বহু টালবাহানার পর অবশেষে বাতিল হওয়া ২০১৬ সালের এসএসসি নিয়োগ পরীক্ষা পুরনায় হল। রবিবার পরীক্ষা দিলেন বসলেন ৩ লক্ষ ১৯ হাজার ৯১৯ জন পরীক্ষার্থী। এরমধ্যে যোগ্য চাকরিহারা প্রার্থীরাও যেমন ছিলেন, তেমনই নতুন আবেদনকারীরাও ছিলেন। মোটামুটি বাঁধা-বিঘ্ন ছাড়াই হল এসএসসি নিয়োগ পরীক্ষার প্রথম দিন। তবুও থেকে যাচ্ছে সংশয়। ২০১৬ সালের নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে পুরো প্যানেল বাতিল হয়ে গিয়েছিল। চাকরিহারাদের দাবি ছিল, অযোগ্যদের তালিকা যখন প্রকাশ হয়ে গেছে তখন তারা কেন আবার চাকরির জন্য পরীক্ষা দেবেন? কিন্তু শেষমেষ সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে দীর্ঘ ন’বছর পর রাজ্যে শিক্ষক নিয়োগের পরীক্ষা হল। আর সেই পরীক্ষায় বসলেন ৩ লক্ষ ১৯ হাজার ৯১৯ জন পরীক্ষার্থী। শুধুমাত্র চাকরীহারা নয়, পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করলেন নতুন চাকরিপ্রার্থীরাও। তবে কোনও রকম বাঁধা-বিঘ্ন ছাড়াই হল স্কুল সার্ভিস কমিশনের নবম ও দশম শ্রেণীর পরীক্ষা। এই রাজ্য ছাড়াও ভিন রাজ্য থেকে এসেছিলেন বহু পরীক্ষার্থী। মোট ৬৩৬ টি পরীক্ষাকেন্দ্রে পরীক্ষা হয়।
রবিবার পরীক্ষা চলাকালীন যেন কোনও রকম অপ্রতিকর ঘটনা নাম ঘটে, সেই জন্য ত্রিস্তরীয় নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। পাশাপাশি এও জানা গিয়েছে চাকরিহারা প্রার্থীদের মধ্যে অনেকেই পরীক্ষা দিতে গিয়েছিলেন। ২০১৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার বাতিল প্যানেলের যোগ্য প্রার্থীদের হয়ে আন্দোলনের অন্যতম মুখ ছিলেন চিন্ময় মণ্ডল। রবিবার নতুন করে নিয়োগ পরীক্ষায় অন্যদের মতো তিনিও পরীক্ষায় বসলেন নৈহাটির একটি পরীক্ষাকেন্দ্রে। তাঁর বক্তব্য, এই পরীক্ষাটা আমাদের কাছে বিভীষিকাময় একটা ব্যাপার। আমরা যারা যোগ্য তারা নতুনদের সঙ্গে বসে পরীক্ষা দিচ্ছি এটা মন মেনে নেওয়া সম্ভব নয়। মানসিকভাবে অনেকটা পিছিয়ে যাচ্ছি। তবে তিনি এও বলেন, এবার যেন দুর্নীতির দায়ে নতুনদের ভুগতে না হয়।
চিন্ময়ের দাবি, সুপ্রিম কোর্টের রায় থাকলেও যে আমাদের চাকরি গিয়েছে দুর্নীতির কারণে এটা সকলকে মেনে নিতে হবে। এবারের পরীক্ষায় যে কড়াকড়ি হচ্ছে, তা যদি আগে হতো তাহলে আমাদের এই দশা হতো না।
অধিকাংশ যোগ্যো চাকরিপ্রার্থীদের দাবি, এটা সুপ্রিম কোর্টের রায় হলেও আমরা দুর্নীতি ও চক্রান্তের শিকার। তাই আমাদের আবার পরীক্ষা দিতে হচ্ছে। তাই এসএসসিকে এটাও খেয়াল রাথতে হবে, যোগ্যরা যেন বঞ্চিত না হয়। তাঁদের জন্য দশ নম্বর বরাদ্দ হলেও যেন ইন্টারভিউয়ে আরও সুবিধা দেওয়া হয়। সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, এবার পরীক্ষার প্রশ্নপত্র অনেকটাই সোজা হয়েছে। মূলত যোগ্য চাকরিহারাদের সুবিধা করে দিতেই এটা করা হয়েছে। যাতে ৯-১০ বছর বাদে আচমকা পরীক্ষা দিতে বসা শিক্ষকদের মান-সম্মান কিছুটা হলেও বাঁচে। কিন্তু একটা আশঙ্কাও থেকে যাচ্ছে, যদি এবারও কোনও দুর্নীতি বা অস্বচ্ছতার জেরে আবার নিয়োগ প্রক্রিয়া আটকে যায়। এখন দেখার, এসএসসি ও রাজ্য সরকার কতটা স্বচ্ছতার সঙ্গে এই নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারে।












Discussion about this post