তাহলে কী বাংলাদেশ দ্বিতীয় পাকিস্তানে পরিণত হচ্ছে? প্রশ্ন ওঠার কারণ বা বলা ভালো প্রশ্ন তুলেছেন মাইকেল রুবিন। কে এই মাইকেল রুবিন।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ডানপন্থীদের অত্যন্ত প্রভাবশালী থিংক ট্যাংক আমেরিকান এন্টারপ্রাইজ ইন্সটিটিউট। বলা হচ্ছে, আমেরিকার অত্যন্ত পুরনো যে কটি থিংক ট্যাংক রয়েছে, তার মধ্যে এটি অত্যন্ত প্রাচীন। সেই আমেরিকান এন্টারপ্রাইজ ইন্সটিটিউটের একজন শীর্ষস্থানীয় রিসার্চ ফেলো হলেন মাইকেল রুবিন। তিনি ভারতের গণমাধ্যম ফার্স্টপোস্টে অচল বাংলাদেশকে নিয়ে একটি নিবন্ধ লিখেছেন। সেখানে তিনি উল্লেখ করেছেন হাসিনা ক্ষমতাচ্যূত হওয়ায় তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন যারপরনাই খুশি হয়েছিলেন। গত বছর জাতিসঙ্ঘে সাধারণ পরিষদের অধিবেশন চলাকালীন তিনি তদারকি সরকার প্রধান মহম্মদ ইউনূসের সঙ্গে দেখা করেন। বাংলাদেশের ছাত্র সমাজ যে প্রধানমন্ত্রীর মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ সংসদীয় পদে আসীনকে ক্ষমতাচ্যূত করতে পারে, সেই বাইডেন বিশ্বাস করতে পারছিলেন। না। তিনি ইউনূসের কাছে সেটা স্বীকার করে নেন। ইউনূসকে প্রাক্তন প্রেসিডেন্টের স্বগতোক্তি – ছাত্র সমাজ দেশের জন্য এই ধরনের আত্মত্যাগ করতে পারে! সেই সঙ্গে তিনি তদরকি সরকার প্রধানকে আশ্বাস দিয়েছিলেন সব ধরনের সহযোগিতার। পরে হোয়াইট হাউজ থেকে দুই শীর্ষকর্তার সাক্ষাৎ নিয়ে বিবৃতি দেওয়া হয়।
মাইকেল রুবিন তাঁর নিবন্ধ এই ঘটনার উল্লেখ করে ডোনাল্ড ট্রাম্প সতর্ক করে দিয়ে বলেন, তিনি যে ভুল করেও তাঁর পূর্বসূরীর পথ অনুসরণ না করেন। করলেই বিপদ। কেন তিনি ট্রাম্পকে সতর্ক করছেন, সেটাও সবিস্তারে তিনি তাঁর নিবন্ধে উল্লেখ করেছেন। মাইকেল রুবিন লিখেছেন,দ্বিতীয় দফায় ট্রাম্প মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট পদে আসীন হওয়ার পর তিনি পাকিস্তানের দিকে ঝুঁকে পড়েন, ভারতের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি করেন। এর সুযোগ নিয়েছে পাকিস্তান এবং ইউনূস। তারা যৌথভাবে বাংলাদেশকে সন্ত্রাসের আতুঁড়ঘর তৈরি করেছে। ড. মহম্মদ ইউনূসকে মাইকেল রুবিন ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লাহ আল খামেইনির সঙ্গে তুলনা করেছেন। আমেরিকান এন্টারপ্রাইজ ইন্সটিটিউটের শীর্ষ কর্তা ট্রাম্পকে সতর্ক করতে গিয়ে বলেন, প্রেসিডেন্ট পদে থাকাকালীন জো বাইডেন যে নীতিতে বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক রেখে চলেছিলেন, তিনি (ট্রাম্প) এবং তাঁর বিদেশ সচিব মার্কো রুবিওর উচিত হবে না সে পথে চলা। তাহলে বিপদ শুধু আমেরিকার নয়।
মাইকেল রুবিন তাঁর নিবন্ধে সুনির্দিষ্টভাবে বেশ কয়েকটি বিষয় উল্লেখ করেছেন। শুরু করেছেন হাসিনাকে এক কর্তৃত্ববাদী হিসেবে অভিহীত করেন। এই আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞ বলেছেন, বাংলাদেশ এত বড় গণআন্দোলন হওয়ার পিছনে বেশ কয়েকটি কারণ রয়েছে। হাসিনার সমালোচকদের মত, বঙ্গবন্ধুর কন্যা সরকারে থেকে তিনি তাঁর পরিবারকে সব সময় মহিমান্বিত করার চেষ্টা চালিয়ে গিয়েছেন। দুর্নীতি করেছেন। সরকারে ক্ষমতায় থেকে তাঁর পরিবার কীভাবে উপকৃত হয়, বিশেষ করে আর্থিক দিক থেকে সেই চেষ্টা করেছেন। বাংলাদেশের একাংশ মনে প্রাণে বিশ্বাস করে, ক্ষমতায় টিকে থাকতে হাসিনা এবং আওয়ামী লীগ বছরের পর বছর ধরে ভোটে কারচুপি করেছে। গণঅভ্যুত্থানের পিছনে এই সব কারণ রয়েছে। গণঅভ্যুত্থানের অন্য বড় কারণ কর্মসংস্থানের অভাব। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সদ্য সদ্য পাশ হওয়ার ছাত্র-ছাত্রীরা কাজ পাচ্ছিল না। অন্যদিকে, সরকারে যারা রয়েছে, তাদের ছেলে-মেয়েদের কাজের অভাব থাকলেও অর্থের অভাব হয়নি। বাংলাদেশের মানুষ যখন চরম অর্থসংকটে সেই সময় তারা দেদার হাতে টাকা খরচ করেছ। সব মিলিয়েই মানুষ হাসিনা সরকারের ওপর ক্ষিপ্ত ছিল।
কপাল বা ভাগ্য বলে একটি কথা আছে? অনেকে ধরে নিয়েছিল তারাই সরকার গঠন করবে। এমনকী জামাতও সেটাই বিশ্বাস করেছিল। কিন্তু...
Read more












Discussion about this post