একে তো চন্দ্রগ্রহন, অন্যদিকে চাঁদের রঙ টকটকে লাল। আর এই দেখতে যাবতীয় কুসংস্কার দূরে ঠেলে শত শত মানুষ জুটেছিলেন ব্লাড মুন দখতে। কেউ নিজের বাড়ির ছাদে তো কোথাও আবার শিবির করে বহু মানুষ একসঙ্গে চন্দ্র গ্রহণ দেখলেন। সেই সঙ্গে চলল চা-বিস্কুট, মুড়িমাখা, তেলেভাজা-সহ দেদার আড্ডা। ফের একবার মহাজাগতিক দৃশ্যের সাক্ষী হয়ে রইল কোটি কোটি মানুষ। রবিবার অর্থাৎ সাতই সেপ্টেম্বর রাতের আকাশে দেখা গেল ব্লাড মুন। এই সময় মায়াবী চাঁদ তাঁর রূপ বদল করে ধারণ করল রক্তিম আভা। ২০২২ সালের পর এটাই দীর্ঘতম পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ বলে গণ্য করা হচ্ছে। রাত যখন এগারোটা সম্পূর্ণ চাঁদ ঢেকে গেল পৃথিবীর ছায়ায়। রাত এগারোটা থেকে বারোটা বাইস মিনিট পর্যন্ত চলল পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ। প্রায় ৮২ মিনিট ধরে স্থায়ী হল এই চন্দ্রগ্রহণ। এমন দৃশ্য দেখা যাওয়ার কারণ কি? যখন পৃথিবী সূর্য এবং চাঁদের ঠিক মাঝখানে চলে আসে তখনই হয় পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ। যখন সূর্য পৃথিবী একই সরলরেখায় চলে আসে তখন পৃথিবীর ছায়া চাঁদের ওপর পড়ে। কিন্তু এই সময় চাঁদকে লাল দেখায় কেন? বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পৃথিবী চাঁদকে ঢেকে দিলে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল যখন সূর্যের আলো গ্রহণ করে এবং তার মধ্যে দিয়ে যখন সেই রশ্মি প্রতিসরিত হয়। তখন সূর্যরশ্মির লাল অংশ কম পরিমাণে প্রতিসরিত হয় এবং তা চাঁদের উপরে গিয়ে পড়ে। অন্য দিকে, সূর্যরশ্মির নীল অংশটি চার দিকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে। তাই চাঁদকে গ্রহণের সময়ে গাঢ় কালচে লাল দেখা যায়। এই কারণেই পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণের সময় চাঁদকে ব্লাড মুন বলে। এবারও তাই হয়েছে।
কলকাতা-সহ ভারতের বিভিন্ন শহর থেকে এবার ‘ব্লাড মুন’ দেখা গেল। কলকাতায় শত শত উৎসাহী মানুষকে ‘চন্দ্রগ্রহণ’ দেখালো বিজ্ঞান মঞ্চ। মূলত সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচারের জেরেই এবারের চন্দ্রগ্রহণ দেখার আগ্রহ ছিল চরমে। কলকাতা ছাড়াও দিল্লি মুম্বই এবং পুনে থেকেও দেখা গিয়েছে গ্রহণ। এই বিরল মহাজাগতিক দৃশ্যের সাক্ষী হয়ে রইল কোটি কোটি মানুষ। চন্দ্রগ্রহণ নিয়ে এখনও সমাজে ছড়িয়ে আছে নানান ধরনের কুসংস্কার। এই অন্ধবিশ্বাস থেকে মানুষকে আলোর পথে নিয়ে আসার দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়েছে পশ্চিমবঙ্গ বিজ্ঞান মঞ্চ। পশ্চিমবঙ্গ বিজ্ঞান মঞ্চের কলকাতা জেলার কার্যকরী সভাপতি সঞ্জয় ঘোষ জানিয়েছেন, কলকাতার উত্তর থেকে দক্ষিণ একাধিক জায়গায় টেলিস্কোপের দ্বারা লাল চাঁদ দেখেছেন বহু মানুষ। পশ্চিমবঙ্গ বিজ্ঞান মঞ্চের পাশাপাশি কলকাতা জেলা প্রশাসন, একাধিক স্কুল এবং ক্লাব কর্তৃপক্ষের থেকে চন্দ্র দর্শনের আয়োজন করা হয়েছিল।
অনেকের ভাবনা চন্দ্রগ্রহণ বা সূর্য গ্রহণের সময় খাবার খাওয়া উচিত নয়। এমনকি অনেকে জল খাওয়াও অনুচিত হলে মনে করেন। এমনকি অনেকটাই দেখা দিয়েছে গ্রহের পর স্নান করার পরামর্শ দেন। এইবার এই সমস্ত রকমের কুসংস্কারে লিপ্ত ভ্রান্ত ধারণায় জল ঢেলে দিল পশ্চিমবঙ্গ বিজ্ঞান মঞ্চ। তাঁরা যেমন গ্রহণ দেখানোর ব্যবস্থাও করেছিলেন, তেমনই চা-জলখাবারের ব্যবস্থাও করেছিলেন উৎসাহী মানুষদের জন্য। ছোট ছোট শিশুরাও এসেছিল লাল রঙের চাঁদ দেখতে।
পশ্চিমবঙ্গ বিজ্ঞান মঞ্চ কুসংস্কারের বিরুদ্ধে যুক্তিবাদ বিজ্ঞানমনস্কতা প্রসার ও বিজ্ঞান চেতনা গঠনে ধারাবাহিক কাজ করে চলেছ, পাশাপাশি বলেন যে, চন্দ্রগ্রহণে গঙ্গা স্নান করার দরকার নেই, রান্না খাবারেও কোনও রকম বিষক্রিয়া হয় না খাবার ফেলে দিতে হয় না এগুলো প্রচলিত কুসংস্কার মধ্যে পরে খাবার খেয়ে এবং লিফলেট বিলি করে প্রচার চালাচ্ছে পশ্চিমবঙ্গ বিজ্ঞান মঞ্চ। এরপরে ভারত থেকে আবার ২০১৮ সালের ৩১ ডিসেম্বর পূর্ণ গ্রাস চন্দ্রগ্রহণ দেখা যাবে।












Discussion about this post