রুত নির্বাচনের আয়োজনের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছে ব্রিটিশ পার্লামেন্ট। ব্রিটেনের পররাষ্ট্র, কমনওয়েলথ ও উন্নয়ন দফতরের বিবৃতিতে বলা হয়, একটি স্থিতিশীল গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় সুষ্ঠু, অবাধ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন অত্যন্ত জরুরি। তবে এবার প্রথম নয়, এর আগেও একাধিকবার ব্রিটিশ এমপিরা বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারকে তুলোধনা করেছিলেন। এমনকি ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টারমারও মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে দেখা পর্যন্ত করেননি।
এখানেই শেষ নয়, বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশকে আরও এক গুরুতর রাজনৈতিক বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হল। সম্প্রতি ইউরোপে একটি টকশোতে জামায়াতে ইসলামের মুখপাত্র ব্যারিস্টার আবু বকর মোল্লা স্বীকার করেছেন,মুহাম্মদ ইউনূস বাংলাদেশে শেখ হাসিনার সরকারের পতনের জন্য বিদেশি লবিং ফার্ম ভাড়া করেছিলেন। জামাত নেতার এই মন্তব্য সামনে আসতেই গোটা বাংলাদেশজুড়ে হইচই পড়ে গিয়েছে। আন্তর্জাতিক রাজনীতির বিশ্লেষকদের মতে, শেখ হাসিনার সরকারের উন্নয়ন ও আন্তর্জাতিক সাফল্য কিছু মহলকে অস্বস্তিতে ফেলেছিল, আর সে কারণেই বিদেশি শক্তিকে ব্যবহার করে ষড়যন্ত্রের পথ বেছে নেওয়া হয়েছিল। উল্লেখ্য, ইউনূস এর আগে প্রকাশ্যে এমন কোনও ষড়যন্ত্রে তার জড়িত থাকার বিষয়টি সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছিলেন। কিন্তু এতদিন পর জামায়াতে ইসলামীর মুখপাত্রের সাম্প্রতিক এই বক্তব্যে ইউনূসের ‘মেটিক্যুলাস ডিজাইন’-এর পর্দা উন্মোচন হল। ওয়াকিবহাল মহলের দাবি, ধীরে ধীরে চাপ বাড়ছে ডঃ ইউনূসের উপর। এদিকে ভারতের সঙ্গে চিন ও রাশিয়ার চাপ। অন্যদিকে ব্রিটেন-ফ্রান্সের মতো দেশের চাপ। আর জেনারেল ওয়াকারের একমাত্র চাপ ভারত।












Discussion about this post