শুধু বাংলাদেশে ঝটিকা মিছিলেই থেমে নেই শেখ হাসিনার দল আওয়ামী লীগ। কিংবা ইংল্যান্ড বা আমেরিকাতেই আটকে নেই। গোটা বিশ্ব জুড়ে ছড়িয়ে পড়ছে আওয়ামী লীগ। অনেকেই বলে থাকেন, যেখানেই আওয়ামী লীগ ঘাঁটি গাড়ে, সেখানেই নিজেদের দাপট বাড়ায়। এইবার শোনা যাচ্ছে, কলকাতার পর আওয়ামী লীগ দাপট বাড়িয়েছে আগরতলাতে। সেখানেই দলীয় কার্যালয় বানানো হয়েছে বলে খবর। কেউ কেউ বলছেন, ভাইরাসের মতো সমস্ত জায়গাতে ছড়িয়ে পড়ছে আওয়ামী লীগ।
গত বছর ৫ই অগাস্ট দেশ ছেড়েছিলেন পূর্বতন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তারপর থেকে তিনি ভারতের আশ্রয়ে রয়েছেন। তারপর থেকেই অনেকে বলছেন, শুধু শেখ হাসিনা নন, তার সঙ্গে বহু আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতা ভারতের আশ্রয়ে রয়েছে। তারা একত্রিত হয়ে জোট বাঁধছে। এবং বাংলাদেশে ফেরার পরিকল্পনা করছে। এদিকে বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ নির্বাচন এগিয়ে আসছে। কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়া আওয়ামী লীগের নেতা কর্মীরা ঝটিকা মিছিল করছে বাংলাদেশে। প্রথম দিকে মুখ বেঁধে মিছিল করলেও, এখন দেখা যাচ্ছে, অবাধে ঝটিকা মিছিল করছে তারা। এরমধ্যে গ্রেফতারিও বাড়ছে। কিন্তু রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যারা সত্যিকার আওয়ামী লীগের নেতা, কর্মী…..তারা অন্তরালে নিরাপদ জায়গায় রয়েছেন। কিন্তু যাদের গ্রেফতার করা হচ্ছে, তারা কেউই প্রকৃত আওয়ামী লীগ নেতা নন। এরমধ্যে মিয়ানমার সীমান্ত দিয়ে প্রচুর অস্ত্র ঢুকছে বাংলাদেশে। এখানেই অন্তবর্তী সরকারের তরফে বলা হচ্ছে, সেগুলি সবই আওয়ামী লীগ করছে। দেশের বাইরে থেকে দেশকে অশান্ত করার চেষ্টা করছে তারা। কিন্তু প্রশ্ন হল, বাংলাদেশে এই মুহূর্তে যে অরাজকতা সৃষ্টি হচ্ছে, তার দায় কি অন্তকবর্তীকালীন সরকার এড়িয়ে যেতে পারে? তার কারণ, তারাই দেশের ক্ষমতায়। দেশকে পরিচালনা করছে তারা। সরকারে থাকা অবস্থায় অবিলম্বে দেখা উচিত, সীমান্তবর্তী এলাকাগুলিতে কড়া নজরদারি বাড়ানো উচিত বলে বলছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। এছাড়াও প্রশ্ন উঠছে, শেখ হাসিনা সরকারের পরতনের পর ক্ষমতা হাতে নেওয়ার পর মুহাম্মদ ইউনূস সমস্ত জেলে থাকা আসামীদের ছেড়ে দিয়েছিলেন। তারা বাইরে বেরিয়ে নতুন করে ষড়যন্ত্র করছে না, কে গ্যারান্টি দিতে পারে? তবে এর দায়ও তো এড়িয়ে যেতে পারে না অন্তবর্তীকালীন সরকার।
এদিকে আগরতলাতে যে বলা হচ্ছে আওয়ামী লীগের অফিস, সেখানে নিজেদের শক্তি বৃদ্ধি করছে হাসিনার দল। তাতে বিশ্ব দরবারে আওয়ামী লীগের গ্রহণযোগ্যতা বাড়ছে, সেটা প্রমাণিত হচ্ছে। এমনকি যদি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে অংশগ্রহণ করতে না দেওয়া হয়, তবে নিন্দার ঝড় উঠবে বিশ্ব দরবারে। কারণ একটি রাজনৈতিক দলকে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে না দেওয়া দেশের গণতন্ত্রের বিপর্যয়। সেক্ষেত্র নোবেল জয়ী মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তবর্তীকালীন সরকার আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা করে, নির্বাচনের ক্ষেত্রে কি সিদ্ধান্ত নেয় সেটাই দেখার।












Discussion about this post