তমলুক লোকসভার অন্তগর্ত বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী, গত বিধানসভা নির্বাচনে তিনি হারিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। সামনেই বিধানসভা ভোট, তার আগেই নন্দীগ্রামে সমবায় নির্বাচনে ফের উড়লো গেরুয়া পতাকা। তৃণমূলকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে জয়ী হল বিজেপি। তাৎপর্যপূর্ণভাবে এই নির্বাচনে শাসকদল কংগ্রেসের সঙ্গে জোট বেঁধেছিল। তবুও তাঁরা দাঁত ফোটাতে পারলো না নন্দীগ্রামে। রবিবার নন্দীগ্রাম-২ নম্বর ব্লকে মঙ্গলচক নারায়ণচক চিরঞ্জীবপুর সমবায় কৃষি উন্নয়ন সমিতির নির্বাচন ছিল। সেই নির্বাচনেই তৃণমূলকে পেছনে ফেলে গেরুয়া আবির উড়িয়ে উচ্ছ্বাসে মেতে ওঠেন বিজেপির প্রার্থী-কর্মী সমর্থকেরা।
প্রশাসনের কড়া নিরাপত্তার মধ্যে দিয়ে, সকাল দশটায় ভোটগ্রহণ শুরু হয় এবং বিকেল ৩ তেটে পর্যন্ত চলে। শান্তিপূর্ণভাবেই নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। নির্বাচন শেষে ফলাফল ঘোষণা হওয়ার পর দেখা যায়, ৩৫ টি আসনে জয়ী হয়েছে বিজেপি প্রার্থীরা। ৭টি আসন দখল করেছে তৃণমূল ও কংগ্রেসের সমবায় ঐক্য মঞ্চ। বাম সমর্থিত প্রার্থীর আসন সংখ্যা শূন্য।
জয়ের পর গেরুয়া আবিরের রঙে রাঙিয়ে আনন্দ- উচ্ছ্বাসে মেতে ওঠেন বিজেপির কর্মী সমর্থকরা। পাড়ায় পাড়ায় চলে বিজয় মিছিল। বিলি করা হয় মিষ্টি। এদিন সমবায় নির্বাচনে জয়ের পরে, বিজেপির নন্দীগ্রাম-২ এবং ৪ নম্বর মণ্ডলের সভাপতি সৌমিত্র দে বলেন, ‘আমরা সমবায় নির্বাচনে বেশিরভাগ আসন আমরা দখল করেছি। আগামী বিধানসভা নির্বাচনে বাংলার অন্যান্য প্রান্ত- সহ নন্দীগ্রামেও বিপুল ভোটে জয়লাভ করে রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায় আসবে।
পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রামের ২ নম্বর ব্লকের মঙ্গলচক নারায়ণচক চিরঞ্জীবপুর সমবায়ের মোট আসন সংখ্যা ৪২, সবকটি আসনেই তৃণমূল ও বিজেপি প্রার্থী দিয়েছিল। সিপিএম ১২টি আসনে প্রার্থী দিয়েছিল।সমবায়ে মোট ভোটার সংখ্যা ছিল ১০০৫। জানা গিয়েছে এ দিন ৮৫ শতাংশ ভোট পড়েছে। কড়া নিরাপত্তার মধ্যে দিয়ে সকাল থেকেই শান্তিপূর্ণভাবেই নির্বাচন সম্পন্ন হয় এবং ভোট শেষে দেখা যায়, ৪২টি আসনের মধ্যে বিজেপি ৩৫টি আসন জিতেছে। আর তৃণমূলের দখলে এসেছে ৭টি আসন। তাঁরা কংগ্রেসের সঙ্গে জোট করেও জিততে পারলো না। এই বিষয়ে সাফাই গাইলেন স্থানীয় তৃণমূল নেতা সুকমল দে।
তৃণমূল নেতাদের দাবি, ‘ভোটের আগে থেকে প্রার্থী ও ভোটারদের ভয় দেখানো হয়েছে। এলাকায় সন্ত্রাসের কারণে এই ফল হয়েছে। আমাদের পাশে এলাকার মানুষ রয়েছেন। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে জয়ের মধ্যে দিয়ে তা প্রমাণ হয়ে যাবে। কিন্তু রাজনৈতিক ওয়াকিবহাল মহলের বক্তব্য, রাজ্যে শাসন ক্ষমতায় তৃণমূল। পুলিশ ও প্রশাসনও তাঁদের হাতে। তাও নন্দীগ্রামে বিজেপির জয়জয়কার। এখানে ভয় দেখানোর তত্ত্ব ধোপে টেকে না।
তবে এই ভোটের ফল নিয়ে বিজেপির বিরুদ্ধে তোপ দেগেছে তৃণমূল। শাসকদলের নেতা আবু তাহের বলেন, ‘‘ভোটারদের প্রভাবিত করেছে বিজেপি। তবে লড়াই হয়েছে হাড্ডাহাড্ডি ।
জয়লাভ করার জন্য বিজেপি রাতের অন্ধকারে ভোটারদের প্রভাবিত করেছে। আমরা বেশ কিছু আসনে ভালো ফল করব বলে আশাবাদী ছিলাম। হাড্ডাহাড্ডি লড়াইও করেছি আমরা। কিন্তু সেই আশানুরূপ ফল করতে পেলাম না।












Discussion about this post