বাংলাদেশের বর্তমান অবস্থা অনেকটা জগাখিচুড়ির মতো। চরম নৈরাজ্য বললে কম বলা হবে। আইন-শৃঙ্খলার চূড়ান্ত অবনতি। দেশের অর্থ ব্যবস্থা তলানিতে চলে গিয়েছে। এই অবস্থায় তদারকি সরকার প্রধান মুহম্মদ ইউনূস জানিয়ে দিয়েছেন ফেব্রুয়ারিতে হবে জাতীয় সংসদ নির্বাচন। যদিও এই নির্বাচন নিয়েও তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। কোনও কোনও প্রান্ত থেকে বলা হচ্ছে, নির্বাচন বানচাল করে দিতে চাইছে একটি স্বার্থাণ্বেষী গোষ্ঠী। তাঁদের উদ্দেশ্য, দেশ এখন যেভাবে চলছে, সে ভাবেই চলুক। তদারকি সরকার প্রধানের দায়িত্ব রয়েছেন ইউনূস। তাঁকে ওই পদে রেখে তারা নিজেদের আখের গুছিয়ে নেওয়ার কাজ চালিয়ে যেতে চাইছে।
অপরদিকে, বাহিনীর বেশ কয়েকজন অবসরপ্রাপ্ত সেনাকর্মকর্তা এবং কর্মরত সেনাকর্মকর্তাদের মানবতাবিরোধী কাজে লিপ্ত থাকার অভিযোগে তাদের বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের কাঠগড়ায় তোলা হয়েছে। এই নিয়ে বাহিনীর মধ্যে চরম অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। সেনাপ্রধান ওয়াকার বেশ চাপে পড়ে গিয়েছেন। নানা ইস্যুতে বাংলাদেশ সংকটে। এই পরিস্থিতিতে জুলাই সনদ পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলেছে। বলা ভালো জুলাই সনদের বাস্তবায়নের আদেশকে কেন্দ্র করে তৈরি হয়েছে এই জটিলতা।
এই জুলাই সনদ নিয়ে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন যে সব সুপারিশ দিয়েছে সেই সুপারিশে বিএনপিসহ একাধিক দল অসন্তোষ প্রকাশ করেছে। এনসিপি জানিয়ে দিয়েছে, জুলাই সনদ স্বাক্ষরের নামে প্রতারণা করা হয়েছে। শনিবার দলের যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার একটি অনুষ্ঠানে ভাষণ দিতে গিয়ে এই মন্তব্য করেন। তিনি বলেন,‘বাস্তবায়ন পদ্ধতি নিশ্চিত করার আগেই জুলাই সনদ সাক্ষরের নামে দেশবাসীর প্রতারণা করা হয়েছে। দলের তরফ থেক জাতীয় ঐকমত্য কমিশনকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল জুলাই সনদ কীভাবে বাস্তবায়িত হবে, সেই পদ্ধতির বিষয়ে সরকার থেকে কোনও কিছু ঘোষণা না করা পর্যন্ত আমরা সই করব না। ’ ঘুরিয়ে বিএনপিকে খোঁচাও দিয়েছেন সারোয়ার তুষার। তিনি বলেন, একটি বড় রাজনৈতিকদল জুলাই সনদ নিয়ে না ভোটের জন্য প্রচার করছে। তাদের ৩০ শতাংশ ভোট না ভোটের পক্ষে গেলেও বাকি ভোট পড়বে এই সনদের পক্ষে। তখন তারা আয়নায় নিজেদের মুখ দেখাতে পারবে না।
এদিকে, গত ২৮ অক্টোবর জুলাই সনদ কীভাবে কার্যকর করা যায়, তার একটি পন্থাপদ্ধতি বা সুপারিশ সরকারের কাছে জমা দিয়েছে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন। সুপারিশে গণভোটের উল্লেখ করা হয়েছে। তবে গণভোট ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচনের দিন হবে নাকি, তার আগে, সে ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব সরকারের ওপর ছেড়ে দিয়েছে কমিশন। সুপারিশে দুটি বিকল্প প্রস্তাবের কথা বলা হয়েছে। দুটি প্রস্তাবের মূল বিষয় একটাই। সরকার জুলাই সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ জারি করবে ; সাধারণ নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন সংসদ গঠিত হবে ; এবং সংসদ সংবিধান সংস্কার পরিষদ হিসেবে কাজ করবে। যার সাংবিধানিক বিষয়ে মূল ক্ষমতা প্রয়োগের অধিকার থাকবে। যদিও বিএনপি-য়ের তরফে বলা হয়েছে, জুলাই সনদ নিয়ে দলের তরফ থেকে দেওয়া সংশোধনী কার্যকর করতে হবে। আর জামায়াতের দাবি, জুলাই সনদ দ্রুত কার্যকর করতে হবে। এনসিপি আবার সনদে সই করেনি। এই সব পরিস্থিতি বাংলাদেশের আসন্ন নির্বাচনকে প্রশ্নের মুখে ফেলে দিয়েছে। ইউনূসের ইচ্ছা উৎসবের পরিবেশে ভোট হোক। কিন্তু জুলাই সনদ নিয়ে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন এবং সরাকের মধ্যে যে ঠাণ্ডা লড়াই শুরু হয়েছে, তাতে নির্বাচন আদৌ হবে কি না, সেটাই লাখ টাকার প্রশ্ন।












Discussion about this post