২০২৪ সালে বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচনের পরপরই জুলাই মাসে চিন সফরে গিয়েছিলেন বাংলাদেশের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। কিন্তু কিন্তু তিনি সেই সফর সংক্ষিপ্ত রেখেই কিছুটা আগেই বাংলাদেশে ফিরে এসেছিলেন। জানা যায়, চিনে তাঁকে অপমান করা হয়েছিল, তাই তিনি একদিন আগেই বেজিং ত্যাগ করেন। এরপর সেই বছরই আগস্ট মাসে এক গণঅভ্যুত্থানের জেরে গদিচ্যুত হন শেখ হাসিনা। বাংলাদেশে ক্ষমতায় আসে মুহাম্মদ ইউনুসের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। এরপর থেকে চিনের পক্ষ থেকে বাংলাদেশের অন্যান্য রাজনৈতিক নেতৃত্বকে বারবার ডেকে নিজেদের দিকে ঝোল টানতে দেখা গিয়েছে। যাতে পরবর্তী নির্বাচনে যে দল বা যার নেতৃত্বেই সরকার গঠন হোক ন কেন চিন যাতে সুবিধাজনক জায়গায় থাকে। কিন্তু বিগত কয়েকমাসে পরিস্থিতি পাল্টাতে শুরু করেছে। দ্রুত বদলাচ্ছে দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতি। এখন জানা যাচ্ছে, এবার শেখ হাসিনার সঙ্গেও একদফা কথা হয়ে গিয়েছে চিনা প্রেসিডেন্ট শি জিংপিনের। আর সেটা হয়েছে ভারতের মধ্যস্থতায়।
রাজনীতি আর ভূ-রাজনীতি আলাদা বিষয়। রাজনীতি অনেক সময় ব্যক্তিস্বার্থে পরিচালিত হয়, আর ভূ-রাজনীতি দেশের স্বার্থে চলে। যেমন, হাসিনার ১৬ বছরের রাজত্বে তিনি ভারত ও চিনকে ব্যালেন্স করেই বাংলাদেশের বিদেশনীতি পরিচালিত করছিলেন। হাসিনার আমলে বাংলাদেশ যেমন ভারতের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক সবচেয়ে বেশি রাখতো, তেমনই সে দেশের বড় বড় অবকাঠামো নির্মান এবং প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম কেনার জন্য চিনের ওপর ভরসা রাখতেন। কিন্তু তিনি চিনের বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ বা বিআরআই বা কোনও চিনা ঋণের ফাঁদে পা দেননি। এটাই ছিল শেখ হাসিনার সাফল্য। যে কারণে তিনি বেজিংয়ের নেক নজরে ছিলেনও না। অপরদিকে হাসিনা আমেরিকার সেন্ট মার্টিন দ্বীপের প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে বাইডেন প্রশাসনের রক্তচক্ষুর সামনে পড়েছিলেন। এমনকি মার্কিন ডিপ স্টেটের ষড়যন্ত্রে তাঁর গদিও যায়। কিন্তু ওই যে বললাম, ভূ-রাজনীতি দেশের স্বার্থে চলে। চিন বাংলাদেশের জামাত, এনসিপি ও বিএনপি নেতাদের বারবার ডেকে নিয়ে গিয়ে অনেকগুলি বৈঠক করেছিল। কিন্তু ইউনূস আমেরিকার ধামা ধরে সেন্ট মার্টিন ও কক্সবাজারে মার্কিন ঘাঁটি তৈরির দিকে অনেকটাই এগিয়ে গিয়েছে বলে খবর। যা চিনের ক্ষেত্রে স্বার্থের সংঘাত হয়ে দাঁড়াচ্ছে। ফলে নয়া দিল্লির মতো বেজিংও এখন মুহাম্মদ ইউনূসের দিকে বিশেষ নজর রাখতে শুরু করেছে। এই আবহেই চিনের তিয়ানজিন শহরে অনুষ্ঠিত হল এসসিও সম্মেলন। সেখানে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আলাদা আলাদা বৈঠক করেন চিনা প্রেসিডেন্ট শি জিংপিন এবং রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লদিমির পুতিনের সঙ্গে। এতেই খেলা ঘুরে যায়। জানা যাচ্ছে, বাংলাদেশ ইস্যুতে একমত হয়েছেন তিন দেশের রাষ্ট্রপ্রধান। এবার জানা যাচ্ছে ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভালের মধ্যস্থতায় চিনা প্রেসিডেন্ট শি জিংপিন কথা বলেন বাংলাদেশের বিতাড়িত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে। তবে এটা এখনও সরকারিভাবে স্বীকার করেনি কোনও পক্ষই। তবে যদি এই কথা হয়ে থাকে, তাহলে মুহাম্মদ ইউনূসের দিন গোনা ছাড়া আর কোনও কাজ নেই।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post