পাকিস্তান সেনার দ্বিতীয় সর্বোচ্চ কর্তা চেয়ারম্যান অব দ্য জয়েন্ট চিফ অব স্টাফ কমিটি (সিজেসিএসসি) জেনারেল শাহির সামসাদ মির্জা তাঁর বাহিনীর সদস্যদের নিয়ে সম্প্রতি বাংলাদেশ যান। তখন থেকে একটা প্রশ্ন ঘুরতে শুরু করে – কী এমন হল যে কারণে জেনারেল মির্জা বাংলাদেশ গেলেন? তাঁরা তদারকি সরকার প্রধান মুহম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠক করেন সে দেশের সেনার পদস্থকর্তাদের সঙ্গে। ঢাকার তরফ থেকে এই সফর নিয়ে একটি বিবৃতি দেওয়া হয়েছে। বিবৃতি বাঁধা গতে দেওয়া। এই সফরের উদ্দেশ্য কী ছিল, সেটা এখন পরিষ্কার হয়ে যাচ্ছে।
যদিও তার ক্ষেত্র প্রস্তুতের কাজ অনেকদিন ধরে চলছিল। হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকে পাকিস্তান এবং সেই দেশের গুপ্তচর সংস্থার তৎপরতা বাড়তে শুরু করে। গত ১৫ মাসে সামরিক কর্তাদের পাশাপাশি বেসামরিক কর্তারা ঘন ঘন আসতে শুরু করেন। দুই দেশের মধ্যে অন অ্যারাইভ্যাল ভিসা চালু হয়ে যায়। পাকিস্তানের মন্ত্রীরা ঘন ঘন বাংলাদেশ আসতে শুরু করেন। এই সফর নিয়ে আগেও একটি প্রতিবেদন লেখা হয়েছিল, যেখানে এই প্রশ্ন তোলা হয় যে এদের আসার কারণ কি বাংলাদেশের সুস্বাদু ইলিশ খাওয়া? কিংবা মন ভালো করতে সে দেশে যাওয়া? দুটো প্রশ্নের উত্তর ‘না’। সফরের মূল উদ্দেশ্য বাংলাদেশের মাটি ব্যবহার করে ভারতের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপ সংঘটিত করা। কেন বাংলাদেশকে তারা বেছে নিয়েছে, তারও কয়েকটি কারণ রয়েছে। আফগানিস্তানের সঙ্গে পাকিস্তানের সম্পর্ক নিম তিতোর মতো তিত। সেখানে আইএসআই ঢোকার সামান্য চেষ্টা করলে তালিবানরা তাদের পিটিয়ে মেরুদণ্ড গুঁড়িয়ে দেবে। নেপাল এমনিতেই ছোট একটি রাষ্ট্র। তা ছাড়া ধর্মের একটা বিষয় আছে। তাই নেপাল তাদের কাছে অচ্ছ্যূত একটি রাষ্ট্র। শ্রীলঙ্কায় গিয়ে লাভ হবে না। কারণ, সে দেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক বেশ হার্দিক। আর চিন যাওয়ার তো প্রশ্নই ওঠে না। রইল বাকি বাংলাদেশ। এই মুহূর্তে ঢাকার সঙ্গে সাউথব্লকের সম্পর্ক রীতিমতো তিক্ত। আইএসআই এই সুযোগটা কাজে লাগাতে চাইছে।
ভারতের গোয়েন্দা সূত্র উদ্ধৃত করে একটি গণমাধ্যম এই খবর প্রকাশ করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাক সেনাকর্তা জেনারেল মির্জার সঙ্গে বাংলাদেশ গিয়েছিলেন আইএসআইয়ের সিনিয়র কয়েকজন অফিসার। বাংলাদেশর তদারকি সরকার প্রধান ইউনূস ছাড়াও তাঁরা বৈঠক করেন বাংলাদেশে জাতীয় নিরাপত্তার কয়েকজন শীর্ষকর্তা এবং ডাইরেক্টর জেনারেল অব ফোর্সেস ইন্টেলিজ্যান্সের পদস্থকর্তাদের সঙ্গে। সূত্রে পাওয়া খবর উদ্ধৃত করে ভারতের একটি গণমাধ্যম জানিয়েছে, বাংলাদেশ এবং পাকিস্তান উভয়েই প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেবে। পাকিস্তানের তরফ থেকে জানিয়ে দেওয়া হয়, ঢাকায় সে দেশের দূতাবাসে তারা আইএসআই –য়ের একটি শাখা প্রতিষ্ঠা খুলতে চায়। পাকিস্তানের প্রস্তাবে সায় দিয়েছে বাংলাদেশ। একজন ব্রিগেডিয়ার জেনারেলের নেতৃত্বে সেখানে থাকবেন একাধিক গোয়েন্দা কর্মকর্তা। সূত্রের খবর, দুই দেশ সিদ্ধান্ত নিয়েছে তারা বঙ্গোপসাগর এবং ভারতের পূর্ব সীমান্তে বরাবর আকাশ সীমা পর্যবেক্ষণ করবে। এই ব্যাপারে তাদের মধ্যে একটি চুক্তি সই হয়েছে। বাংলাদেশ সেনা পাকিস্তানের হাতে তুলে দেবে জেএফ সেভেন্টিন থাণ্ডার যুদ্ধবিমান এবং ফাতা সিরিজ রকেট সিস্টেম তুলে দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে।
বাংলাদেশে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ভারত এমনিতে উদ্বিগ্ন ছিল। সেই উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে দিল পাকিস্তান সেনার এই পদক্ষেপ। সাউথব্লকের পরবর্তী কূটনৈতিক কৌশল কী হয় সেটাই দেখার।












Discussion about this post