মঙ্গলবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ বা ডাকসু ও হল সংসদ নির্বাচনের ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। সকাল আটটা থেকে বিকেল চারটা পর্যন্ত হলের বাইরে আটটি কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ করা হবে বলে জানা যাচ্ছে। ডাকসু নির্বাচন নিয়ে উৎসাহ, উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে বিভিন্ন মহলে। শেখ হাসিনার আমলে একবার ডাকসু নির্বাচন হয়েছিল। সেই নির্বাচনে ১১ হাজারের মতো ভোট পেয়ে বিপি নির্বাচিত হয়েছিলেন নুরুল হক নূর। যিনি বর্তমানে অসুস্থ। ফের ডাকসু নির্বাচন হচ্ছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে। এদিকে বিভিন্ন মহলে আলোচনার ছড়াচ্ছে, সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ জামান ডাকসু নির্বাচন ভণ্ডুল করার চেষ্টা করছেন। তিনি ষড়যন্ত্র করছেন বলে বলছেন অনেকে। কিন্তু প্রশ্ন, যে সেনাপ্রধান সেনা সদস্যদের সেনানিবাস ছেড়ে দেশের রাস্তায় নামিয়েছেন আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করার জন্য, তিনি কেন এই ষড়যন্ত্র করবেন? এতে লাভটা কি তার?
জানা যাচ্ছে, অন্যবারের তুলনায় এবার ডাকসুতে ব্যালটের আকার বেড়েছে। এবার ডাকসুতে থাকছে পাঁচ পৃষ্ঠার ব্যালট। আর হল সংসদের থাকছে এক পৃষ্ঠার ব্যালট। এই ভোট দিতে হবে ওএমআর শিটে। এবার ডাকসুতে ২৮টি পদের বিপরীতে প্রার্থী হয়েছেন ৪৭১ জন। আর ১৮টি হল সংসদে নির্বাচন হবে ১৩টি করে পদে। হল সংসদের ২৩৪টি পদের বিপরীতে প্রার্থী হয়েছেন ১ হাজার ৩৫ জন। অর্থাৎ সব মিলিয়ে এবার ভোটারদের ৪১টি ভোট দিতে হবে। ডাকসু নির্বাচনের পর আগামী বছরের ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এই বিষয়ে জেনারেল ওয়াকার উজ জামান বলেছেন, সেনাবাহিনী তৈরি রয়েছে। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সাহায্য করবে সেনাবাহিনী। অর্থাৎ ডাকসু নির্বাচনও যাতে সুষ্ঠ এবং অবাধ হতে পারে, সেই বিষয়ে সহযোগিতা করবেন। এখানে প্রশ্ন উঠে যাচ্ছে, সেনাপ্রধান কেন ভণ্ডুল করার চেষ্টা করবেন? তিনি যখন নির্বাচনের দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছেন, তখন নির্বাচনে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি হলে তার ঘাড়েই দোষ যাবে, সেটা তিনি নিজেও জানেন। ফলে জেনে বুঝে কেন তিনি এটা করবেন?
এমনকি জেনারেল ওয়াকার উজ জামানকে ভারতপন্থী বলা হয়। এখানেও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, একটি দেশের সেনাপ্রধান প্রতিবেশী দেশের সেনাপ্রধানের সঙ্গে কেন যোগাযোগ রাখবেন না? অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ভারতের সঙ্গে লেনদেন বন্ধ করতে চাইলেও, তাদের সেটা চালিয়ে যেতে হচ্ছে। দেশের মানুষের স্বার্থে। তার কারণ, ভারতের উপর অনেকাংশে নির্ভরশীল বাংলাদেশ। ফলে শেখ হাসিনাকে সেফ এক্সিট দেওয়াতে সেনাপ্রধানকে কাঠগড়ায় তোলা, স্রেফ সন্দেহের বশে, সেটা একেবারেই কাম্য নয়। সেনাপ্রধান আগেই বলেছেন, দেশে সুষ্ট ও অবাধ নির্বাচন করিয়ে সেনাবাহিনী ব্যারাকে ফিরে যাবে। এমনকি সামান্য দেশের কোনও রাজনৈতিক মিছিল, বা বিক্ষোভ হলে পুলিসের সঙ্গে সেনাবাহিনী তা নিয়ন্ত্রণ করে। শুধু তাই নয়, অনেক সময় সেনাবাহিনী কোনও জোড়াল পদক্ষেপ করলে তাদের বিরুদ্ধে কথা বলেছেন বহু মানুষ। কিন্তু তাদের কর্তব্যে অবিচল সেনাবাহিনী। শুধুমাত্র গোপালগঞ্জে সেনা সদস্যদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। যদিও সেই নিয়ে বিবৃতি দিয়েছে ওয়াকারের বাহিনী। তবে ডাকসুর নির্বাচনকে কেন্দ্র করে যেভাবে পরিস্থিতি বা আলোচনা চলছে, তাতে কতটা সুষ্ঠভাবে হয়, সেটাই দেখার।












Discussion about this post