বাংলাদেশের গণমাধ্যম খবর করছে, শনিবার দিল্লিতে অনুষ্ঠিত হয়েছে এক আন্তর্জাতিক সেমিনার। সেখানে নাকি বাংলাদেশবিরোধী মিথ্যা প্রোপাগান্ডা ও বয়ান তুলে ধরা হয়েছে। মহম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বিরোদ্ধে নানা বিষয় এই সেমিনারে স্থান পেয়েছে। এই সেমিনারটি আয়োজন করেছিল, গ্লোবাল স্ট্যাটেজিক ডিফেন্স নিউজ। দিল্লি ভিত্তিক একটি থিঙ্ক ট্যাঙ্ক। সেমিনারে ভারতের সামরিক বাহিনীর পদস্থ কর্মকর্তা, বিভিন্ন থিঙ্ক ট্যাংকে কর্মরত সামরিক-বেসামরিক আমলাদের পাশাপাশি চারজন বাংলাদেশি রিসোর্স পারসনও অংশ নিয়েছেন। যা বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলে বলা হচ্ছে। সেমিনারে আমন্ত্রিত বাংলাদেশি রিসোর্স পারসনদের মধ্যে রয়েছেন সিনিয়র সাংবাদিক সৈয়দ বদরুল আহসান, লেখক এবং শিক্ষাবিদ ড. আবুল হাসনাত মিল্টন, মরক্কোতে নিযুক্ত বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ হারুন আল রশিদ এবং ব্যারিস্টার তানিয়া আমীর। তারা সবাই বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত। বাংলাদেশের বিভিন্ন গণমাধ্যম বলার চেস্টা করছে, ওই সেমিনারে যেমন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বিরুদ্ধে চক্রান্ত করা হয়েছে, ঠিক তেমনই ইউনূসকে বিদায় জানিয়ে শেখ হাসিনাকে ফেরানোর ছক কষা হচ্ছে। কিন্তু আসলে কি কারণে ওই সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে?
জানা যায়, আন্তর্জাতিক সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ভারতীয় সেনাবাহিনীর ইকুইপমেন্ট ম্যানেজমেন্টের অতিরিক্তি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মনোরাজ সিং মান। বিশেষ আলোচক হিসেবে থাকেন মেজর জেনারেল সুধাকর জী। সূত্রের খবর, ওই সেমিনারে আলোচিত হয়েছে ভারত বাংলাদেশের পরিবর্তিত সম্পর্ক নিয়ে।
গত বছর ৫ই অগাস্টের পর ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের যত দূরত্ব বেড়েছে, পাকিস্তানের সঙ্গে ততঘ বন্ধুত্ব বেড়েছে। যেটা ভারতের জন্য খুবই অস্বস্তিকর। কারণ পাকিস্তান পূর্ব দিয়ে অর্থাৎ বাংলাদেশের ভিতর দিয়ে ভারত আক্রমণ করতে পারে। বাংলাদেশের ভূমি ব্যবহার করে ভারতে বিশেষত ভারতের সেভেন সিস্টার্স বা চিকেন নেককে আক্রমণের ছক কষছে। এই বিষয়টি যেমন এই সেমিনারে ছিল, একইভাবে পরিবর্তিত সম্পর্ক কেমন হওয়া উচিত দুই দেশের মধ্যে, এই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। কিভাবে দুই দেশের সম্পর্কে স্থিতিশীলতা বজায় থাকে এবং সীমান্তবর্তী এলাকা সুরক্ষিত থাকে, তা নিয়েও আলোচনা হয়। শুধু তাই নয়, পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনীরের ঘন ঘন আমেরিকা সফর উদ্বিগ্ন করেছে ভারতকে। সেটা ঘিরেও আলোচনা হয়েছে। যদিও জানা যায়, বাংলাদেশের সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ জামান ও তাদের তিন বাহিনীর সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক অত্যন্ত ভালো। কিন্তু এর মধ্যে পাকিস্তানের ঢুকে পড়তে ভারত মোটেই ভালো চোখে দেখছে না।
এই সেমিনারে কনসেপ্ট নোটে ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীর চিফ অব ডিফেন্স স্টাফ অনীল চৌহানের একটি বক্তব্য তুলে ধরা হয়েছিল। যেটা খবর করেছে বাংলাদেশের গণ মাধ্যম। জেনারেল চৌহান এতে বলেছেন, চীন, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের অভিন্ন স্বার্থ আগামী দিনগুলিতে ভারতের স্থিতিশীলতা এবং নিরাপত্তাকে মারাত্মকভাবে প্রভাবিত করবে। ‘এবার আমরা পূর্ব থেকে শুরু করব’—পাকিস্তান আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদফতরের মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরীফ চৌধুরীর এই বক্তব্যকে উদ্ধৃত করে সেমিনারের কনসেপ্ট নোটে বলা হয়েছে, ভারতের বিরুদ্ধে পাকিস্তান তার পরবর্তী যুদ্ধ, যা বেশি দূরে নয়,সেটি বাংলাদেশ থেকে শুরু করবে। সুতরাং আগামী দিনের যুদ্ধে বাংলাদেশের ভূমিকা হবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অন্যদিকে প্রশ্ন উঠছে, যদি ভারতের সুরক্ষার বিষয়ে এবং সামরিক তৎপরতা নিয়ে যদি সেমিনার আয়োজিত হয়, তবে বাংলাদেশের চার রিসোর্স পার্সনদের কেন আমন্ত্রণ করা হয়েছিল? জানা যাচ্ছে, বাংলাদেশের এই মূহুর্তের কি পরিস্থিতি, পাশাপাশি তাদের চোখে বাংলাদেশ এখন কেমন, সেটা জানার জন্যই তারা আমন্ত্রিত ছিলেন। কিন্তু বাংলাদেশ যেভাবে ন্যারেটিভ সেট করার চেষ্টা চালাচ্ছে এই সেমিনারকে কেন্দ্র করে, সেটার সঙ্গে সহমত নয় আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা।












Discussion about this post