২৪ এই ঘটেছিল বাংলাদেশের পালা বদল। ছাত্র আন্দোলনের জেরে দেশ ছেড়ে ভারতের আশ্রয় এসেছিলেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তারপরে পদ্মা দিয়ে অনেক জল গড়িয়েছে বর্তমানে সে দেশের শাসনভার ‘শান্তিতে’ নোবেল জয়ী মুহাম্মদ ইউনূসের হাতে। ইউনূস রাজত্বে কেটে গেল এক বছরের অধিক। এখন যে ইউনূস ‘শান্তিতে’ নোবেল জিতেছেন আদৌ কি বাংলাদেশে সেই ইউনূসের হাতেই শান্তিতে থাকতে পারছেন সে দেশের জনগণ? প্রতিবেদন শুরু করার আগে নিউজ বর্তমান আপনাদের অর্থাৎ বাংলাদেশবাসীর কাছে প্রশ্ন রাখল। উত্তর ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ যাই হোক না কেন আমাদের কমেন্টে বক্সে কমেন্ট করে জানাতে ভুলবেন না।
বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগকে ভোটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে না-দেওয়ার ফলে পরিকল্পিত ভাবে বাংলাদেশের নির্বাচন বানচালের চেষ্টা করা হতে পারে! এই আশঙ্কায় প্রকাশ করে এমনটাই জানালেন সে দেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি আরো বলেন, নেপথ্যে হাত থাকতে পারে বিভিন্ন দেশীয় ও আন্তর্জাতিক শক্তির। বিশেষ করে ইউনূসের মূল টার্গেট ভারত ও আমেরিকার দিকেই। কারণ তিনি ভালভাবেই জানেন হাসিনার বন্ধু বরাবর ভারত ছিলেন আছেন থাকবেন তার সাথে সংযোজন হয়েছে আমেরিকা। তাই তিনি মূলত ভারত এবং আমেরিকার ভয়েই কাবু হয়ে রয়েছেন।বুধবার বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় নির্বাচনী প্রস্তুতি সংক্রান্ত উচ্চপর্যায়ের এক বৈঠকে গোপন আতঙ্কের কথা প্রকাশ বলেছেন ইউনূস। বাংলাদেশের ১৩তম সংসদ নির্বাচন নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করে তিনি বলেন, ”ছোট শক্তি নয়, বরং বড় কোনও শক্তি এ বারের নির্বাচন বানচাল করার চেষ্টা করতে পারে। আচমকা আক্রমণ নেমে আসতে পারে। এই নির্বাচন বেশ কঠিন হতে চলেছে। তবে তিনি যে হাসিনার শক্তির কাছে পরাজয় স্বীকার করেছেন তা ইউনূসের চোখ মুখ দেখলেই বোঝা যায়।ইউনূস আরও বলেন, দেশের ভিতর ও বাইরের নানা শক্তি নির্বাচন বানচাল করার চেষ্টা করবে। প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী হাসিনার দল আওয়ামী লীগকে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে না দেওয়ার কারণেই নেমে আসতে পারে এই আক্রমণ।বাংলাদেশের প্রেস সচিব শফিকুল আলম জানিয়েছেন, ইউনূস আরও দাবি করেছেন, ভোটের আগে সমাজমাধ্যমে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা যা এআই নামে পরিচিত-এর সাহায্যে তৈরি ছবি এবং ভিডিয়ো ব্যবহার করে অপপ্রচার চালানো হতে পারে। এ ধরনের জিনিস দেখলেই কড়া পদক্ষেপ করার কথাও জানিয়েছেন বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান মুহাম্মদ ইউনূস।
