বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বন। এর মধ্যে অনেক পার্বনই আছে যা গোটা দেশেই পালন করা হয়, তবে অন্য নামে। যেমন সনাতন হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের প্রধান উৎসবগুলির মধ্যে ভাইফোঁটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এক উত্সব। এই দিন বোনেরা তাদের ভাই বা দাদাদের কপালে চন্দন বা দইয়ের ফোঁটা দিয়ে তাঁদের দীর্ঘায়ুর জন্য হাত জোড় করে যমরাজের কাছে প্রার্থনা করে। এই উৎসবের পিছনে যেমন রয়েছে পৌরাণিক গল্প, তেমনই আছে এক সামাজিক গুরুত্ব। আসুন ভাইফোঁটা সম্পর্কে কয়েকটি বিষয় জেনে নেওয়া যাক।
একটা সময় ছিল তখন ভারতে যৌথ পরিবার ব্যবস্থা ছিল। যুগ যুগ ধরেই ভাই-দাদারা একসাথে এক বাড়িতে মিলেমিশে থাকতেন তাঁদের পরিবার নিয়ে। কিন্তু সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে আজ যৌখ পরিবারব্যবস্থা কার্যত ধুঁয়ে মুছে সাফ হয়ে গিয়েছে। কিন্তু সনাতন হিন্দু সংস্কৃতিতে ভাই-বোনদের একত্রে মিলেমিশে থাকার অজস্র উদাহরণ রয়েছে। সবচেয়ে বড় উদাহরণ জগন্নাথ-বলরাম-সুভদ্রা। আজও আমরা তিন ভাইবোনকে একসাথা রথে বসিয়ে রথযাত্রা উদযাপন করি। এটাই সৌভাতৃত্ববোধ। দীপাবলির ২ দিন পরে ভাইফোঁটা আসে। তিথি অনুযায়ী এটা হল কার্তিক মাসের শুক্লা দ্বিতীয়া তিথি। তাই ভাইফোঁটাকে অনেকে ভাতৃদ্বিতীয়া বলেন। তবে অধুনা বাংলাদেশের বরিশাল এলাকায় দ্বিতীয়ার আগে প্রতিপদ তিথিতেও ভাইফোঁটা করার নিয়ম রয়েছে। ভাইফোঁটায় যে মন্ত্র পড়ে থাকে বোন বা দিদিরা সেটা হল এরমক,
ভাইয়ের কপালে দিলাম ফোঁটা,
যমের দুয়ারে পড়ল কাঁটা।
যমুনা দেয় যমকে ফোঁটা,
আমি দেই আমার ভাইকে ফোঁটা।
আগ বাজে, শাখ বাজে, আরও বাজে কাড়া,
আজ হতে ভাই তুমি না যাইও যমপাড়া।
অর্থাৎ বোন বা দিদিরা যমের হাত বা মৃত্যুর হাত থেকে দাদা বা ভাইকে রক্ষা করতে তাঁদের কপালে চন্দন, কাজল ও দইয়ের ফোঁটা এঁকে দেয়। এর পিছনে এক চমৎকার পৌরাণিক গল্প রয়েছে।
হিন্দু শাস্ত্র অনুসারে, সূর্য দেবতা ও তাঁর স্ত্রী ছায়ার দুটি সন্তান ছিল – একটি পুত্র যমরাজ এবং অন্যটি কন্যা যমুনা। যমরাজের বোন যমুনা তাঁকে বারবার তাঁর বাড়িতে খাবারের জন্য ডাকতেন, কিন্তু যমরাজ তাঁর কাজে ব্যস্ত থাকায় যেতে পারতেন না। অবশেষে যমরাজ কার্তিক মাসের শুক্লাদ্বিতীয়ায় বোন যমুনার বাড়িতে যান। যমুনা তাঁকে নানান সুস্বাদু পদ রেঁধে খাওয়ান। এতে খুশি হয়ে যমরাজ তাঁর বোনকে বর দিতে চান। কিন্তু যমরাজের কাজ জীবের জীবন হরণ করা, এটাতে খুব দুঃখ পেতেন যমুনা। তাই তিনি দাদা যমরাজের কাছে এই বরই চান যে বোন বা দিদিরা এই দিনটি তাঁরা দাদা বা ভাইদের আদর আপ্যায়ন করে কপালে চন্দন বা দইয়ের তিলক এঁকে দেবে তাঁদের অকাল মৃত্যু হবে না। আবার এমনও শোনা যায়, কৃষ্ণের অগ্রজ বলরামের সঙ্গে যমুনার বিয়ে হয়। বিবাহের দিন ছিল কার্তিক মাসের শুক্ল পক্ষের দ্বিতীয়া তিথি। বিবাহের আগে ভাই যমের কপালে চন্দনের ফোঁটা দেয় সে। কথিত আছে শ্রীকৃষ্ণ সহোদরা সুভদ্রার হাতে ফোঁটা নেন এই কার্তিক মাসের শুক্লা দ্বিতীয়া তিথিতেই।
ভাইফোঁটায় বাঁহাতের কড়ে আঙ্গুল দিয়ে ফোঁটা দেওয়ার নিয়ম। উদার ভালোবাসা বা নারীত্বের প্রতীক হিসেবে এই আঙ্গুলকে মানা হয়। হিন্দু শাস্ত্র মতে মানুষের হাতের পাঁচটি আঙ্গুল হল পঞ্চভূতের প্রতীক। তাই বাঁহাতের কড়ে আঙ্গুলেই ভাইফোঁটা দেওয়ার নিয়ম। চন্দন, দই, মধু ও কাজল দিয়ে ফোঁটা দেওয়ার চল রয়েছে। এ বছর ২৩ অক্টোবর বৃহস্পতিবার ভাইফোঁটা। আর ফোঁটা দেওয়ার শুভ সময় হল দুপুর ১টা ১৩ মিনিট থেকে বেলা ৩টে ২৮ মিনিট পর্যন্ত।
সারজিস আলম নাসিরউদ্দিনরা বিএনপিকে হুমকি দিচ্ছে এক মাঘে শীত যায় না। তারা আবার আন্দোলোন করে বিএনপিকেও আওয়ামীলীগের মত দেশ ছাড়া...
Read more












Discussion about this post