সোমবার ভোর থেকে চলছে কেন্দ্রীয় আর্থিক গোয়েন্দা শাখা ইডি-র তল্লাশি চলছে ঝাড়গ্রাম জেলার গোপীবল্লভপুরে। সূত্রের খবর, এক ব্যবসায়ীর বাড়ি থেকে লাখ লাখ টাকা নগদ উদ্ধার করেছে ইডি আধিকারিকরা। তবে টাকার অঙ্ক এখনও জানায়নি কেন্দ্রীয় সংস্থা। ঝাড়গ্রামের শেখ জাহিরুল আলি ওরফে জহরুর। ছিলেন সাইকেল সারানোর মিস্ত্রি। বর্তমানে তাঁর তিনতলা অট্টালিকা। এলাকাবাসীর দাবি, কার্যত উল্কার মতো উত্থান হয়েছে ঝাড়গ্রামের শেখ জাহিরুল আলির। জনান্তিকে তাঁকে বালি মাফিয়া বলেন এলাকাবাসী। সুবর্ণরেখা নদীতে থাকা প্রতিটি বালি খাদানে শেখ জাহিরুল আলি ওরফে জহরুর প্রভাব রয়েছে বলে দাবি গোপীবল্লভপুরবাসীর। রাতারাতি সাইকেল মিস্ত্রি থেকে ‘বালি-চক্র’-র বেতাজ বাদশা হয়ে উঠেছিলেন তিনি। এবার বালি পাচার মামলায় নজর দিতে গিয়ে ইডি আধিকারিকদের প্রথম নজর গিয়ে পড়ে এই ব্যবসায়ীর দিকে। সকাল থেকে চলছে তাঁর বাড়িতে তল্লাশি। একটি সূত্রে খবর, ১২ লক্ষ টাকার বেশি নগদ উদ্ধার হয়েছে এখনও পর্যন্ত, তবে টাকার অঙ্ক নিয়ে কোনও সরকারি দাবি আসেনি।
জানা যাচ্ছে, কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদের নিয়ে রবিবার মধ্যরাতেই কলকাতা থেকে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে রওনা দেন ইডি-র তদন্তকারীরা। একযোগে তল্লাশি শুরু হয়. ঝাড়গ্রাম-সহ উত্তর ২৪ পরগনা, নদিয়ার বেশ কয়েকটি জায়গাতেও। ইডি সার্চ-ওয়ারেন্ট নিয়েই আসেন তল্লাশি চালাতে। বালিপাচার মামলায় একসাথে চারটি জেলার ২২ টি জায়গায় হানা দিয়েছে ইডি। দীর্ঘদিন ধরে সুবর্ণরেখা নদীর বালি পাচারের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলে অভিযোগ করা হয় শেখ জাহিরুল শেখ। পাশাপাশি জহিরুলের নিজস্ব বালির খাদান রয়েছে বলেও জানা যায়। ইতিমধ্যে তাঁর বাড়ির সদস্যের ফোন ও ল্যাপটপ বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে বলে ইডি সূত্রে খবর। একাধিক ভুয়ো সংস্থার মাধ্যমে বেআইনিভাবে বালি পাচারের টাকা সরানো হয়েছে বলে ইডির দাবি। এই ব্যবসায়ের মাধ্যমেই সংস্থা খুলে টাকার লেনদেন চলছে বলেও দাবি ইডির।
পাশাপাশি ঝাড়গ্রামে বালি ব্যবসায়ীদের বালি খাদান থেকে যেসব ট্রাক নিয়ে আসা হয় সেই ট্রাক চালকদের বাড়িতে ও হানা দিয়েছে ইডি। নয়াগ্রাম থানার হাতে অমরজিৎ বেড়া এবং দুখিরাম বাগ নামে দুই ট্রাক চালককে অবৈধভাবে বালির পাচারের অভিযোগের গ্রেফতার করা হয়েছিল। কাঁথি এবং দুর্গাপুরেও ইডির টিম গিয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। কলকাতার সখেরবাজার এবং নদীয়ার কল্যাণীতে কয়েকজন ব্যবসায়ীর বাড়িতেও হানা দিয়েছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। অন্যদিকে, পশ্চিম মেদিনীপুরে সৌরভ রায় নামক এক ব্যবসায়ীর বাড়িতেও তল্লাশি চালাচ্ছে ইডি। এরা সকলেই বালির অবৈধ কারবারের সঙ্গে যুক্ত। পাশাপাশি কলকাতা রিজেন্ট পার্কে রাষ্ট্রত্ত্ব বিমা সংস্থার এক কর্মীর বাড়িতে হানা দিয়েছে ইডি। তাছাড়াও কলকাতার জেমস লং সরণিতেও তদন্তের জন্য গিয়েছে।সল্টলেক সেক্টর ফাইভ এর অরুণ শ্রফ- এর অফিসে চালানো হয়েছে তল্লাশি। এছাড়াও সল্টলেক টালিগঞ্জের বেশ কয়েকটি ঠিকানায় তল্লাশি চলছে বলে জানা গিয়েছে। বিরোধীদের দাবি, একজন সাইকেল মিস্ত্রী কোনও ভাবেই শাসকদলের প্রভাব ছাড়া এত বড় বালি সম্রাজ্য তৈরি করতে পারতো না। ফলে ইডির উচিৎ এই জাহিরুলের পিছনে কাদের মদত রয়েছে, বালির টাকা কাদের পকেটে গিয়েছে সেটাও ইডির খতিয়ে দেখা উচিৎ।
বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে খুন হয়ে যেতে হয় ওসমান হাদিকে। তিনি ঢাকা ৮ আসনের প্রার্থী ছিলেন হত্যাকাণ্ডে তেতে...
Read more












Discussion about this post