বাংলাদেশ এখন যে আর বাংলাদেশীদের হাতে নেই, সেটি সকলে বুঝতে পারলেও কিছু পাকিস্তান পন্থি মানুষ এটি মোটেই মানবেন না। কিন্তু তাদের দেশে আমেরিকার গুপ্তচর সংস্থা সিআইএ এজেন্ট টেরেন্স জাকসন সহ বেশ কিছু আমেরিকান নাগরিক যে একই দিনে মারা গেলেন, সেটি তো অস্থিকার করতে পারবেন না। আপনারা এটিও বলতে পারবেন না, তারা কি ভাবে মারা গেল। কারণ আপনাদের প্রশাসনের কোন ব্যক্তিকে তাদের ধারে কাছে যেতে দেওয়া হয়নি। এখানে যেমন আমেরিকান দুতাবাসের ক্ষমতা অনেক বেশী, তেমন আমেরিকান নাগরিক বা ব্যবসায়ীর ছদ্মবেশে আসা আমেরিকান গুপ্তচর টেরেন্স জাকসন সহ আইএসআই-এর এজেন্টকে যারা মারল, তারাও নিশ্চয় অন্য কোন দেশের গুপ্তচর সংস্থার ব্যক্তি। ভারত আমেরিকার বন্ধু বিশেষ করে মোদি এবং ট্রাম্পের সখ্যতা গোটা বিশ্ব জানে। তাই আমেরিকা যে মোদিকে হত্যার প্লান করবে এটা যেমন কেউ বিশ্বাস করবে না তেমন আবার, সমাজ মাধ্যমে ঘুরতে থাকা ঐ খবরটির সঙ্গে যুক্ত থাকা পাঁচটি দেশের পক্ষ থেকে কোন মন্তব্যও করা হয়নি। শুধু মাত্র ভারতের প্রধানমন্ত্রীর একটি ইঙ্গিত পূর্ণ মন্তব্য ছাড়া আর কিছুই পাওয়া যায়নি। তিনি জাপান এবং চাইনা থেকে ফিরে একটি সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে বলেন আমি জাপান এবং চিন সফর করে ফিরে এসেছি। তখন দর্শকআসনে থাকা সকল ব্যক্তিরা হাত তালিতে সভা ভরিয়ে তোলে। তখন ভারতের প্রধানমন্ত্রী বলেন আপনারা তালি দিচ্ছেন আমি গিয়েছিলাম বলে, নাকি ফিরে এসেছি বলে। এর আগে এই ধরণের বক্তব্য তিনি আর কোন সভায় দেননি, তাই সকলে এই নিয়ে নানা রকম যোগ সংযোগ খুঁজতে থাকেন। আর আগে এবং পরের ঘটনাগুলি নিয়ে বিশ্লেষন করলে দেখা যায় যে এই রকম কিছু একটা সন্দেহ করা হচ্ছে। কারণ এর পর তিনি আর কোন দেশে স্বশরীরে যাচ্ছেন না। ভার্চুয়ালি যোগ দিচ্ছেন। তবে ঘটনা যাই হোক রাশিয়া আর ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা যে আমেরিকা বিরাট কিছু একটা প্লানকে ভেস্তে দিয়েছেন তা বলার অপেক্ষা রাখে না। এবার আসা যাক আসল ঘটনাটিতে।
বাংলাদেশের মাটিতে রাশিয়া আমেরিকার যুদ্ধ, অনেকের কাছেই এটি শুনতে অবাক লাগতে পারে।অনেকে বলতে পারেন কোথায় বাংলাদেশ আর কোথায় রাশিয়া আমেরিকা। আর যুদ্ধ যুদ্ধ তো শুনেই আসছি, যুদ্ধ আর কোথায় হচ্ছে। অনেকে আবার বলবেন যুদ্ধ তো হবে ভারতের সঙ্গে, যেটা পাকিস্তান এবং বাংলাদেশ একসাথে করবে। তাদের বলি বাংলাদেশের মাটিতে রাশিয়া আমেরিকার যুদ্ধটি হয়ে গেছে। আর সেই যুদ্ধে আমেরিকা এবং রাশিয়া দুই দেশই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কিন্তু জয় হয়েছে চীন ভারত এবং রাশিয়ার। যখন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট সমস্ত প্রটোকল ভেঙে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর জন্য অপেক্ষা করা এবং তার নিজের গাড়ীতে ৪৫ মিনিট বসিয়ে রেখে গোপন আলোচনা করা নিয়ে, যারা মন্তব্য করেছিলেন যে এটি দু-জন দেশনায়কের ব্যক্তিগত রসায়ন। তারা তখন জানতেই পারেন নি যে কেন পুতিন ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে নিজের গাড়ীতে ৪৫ মিটিন বসিয়ে রেখেছিলেন, কারণ তিনি বুঝেছিলেন কিছু একটা হতে পারে, যা সারা পৃথিবীতে রাজনৈতিক এবং কূটনৈতিক দিশা এবং দশা বদলে দিতে পারে। তিনি জানতেন কারণ একসময়তিনিও ছিলেন রাশিয়ার গুপ্তচর সংস্থার গুরুত্বপূর্ণ সদস্য, পিটার হাস যখন নানা অছিলায় বার বার বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে বিভিন্ন বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠনগুলির সঙ্গে দেখা করছেন, তখনই তিনি বুঝে গিয়েছিলেন কোন বড় বিপদ ভারতের জন্য তৈরী হচ্ছে,আর তা বুঝে গিয়ে তিনি তার গুপ্তচর সংগঠন কেজিবিকে নির্দেশ দেন বাংলাদেশে তাদের সক্রিয় হতে। আর যখন টেরেন্স জ্যাক্সন গোপনে বাংলাদেশের একটি হোটেলে ওঠে এবং তার সঙ্গে আইএসআই এর এজেন্টরা দেখা করে তখনই কেজিবি বুঝে যায় কিছু একটা হতে চলেছে। কারণ এই টেরেন্স জ্যাক্সন কোন সাধারণ ব্যক্তি নন। তিনি ছিলেন আমেরিকার গুপ্তচর সংস্থা সিআইএ এজেন্ট, যিনি আমেরিকার ফাস্ট স্পেশাল ফোর্সের ইন্সপেক্টর জেনারেল এছাড়া তিনি সারা পৃথিবীতে আমেরিকার হয়ে অবৈধভাবে যুদ্ধ করে বিভিন্ন দেশের নির্বাচিত সরকারকে ফেলে দিয়েছেন, যিনি ২০ বছরের বেশী সময় ধরে আমেরিকার সেনাতে কাজ করেছেন।যিনি আমেরিকার জন্য বিভিন্ন গোপন মিশনের প্রধান মাথা ছিলেন। যাকে ট্রাক করে কেজিবি এবং তার সঙ্গে যুক্ত ঐ মিশনের সকলকেই খতম করে।যে যুদ্ধটি সকলের অজান্তে ঘটেছে, সেটির কারণ এবার একটু খুলে আলোচনা করা যাক। প্রথমে আসা যাক যুদ্ধটি কি এবং কেন? তার আগে বলে নেওয়া ভালো এই যুদ্ধে শুত্রুপক্ষের তীর ছিল একটি আর নিশানা ছিল তিন। ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে চীনের মাটিতে হত্যা করা। আর চীনে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর মৃত্যু হলে, সব দোষ গিয়ে পড়ত চীনের উপর। গোটা বিশ্ব চীনের দিকে আঙুল তুলত, আর এমনিতেই ভারত চীন দীর্ঘ দিনের শত্রু। ফলে সন্দেহ তো দুর, সবাই ধরেই নিত এটি চীনই করিয়েছে।বা ইচ্ছা করে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সুরক্ষা দেয়নি। ফলে চীন আর ভারত তাদের সম্পর্কে আবার নতুন করে সমস্যা দেখা দিত। যার লাভ ওঠাতো আমেরিকা। আর ভারতের প্রধানমন্ত্রীর কিছু হয়ে গেলে, রাশিয়ার সঙ্গে ভারতের যে সম্পর্ক বিশেষ করে মোদির সঙ্গে পুতিনের যে কেমিস্ট্রি। সেটি আর অন্য কোন নেতার দ্বারা গড়ে তোলা সম্ভব নয়। তার উপর ভারতের ভীতরেই অনেক নেতা বুদ্ধিজীবি লেখক থেকে শুরু করে অনেক ইন্টেলেকচ্যুয়াল ব্যক্তি রয়েছে, যারা বাইরে থেকে আমেরিকার বিরোধীতা করে, আর ভিতরে ভিতরে তারাই আমেরিকার সব চেয়ে বড় দালাল। যখন সমাজ মাধ্যমে এটা প্রচার করা হয় যে ট্রাম্পের হুমকির কাছে মাথা নত করে, পাকিস্তানের সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধ করেছিল ভারত। তখন ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে যারা সমালোচনা করত, তারা আজ আমেরিকাকে নিয়ে ভারতের অবস্থানের জন্য,ভারতের প্রধানমন্ত্রীর ভূমিকার বিন্দুমাত্র প্রশংসা করতে দ্বিধাবোধ করেন। ফলে আমেরিকা খুব সহজেই ভারতকে রাশিয়া থেকে দুরে রাখতে সক্ষম হত। অর্থাৎ ভারত হঠাৎ করে পুরোপুরি অস্থির হয়ে উঠত। হয়তো চীনের সঙ্গে যুদ্ধেও জড়িয়ে পড়ত। তবে চীন বেঁচে গেলেও, রাশিয়া বিপুল ক্ষতির হাত থেকে নিজেদের বাঁচাতে পারেনি। কারণ গুলশনের পাঁচতারকা হোটেল থেকে মার্কিন এজেন্টের দেহ উদ্ধার এবং একই সময়ে বাংলাদেশে আইএসআই এজেন্টের দেহ উদ্ধার হয়। সমাজ মাধ্যমে এও ছড়িয়ে পড়ে যে শুধু টেরেন্স আরভেল জ্যাক্সন ছাড়াও আর তিন মার্কিন নাগরিকের দেহ উদ্ধার হয়, এবং তাদেরও কোন ময়না তদন্ত বা অন্য কোন পরীক্ষা ছাড়াই দেশে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। এই ঘটনার কিছু দিনের মধ্যেই ঢাকার বিমান বন্দরে আগুন লাগে এবং যেখানে আগুন লাগে সেখানে ছিল রাশিয়া থেকে আসা রূপপুর পরমানু কেন্দ্রের জন্য বিশাল অর্থ্যের সামগ্রী। যা আগুনে পুড়ে নষ্ট হয়ে গেছে। ঐখানে উপস্থিত অনেক কর্মীরাই বলছে যে সেই আগুনকে নেভানোর কোন চেষ্টা করা হয়নি। অর্থাৎ জ্যাক্সন মারা গেলেও রাশিয়ার ক্ষতি করে গেছে।












Discussion about this post