যুক্তরাজ্যের শীর্ষ স্থানীয় আইনজীবীদের চেম্বারগুলোর একটি ডাউটি স্ট্রিট চেম্বার্স আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে গুরতর একটি অভিযোগ এনেছে। সেখানে বলা হয়েছে, যে বাংলাদেশে ইউনূস সরকারের আমলে অন্তত ৪০০ জন আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীকে হত্যা করা হয়েছে এখনও পর্যন্ত। এবং নির্বিচারভাবে গ্রেফতারের মাধ্যমে এদের বিরাট সংখ্যক আওয়ামী লীগ নেতা কর্মী এমনকি দূরতম সম্পর্কিত আওয়ামী সমর্থকদের বাংলাদেশে অবৈধভাবে কারাগারে আটকে রাখা হয়েছে। আন্তর্জাতিক আদালতে ১৫ ধারা অনুযায়ী দেওয়া এক চিঠিতে অভিযোগ পত্রে ডাউটি স্ট্রিট চেম্বার্সের আইনজীবী স্টিভেন পাওয়ার ট্রেসি সরাসরি আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে মনে করিয়ে দিয়েছেন এবং বিস্তারিত প্রতিবেদন উপস্থিত করেছেন এবং প্রমাণাধীন সমস্ত কিছু উপস্থাপিত করেছেন। ডাউটি স্ট্রিট চেম্বার্স ১৯৯০ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এবং প্রতিষ্ঠাতাদের মধ্যে একজন হলেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টারমার। জুন মাসে যখন মুহাম্মদ ইউনূস ব্রিটেন সফরে গেলেন, সেখানে তিনি বলেছিলেন, সেখানকার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করবেন। কিন্তু যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী দেখা করেননি। কেন দেখা করলেন না? তা ঘিরে প্রবল আলোচনা তৈরি হয়। তখন কানাঘুষো শোনা যায়, ডাউটি স্ট্রিট চেম্বার্স যেহেতু ইউনূস সরকারের ভয়াবহ মানবধিকার লঙ্ঘন, মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের বিষয়ে তদন্ত করছে, তারা যেহেতু আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে ১৫ ধরা অনুযায়ী অভিযোগ দায়ের করবে ইউনূস সরকারের বিরুদ্ধে, কাজেই কিয়ের স্টারমারের সময়ে মানবতা বিরোধী লঙ্ঘনকারী এমন একজনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে চান না। ডাউটি স্ট্রিট চেম্বার বিভিন্ন দেশে কাজ করছে, আন্তর্জাতিক অধিকার লঙ্ঘিত হলে, আন্তর্জাতিক অপরাধ হলে, তারা তার বিরুদ্ধে কাজ করছে। ইউনূসের আমলে যে ধরণের মানবতা বিরোধী অপরাধ ঘটছে, সেগুলি তারা ক্রাইম হিউম্যানিটি বলে আখ্যায়িত করছে। এবং যারা আন্তর্জাতিক আদালতের কাছে তদন্তের দাবি করেছে। ১৫ ধারা অনুযায়ী যে অভিযোগ পত্র জমা দিয়েছে ডাউটি স্ট্রিট চেম্বার, সেখানে তারা স্পষ্ট করে উল্লেখ করেছে যে, ২০২৪ এর জুলাইয়ে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে বিক্ষোভ শুরু হওয়ার পর যে ধরণের ভয়াবহ অপরাধ ঘটেছে আওয়ামী লীগের নেতা, নেতৃত্বের বিরুদ্ধে, সেগুলিকে নিশ্চিতভাবে এই আন্তর্জাতিক অপরাধ আওতাধীন।
এখনও পর্যন্ত ৪০০ জন আওয়ামী লীগ নেতা কর্মীকে হত্যা করা হয়েছে, এর মধ্যে অনেক হত্যার ঘটনা ঘটেছে, গণ পিটুনি এবং মব ভায়ালন্সের মাধ্যমে। এই ঘটনাগুলি ভয়াবহ, নৃশংস। ডাউটি স্ট্রিট চেম্বার্স তার নিজের ওয়েবসাইটেই লিখছে, এমন একটা প্যাটান তারা দেখতে পায়, যেখানে আওয়ামী লীগ কিংবা আওয়ামী লীগের সঙ্গে কোনওভাবে সংযুক্ত। এরকম কাউকে পাওয়া গেলে সন্দেহ করলে, তাকে যেকোনও ভাবে গ্রেফতার করে ফেলা সম্ভব। এবং এরপর কোনও রকম সুনির্দিষ্ট জামিন ছাড়া বা অভিযোগ ছাড়া এদের দিনের পর দিন আটকে রাখা যায়। এক্ষেত্রে তারা উল্লেখ করছে, যে রাজনীতিবিদ, সাংবাদিক, বিচারপতি বা আওয়ামী লীগের সঙ্গে সম্পর্কিত প্রত্যেকে এই ধরণের মামলায় অভিযুক্ত করা হচ্ছে। তারা লিখছে, যে এরই মধ্যে কাস্টডিতে ২০২৪ সালের জুলাই থেকে এখনও পর্যন্ত কারা হেফাজতে অন্তত ২৫ জন আওয়ালীগ নেতা কর্মী নিহত হয়েছেন। যাদের অনেকের ক্ষেত্রে বলা হয়েছে, যে এরা হার্ট অ্যাটাকে মারা গিয়েছে। কিন্তু তাদের শরীরে নির্যাতনের চিহ্ন পাওয়া গিয়েছে। ডাউটি স্ট্রিট চেম্বার কিন্তু তার অভিযোগের সংখ্যা সুনির্দিষ্ট প্রমাণ দিয়ে সংযুক্ত করে দিয়েছে। ফলে একদিকে যেমন চাপ বাড়ল আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের, ঠিক একইভাবে ইউনূস পরলেন মহা বিপদে। বলছেন বিশেষজ্ঞরা।












Discussion about this post