আসন্ন দুর্গাপুজো। দুর্গাপুজোকে কেন্দ্র করে যাতে কোনও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি না হয়, সেই কারণে তৎপর বাংলাদেশের প্রশাসন। এমনকি পুজোর মধ্যে কেউ কোনও ঘটনা ঘটাতে পারে, সেই আশঙ্কা থেকে যথেষ্ট নজরদারি চলছে অন্তবর্তীকালীন সরকারের তরফে। কিন্তু সেই দুর্গাপুজোকে কেন্দ্র করে যে বয়ান দিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, তাতে সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। আসলে কি বললেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা? যা ঘিরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিন্দার ঝড় উঠে গিয়েছে? জানা যায়, পুজো মণ্ডপে কোনও মেলা বসতে দেওয়া হবে না বলে জানান স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা। আর এটাকে ঘিরে যে ব্যাখ্যা দিয়েছেন তিনি, তাতে সমালোচনা চলছে গোটা বাংলাদেশ জুড়ে। প্রশ্ন উঠছে, আসলে কি চাইছেন মৌলবাদী ইউনূস?
সোমবার সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে দুর্গাপুজো উপলক্ষে আয়োজিত এক প্রস্তুতি সভা শেষে সাংবাদিকদের এই তথ্য জানান স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা। অ্যাপ প্রসঙ্গে মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, পুজোমণ্ডপে কোনও ঘটনা ঘটলে এর মাধ্যমে সঙ্গে সঙ্গে তা পরীক্ষা করা যাবে। একই সঙ্গে প্রতিকারের ব্যবস্থা নেওয়া যাবে।
তিনি বলেন, এবার পুজোমণ্ডপের আশপাশে মেলা বসতে দেওয়া হবে না। তিনি বলেন, পুজোমণ্ডপের পাশে মেলা বসলে সেখানে গাঁজার আড্ডা বসে, মদের আড্ডা বসে। এবার কোনওভাবেই মেলা বসতে দেওয়া হবে না। তবে দু একটা দোকান থাকতে পারে। সেক্ষেত্রে অবশ্যই পুজো উদ্যাপন কমিটির অনুমতি নিয়ে দোকান স্থাপন করতে হবে।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, এবার যেখানেই পুজোমণ্ডপ বসানো হবে, সরকারের কাছে সেই তালিকা দিয়ে দিতে হবে। কারণ প্রত্যেকবারই পুজো উদ্যাপন কমিটি থেকে একটি তালিকা সরকারের কাছে দেওয়া হয়। আর সেই তালিকা ধরে আইনশৃঙ্খলার ব্যবস্থা নেওয়া হয়। তবে প্রতিবার দেখা যায়, তালিকার বাইরে পুজোমণ্ডপ বসে। ফলে বলা হয়েছে, পুজোমণ্ডপ যেখানেই করা হোক না কেন, সরকারকে সেই তালিকা দিতে হবে। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, কয়েকটি দুষ্কৃতী বা অসামাজিক লোকজন বিরুদ্ধ কাজ করবে, আর তার জন্য মেলা বসতে দেওয়া হবে না…এটা সরকারের কি ধরনের যুক্তি? কেন অতিরিক্ত নজরদারি চালানো হচ্ছে না প্রশাসনের তরফে? সরকার নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ। এটাই তবে প্রমাণ করে। বলছেন বিশেষজ্ঞরা। আর সরকারের ব্যর্থতা থেকে ধর্মীয় অনুষ্ঠানে বাধা দিচ্ছে সরকার। এমনিতেই দেশের সংখ্যালঘুদের উপর অত্যাচার চলেছে প্রবলভাবে। কখনও সরকার লাগাম টানতে ব্যর্থ হয়েছে, আবার কখনও দেখা গিয়েছে, সেভাবে পদক্ষেপ করেনি প্রশাসন। ফলে প্রশ্ন উঠে গিয়েছে, আদেও দুর্গাপুজো নির্বিঘ্নে কাটবে কি? নাকি উন্মুক্ত কিছু দুষ্কৃতী তাণ্ডব চালাতে পারে, ঠিক যেমনটা আশঙ্কা করছে সরকার?












Discussion about this post