কাদের সিদ্দিকী যিনি একজন বাংলাদেশী মুক্তিযোদ্ধা ও রাজনীতিবিদ। ১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি বাঘা সিদ্দিকী নামে পরিচিত ছিলেন। তাঁকে বীর উত্তম, বঙ্গ বীর উপাধিও দেওয়া হয়েছে। সেই বঙ্গ বীরের বাড়িই আক্রান্ত হল শনিবার মধ্যরাতে। তাঁর বাড়ি, ও গাড়ি ভাঙচুর করায় বাংলাদেশের রাজনীতি ফের উত্তাল হল। কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি কাদের সিদ্দিকীর বাড়ি টাঙ্গাইলের কবি নজরুল সরণিতে। সেখানে চারতলা ভবনের উপরে থাকেন বঙ্গ বীর কাদের সিদ্দিকী। ওই ভবনের দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলায় একটি কমিউনিটি সেন্টার রয়েছে। কাদের সিদ্দিকীর অভিযোগ, শনিবার রাত ১১টার পর ১০ থেকে ১৫ জন দুর্বৃত্তের একটি দল বাসায় ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু করে। এরপর মই দিয়ে বাড়ির গেট টপকে ভেতরে প্রবেশ করে দুটি গাড়ি ভাঙচুর করে, বেশ কয়েকটি জানলার কাঁচও ভেঙে দেয় দুষ্কৃতিরা। তাঁর দাবি, দুষ্কৃতিদের মধ্যে বেশিরভাগই ছিল নাবালক, প্রত্যেকের মাথায় হেলমেট ছিল।
রবিবার বেলার দিকে ওই শ্রমিক নেতা টাঙ্গাইল থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। সেখানকার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তানবীর আহমেদ জানিয়েছেন, পুলিশ বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে। অভিযোগে ১৫ থেকে ২০ জন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে। কোনেও আহত হওয়ার ঘটনা নেই। কিন্তু কাদের সিদ্দিকী এক সাংবাদিক সম্মেলনে দাবি করেন, তিনি হাসিনার সঙ্গে এক সময় দল করেছেন। কিন্তু তাও তাঁকে বহু আন্দোলন-সংগ্রাম করতে বাঁধা দেওয়া হয়েছে। আজ তাঁকে আওয়ামী লীগের দোসর বলে দেগে দেওয়া হচ্ছে।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক মহলের অভিমত, কাদের সিদ্দিকী আসলে বোঝাতে চেয়েছেন, এই মুহূর্তে বাংলাদেশে শেখ হাসিনার খেকেও বেশি স্বৈরাচারি শাসন চলছে। তাঁরা কোনও ভাবেই বাংলাদেশে আওয়ামী লীগকে ঢুকতে দিতে নারাজ। তাই যে বা যারা মুক্তিযুদ্ধ বা মুক্তিযোদ্ধাদের হয়ে কথা বলছেন, তাঁদের হয়ে সাওয়াল করছেন, তাঁদের হেনস্থা করা অথবা জেলে ঢোকানো হচ্ছে। যেমন বীর মুক্তিযোদ্ধা কাদের সিদ্দিকীর সঙ্গে ঘটছে। এর আগেও তাঁর গাড়ি ভাঙচুর হয়েছিল ঢাকায়। এবার টাঙ্গাইলে তাঁর বাড়ি ভাঙচুর হল। জানা যাচ্ছে, টাঙ্গাইল জেলার বাসাইল উপজেলায় কাদেরিয়া বাহিনী ও ছাত্র সমাজের ব্যানারে একইস্থানে দুটি আলাদা সমাবেশকে কেন্দ্র করে ১৪৪ ধারা জারি ছিল আগে থেকেই। রবিবার সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা পর্যন্ত এ আদেশ বলবৎ ছিল। প্রসঙ্গত, ৭১-এর মুক্তিযুদ্ধে কাদের সিদ্দিকীর নেতৃত্বে যে বাহিনী লড়াই করেছিল, তাঁদেরই কাদেরিয়া বাহিনী বলা হয়। কিন্তু মুহাম্মদ ইউনূসের রাজত্বে মুক্তিযোদ্ধাদের যেমন সম্মান নেই, তেমনই তাঁদের কোনও অধিকার নেই। এখানে ছাত্রদের রাজ, যারা এনসিপি-জামাতের দ্বারা পরিচালিত। কাদেরিয়া বাহিনীর মুক্তিযোদ্ধারা পরে তাঁদের সভা কাশিল ইউনিয়ন পরিষদের সামনে বাথুলীসাদীতে সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিল। কিন্তু বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও পুলিশ প্রশাসন কঠোর অবস্থানে থাকায় সেখানেও তারা যেতে পারেননি। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা ছিল, মুক্তিযুদ্ধে কাদেরিয়া বাহিনীর সর্বাধিনায়ক তথা কৃষক, শ্রমিক জনতালীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি বঙ্গবীর,বীর উত্তম কাদের সিদ্দিকী। এই আবহেই তাঁর বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটল। এর থেকে একটা বিষয় স্পষ্ট, মুহাম্মদ ইউনূসের বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস মুছে ফেলতে বধ্যপরিকর। কারণ, ২৪ ঘণ্টা অতিবাহিত হলেও কাওকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ।












Discussion about this post