এই বৈঠকেই অনেক না জানার কথা উত্তর সহজেই জানিয়ে দিলেন ইউনূস। হাসিনা ভয় সাথে দোসর হয়েছে ভারত যুক্তরাষ্ট্রর শক্তি, তা যে তিনি আতঙ্কের মধ্যেই দিন কাটাচ্ছে তা স্পষ্ট হয়ে যায়। সম্ভবত আগামী ফেব্রুয়ারি মাসে বাংলাদেশে সাধারণ নির্বাচন হওয়ার কথা। তার আগে বুধবারই সংবাদ সংস্থা রয়টার্স-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারেই খেলা শুরু করে দিলেন হাসিনা।তিনি জানিয়েছেন, বাংলাদেশের পরবর্তী সাধারণ নির্বাচন বয়কট করবেন আওয়ামী লীগের সমর্থকেরা। আওয়ামী লীগকে বাংলাদেশে নিষিদ্ধ করা নিয়েও উষ্মাপ্রকাশ করেছেন হাসিনা। এ-ও জানিয়েছেন, আওয়ামী লীগের সমর্থকেরা যদি ভোট না-দেন, তা হলে লক্ষ লক্ষ মানুষ বাংলাদেশের নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় শামিল হবেন না। হাসিনার এই উক্তিতেই যত জল্পনা তৈরি হয়েছে বাংলাদেশজুড়ে। বাংলাদেশের আওয়ামী লীগের কর্মীরা বুকে আসার আলো জাগিয়ে তুলে আবার বড় বড় মিছিল রাজপথে আগামী দিনে যে বার করতে চলেছে তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। কিছু সমর্থক তো আবার প্রকাশ্যেই সংবাদমাধ্যমের কাছে জানিয়েছেন “হাসিনা আসছে বাংলাদেশ হাসছে।” যে দলের নেতৃত্বেই বাংলাদেশে সরকার প্রতিষ্ঠিত হোক না কেন, সেই সরকার আওয়ামী লীগকে স্বীকৃতি না-দিলে তিনি বাংলাদেশে ফিরবেন না বলেও জানিয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ঘটনাচক্রে, সেই একই দিনে প্রতিক্রিয়া জানালেন ইউনূসও। এখানেই খেলা জমে উঠেছে বলছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক মহল।এদিকে সম্প্রতি রয়টার্স, এএফপি ও দ্য ইন্ডিপেনডেন্টকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে হাসিনা বললেন, ‘দিল্লিতে আমি স্বাধীন ভাবে আছি। তবে নিশ্চিত ভাবে নিজের দেশে ফিরে যেতে চাই। তবে আওয়ামি লিগকে বাদ দিয়ে যদি কোনও নির্বাচন হয় এবং সরকার গঠিত হয়, তাহলে সেই অসাংবিধানিক সরকারের সময়ে বাংলাদেশে ফিরব না। তাঁর এই একটি বক্তব্যেই ঝড় উঠেছে বাংলাদেশে। তিনি আরো জানান আওয়ামী লিগের উপরে নিষেধাজ্ঞা শুধু অনৈতিক নয়, বরং এটি আত্ম-পরাজয়ও বটে।’ হাসিনা বলেন, ‘আগামী সরকারের নির্বাচনী বৈধতা থাকতে হবে। লক্ষ লক্ষ মানুষ আওয়ামী লিগকে সমর্থন করে, তাই তারা ভোট দেবেন না। রাজনৈতিক সিস্টেম চালানোর জন্য লক্ষ লক্ষ মানুষকে বাদ দিতে পারেন না। আমরা আওয়ামী লিগের ভোটারদের অন্য কোনও দলকে সমর্থন করতে বলছি না। আমরা এখনও আশা রাখছি যে শুভবুদ্ধির উদয় হবে এবং আমাদের নির্বাচনে অংশ নিতে দেওয়া হবে।’হাসিনার বক্তব্যের পরেই পাল্টা ইউনূসের বক্তব্য এবং হাসিনা সহ বিদেশি শক্তির কথা বলে তিনি যে তাঁর প্রবল ভয়ের বহিঃপ্রকাশ ঘটালেন তা আর বলে দেওয়ার অপেক্ষা রাখে না।












Discussion about this post