টেট উত্তীর্ণদের বিক্ষোভের জেরে চাঞ্চল্যকর পরিস্থিতি তৈরি হল কলকাতায়। এবার নেপালের ইস্যুকে সামনে টেনে এনে স্লোগান দিল চাকরিপ্রার্থীরা। তাঁদের বলতে শোনা গেল “নেপাল থেকে শিক্ষা নিন, মুখ্যমন্ত্রী চাকরি দিন”। বৃহস্পতিবার দুপুরে টেট উত্তীর্ণদের বিক্ষোভ ঘিরে উত্তাল হয়ে ওঠে বিধানসভা চত্বর।
বৃহস্পতিবার ধর্মতলা মেট্রো স্টেশন থেকে বেরিয়েই বিধানসভার দিকে ছুটতে থাকেন ২০২২-র টেট উত্তীর্ণরা। পিছনে ছুটতে থাকে পুলিশ। ১৪৪ ধারাকে উপেক্ষা করে একের পর এক ব্যারিকেড টপকে বিধানসভার ২ নম্বর গেটের সামনে গিয়ে বসে পড়েন টেটউত্তীর্ণরা। এরপর বিক্ষোভ ছড়িয়েপড়ে ৩ নম্বর গেটে। এদিন বিধানসভা গেটের সামনে পৌঁছতেই পুলিশের সঙ্গে বেঁধে যায় ধস্তাধস্তি । পুলিশের পা ধরে কান্নায় ভেঙে পড়েন, কখনও কাকুতিমিনতি করতেও দেখা যায় বিক্ষোভকারীদের । সেই স্থান থেকে বিক্ষোভকারীদের সরাতে গেলে পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তি বেধে যায় ।তারপরেই তাঁদের টেনে হিঁচড়ে তোলাহয়প্রিজনভ্যানে । সেই বিক্ষোভের আঁচ আছড়েপড়তে দেখা যায়কালিন্দি মোড়ে ব্রাত্য বসুর বাড়ির সামনে। সেখানেও পুলিশ বাধা দেওয়ায় ছড়িয়েপড়েউত্তেজনা।
পুলিশেরসাথেবচসাএবংভ্যানেতোলার
এক বেসরকারি সংবাদ সংস্থা থেকে জানা গিয়েছে,
বিধানসভা অভিযানের পথে এক টেট উত্তীর্ণ বলেন, “বাধ্য হয়ে রাস্তায় নেমেছি। অবিলম্বে ৫০ হাজার শূন্যপদে প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ চাই। দীর্ঘ তিন বছর টেট পাস করে বসে আছি। মুখ্যমন্ত্রী কোনও পদক্ষেপ নেননি। বাধ্য হয়ে রাজপথে নেমেছি। আমরা বিধানসভায় যাচ্ছি। পুলিশ আটকালেও থামবে না। আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি দেখেছেন আপনারা। স্বজন-পোষণ, দুর্নীতি আর বেকারত্ব, এই রাজ্যে প্রাসঙ্গিক। অন্যদিকে বিক্ষোভকারী সুর চড়িয়ে বলেন, “এই যন্ত্রণা আর নিতে পারছি না। মুখ্যমন্ত্রীকে এটাই বলব, নেপাল দেখে শিক্ষা নিন। ৫০ হাজার নিয়োগ দিন। যুবসমাজ রেগে গেলে আপনি কিন্তু রাজ্যকে আর বাঁচাতে পারবেন না।”
বাইট: টেট উত্তীর্ণ বিক্ষোভকারীরা
ঘটনাকে কেন্দ্র করে নিশানাশানিয়েছেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতাশুভেন্দুঅধিকারী বলেন, “ওঁরা বিধানসভার গেটে গিয়েছিলেন। খুব খারাপ আচরণ করেছে। পুলিশ অত্যাচার করেছে। আমি এর নিন্দা করি এবং প্রতিবাদ করি। আমি বিধানসভায় থাকলে আমি ওঁদের সঙ্গে নিয়ে পুলিশের কাছে প্রতিবাদ করতাম।”
বাইট: বিরোধী দলনেতাশুভেন্দুঅধিকারী
এই প্রসঙ্গ উঠতে রাজ্যে শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু বলেন, “এটার কোনও মানে নেই। যেখানে পর্ষদ সভাপতি কিছুদিন আগে বলেছেন, খুব শীঘ্র যেখানে ভ্যাকেন্সি লিস্ট পর্ষদ ঘোষণা করতে যাচ্ছে…। আর এক-দু’দিনের মধ্যেই হয়ত এটা বেরোবে। এর পিছনে কী উদ্দেশ্য আছে আমি জানি না। পর্ষদ সভাপতি নিজে কয়েকদিন আগে এটা নিয়ে কথা বলেছেন। কিন্তু, ভ্যাকেন্সি কত আছে তা নির্দিষ্ট করে বলা হয়নি। খুব পরিষ্কার। ডিপিএসসি থেকে রিপোর্ট আসার জন্য অপেক্ষা করছি। ডিপিএসসি যেখানে এখনও রিপোর্ট দেয়নি, সেখানে ৫০-৫১ হাজার বলে খাইয়ে দেওয়া হচ্ছে এটার কোনও মানে নেই। আমি আবার পরীক্ষার্থীদের আশ্বস্ত করব আমাদের জেলা স্তরে ভ্যাকেন্সি নির্ণয়ের কাজ প্রায় শেষ। খুব শীঘ্র এটা নিয়ে বিজ্ঞপ্তি জারি হবে। এই ধরনের ২০২২-এর প্রাথমিকে যাঁরা আন্দোলন করছেন, এই আন্দোলনের এখন আর কোনও যৌক্তিকতা আছে বলে আমার অন্তত মনে হচ্ছে না।”












Discussion about this post